সরকারি ভূমি দখল করলে ফৌজদারি আইনে শাস্তি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:৩৪, আগস্ট ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:০৯, আগস্ট ২৩, ২০১৯

ভূমি মন্ত্রণালয়ফৌজদারি আইনে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে সরকারি ভূমি দখল ও পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত ১৯৭০ সালের আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। আগামী দুই মাসের মধ্যে ‘সরকারি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমি ও স্থাপনা (দখল পুনরুদ্ধার) আইন, ২০১৯’ খসড়াটি চূড়ান্ত হবে। খসড়া চূড়ান্ত হলেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। 

ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইন) আনিস মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘প্রস্তাবিত আইনে সরকারি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমি ও স্থাপনা অবৈধভাবে দখল করলে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকার জরিমানার বিধান করা হয়েছে। মামলার বিচার কাজ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। মোবাইল কোর্টে মামলা পরিচালনা ও নিষ্পত্তি করা যাবে। বিদ্যমান ‘গভর্নমেন্ট অ্যান্ড লোকাল অথরিটিজ (ল্যান্ড অ্যান্ড বিল্ডিংস) পজিশনস, ১৯৭০ আইনে’ এক হাজার রুপি জরিমানার বিধান রয়েছে।’’

খসড়ায় বলা হয়, কোনও দেওয়ানি আদালত এই আইনের আওতায় জেলা প্রশাসককে ভূমি বা স্থাপনা দখল নিতে বাধা দিতে এবং অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে না।

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান আইনে সরকারি ভূমি ও স্থাপনা দখলের ক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু, বিচার বিভাগ আলাদা হওয়ার পর ফৌজদারি অপরাধ আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের। সে কারণে বিদ্যমান আইনে সরকারি ভূমি দখল ও পুনরুদ্ধারে অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এসব কারণে আইনটি যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেয় ভূমি মন্ত্রণালয়।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমি বা স্থাপনা অবৈধভাবে দখল করলে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে পারবেন। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ হলে তিনি দুই বছরের কারাদণ্ডে বা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। মামলার বিচার কাজ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে এবং মামলা মোবাইল কোর্টে পরিচালনা ও নিষ্পত্তি করা যাবে।

খসড়ায় বলা হয়, অবৈধ দখলের কারণে ভূমি বা স্থাপনার কোনও ক্ষতি হলে জেলা প্রশাসন বিধি মোতাবেক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে পারবে, যা ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

প্রস্তাবিত আইনে আরও বলা আছে, কোনও ব্যক্তি সরকারি ভূমি বা স্থাপনা ইজারা নিয়ে থাকলে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভূমি বা স্থাপনার দখল ছেড়ে দিতে হবে। অন্যথায় জেলা প্রশাসক দখলকারীকে ৩০ দিনের মধ্যে দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ দেবেন। এ অবস্থায় দখল না ছাড়লে জেলা প্রশাসক স্থাপনা বা ভূমি থেকে অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করতে পারবেন। কোনও ব্যক্তি অবৈধভাবে সরকারি জমি বা স্থাপনা দখল করলেও একই পদ্ধতিতে দখলদারকে উচ্ছেদ করা যাবে।

/এসএমএ/এনআই/

লাইভ

টপ