রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে

Send
শেখ শাহরিয়ার জামান
প্রকাশিত : ১০:০০, আগস্ট ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:০০, আগস্ট ২৩, ২০১৯

নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, জীবনযাপনের অধিকারসহ অন্যান্য বিষয়ে রোহিঙ্গাদের অনাস্থার কারণে সম্ভব হয়নি ২২ আগস্টের প্রত্যাবাসন। দ্বিতীয়বারের মতো রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিফল হলেও এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। এই সমস্যা ধীরে ধীরে প্রকট আকার ধারণ করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় রাখাইনে পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে মিয়ানমারকে আস্থা তৈরি করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে বলে মনে করেন শরনার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মাদ আবুল কালাম।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে তৃতীয় পক্ষ। রোহিঙ্গাদের দাবিগুলো পূরণ করবে মিয়ানমার এবং তাদেরকেই সবার আগে আস্থা তৈরি করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দায়িত্ব আছে এ বিষয়ে। আগামী মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হবে। গত দুই বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। এবারেও তিনি হয়তো নতুন কোনও ধারণা দেবেন যার ওপর ভিত্তি করে এই সমস্যা সমাধান করা সহজ হবে।’
প্রত্যাবাসন টাস্কফোর্সের প্রধান এই কর্মকর্তা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের যে দাবিগুলো উঠে এসেছে তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, জায়গা-জমি ফেরত এবং জীবন-জীবিকার নিশ্চয়তা।’ তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দেখার জন্য মিয়ানমার ও চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা ছিলেন এবং তারা এখানকার অবস্থা দেখে গেছেন।
উল্লেখ্য, প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা দিয়েছে যার মধ্যে সম্প্রতি মিয়ানমার ১ হাজার ৩৭ পরিবারের ৩ হাজার ৪৫০ জনের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। এ তালিকায় যারা আছে তারা ফেরত যেতে চায় কিনা সে ব্যাপারে প্রায় ৩০০ পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হলে একটি পরিবারও ফেরত যেতে রাজি হয়নি। বাকি রোহিঙ্গা পরিবারদেরও মতামত নেওয়া হবে।
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ (ফাইল ফটো) এ বিষয়ে চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুনশি ফায়েজ আহমেদ বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফেরত যেতে না চাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে, সেগুলির বিষয়ে আলোকপাত প্রয়োজন। বারবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও কেন যেতে রাজি হচ্ছে না রোহিঙ্গারা সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি বিশ্লেষণ দরকার। এছাড়া তাদের উদ্বেগগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।’
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বসহ অন্যান্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে কিন্তু তারা সে আস্থা রাখতে পারছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের যে আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে সেটি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা নিয়ে সন্দিহান রোহিঙ্গারা। এজন্য বিশ্বাস স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রোহিঙ্গাদের উৎসাহিত করতে হবে ফেরত যাওয়ার জন্য এবং কাজটি মিয়ানমারকেই করতে হবে।’
আঞ্চলিক শক্তিধর দেশগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, চীনসহ অন্যদের এখন বিষয়টির গভীরে গিয়ে ভেবে দেখতে হবে তারা কীভাবে এটিকে এগিয়ে নেবে। এ বিষয়ে মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক সামরিক অ্যাটাশে শহীদুল হক বলেন, মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সিনিয়র জেনারেলসহ আরও কয়েকজনের ওপর টার্গেটেড অবরোধ দিয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ‘রাখাইনে এখনও ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়নি বলেই রোহিঙ্গারা যেতে চাচ্ছে না।’ মিয়ানমারের আগামী নির্বাচনে রোহিঙ্গা যেন একটি ইস্যু না হয় সেজন্য সেখানকার সরকার এবং সামরিক বাহিনী উভয়ে চেষ্টা করছে বলে মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে আগামী বছর নির্বাচন। এজন্য বিষয়টিকে এখন রাজনৈতিক একটি ইস্যু বানাতে চাইবে না সেখানকার সরকার বা সামরিক বাহিনী।’

 

/ওআর/

লাইভ

টপ