কয়লা চুরি: অভিযুক্তদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগামী সপ্তাহে!

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ১১:৪২, আগস্ট ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৯, আগস্ট ২৪, ২০১৯

কয়লা দুর্নীতিবড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগামী সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত আসতে পারে। জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। এখন আইন মন্ত্রণালয় যে পদক্ষেপ নিতে বলবে জ্বালানি বিভাগ ওই পদক্ষেপই নিতে পারে।

জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। এখানে যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদের অনেকে উচ্চপদস্থ। তাদের পুরো জীবনই জ্বালানি বিভাগে কেটেছে। তবে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। আইনে যা বলা হয়েছে তার ব্যতিক্রম করা সম্ভব নয়।’ তিনি জানান, আইনে বলা হয়েছে মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সাময়িকভাবে বরখাস্ত হবেন। তবে মামলায় তিনি নির্দোষ প্রমাণ হলে সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন সময়ের বেতনভাতাসহ পূর্ণ সুবিধা পাবেন।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ২৪৩ কোটি টাকার কয়লা চুরির অভিযোগে খনির সাবেক সাত ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২৩ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছিল পেট্রোবাংলা। কিন্তু আদালত চার্জশিট গ্রহণ করলেও অভিযুক্তদের বিষয়ে এখনও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি জ্বালানি বিভাগ।

জানা গেছে, এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় বিষয়ে করণীয় ঠিক করে দিতে কিছুটা সময় চেয়েছে। ফলে অভিযুক্তদের সাময়িক বরখস্ত করা হবে কিনা বা অন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছে জ্বালানি বিভাগ।

খনি থেকে ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার টাকার কয়লা চুরির মামলায় কোম্পানির ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) অনুমোদন করে দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় দিনাজপুরে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শামছুল আলম। গত ২২ জুলাই আদালতে দাখিল করা হয়েছে এই অভিযোগপত্র।

চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান (অবসরপ্রাপ্ত), মো. আব্দুল আজিজ খান (বর্তমানে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য), প্রকৌশলী খুরশীদুল হাসান (অবসরপ্রাপ্ত), প্রকৌশলী কামরুজ্জামান (বর্তমানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড), মো. আমিনুজ্জামান (অবসরপ্রাপ্ত), প্রকৌশলী এস এম নুরুল আওরঙ্গজেব (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মতর্তা হিসেবে পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানের দফতরে সংযুক্ত) ও প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহাম্মদ (সাময়িক বরখাস্ত), সাবেক মহাব্যবস্থাপক মো. শরিফুল আলম, (অবসরপ্রাপ্ত) মো. আবুল কাসেম প্রধানীয়া (মহাব্যবস্থাপক, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস বিতরণ কোম্পানি), আবু তাহের মো. নুর-উজ-জামান চৌধুরী (সময়িক বরখাস্ত সাবেক মহাব্যবস্থাপক), ব্যবস্থাপক মাসুদুর রহমান হাওলাদার (বর্তমানে ম্যানেজার, সুন্দরবন গ্যাস বিতরণ কোম্পানি)।

এছাড়া বড়পুকুরিয়ার মো আরিফুর রহমান (ম্যানেজার), সৈয়দ ইমান হাসান (ম্যানেজার), মুহাম্মদ খলিলুর রহমান (উপ ব্যবস্থাপক), মো. মোর্শেদুজ্জামান (উপ ব্যবস্থাপক) মো. হাবিবুর রহমান (উপ ব্যবস্থাপক), মো. জাহেদুর রহমান (উপব্যবস্থাপক),  সত্যেন্দ্র নাথ বর্মন (উপ ব্যবস্থাপক), মো. মনিরুজ্জামান (সহকারী ব্যবস্থাপক), মো. শোয়েবুর রহমান (ব্যবস্থাপক), এ কে এম খালেদুল ইসলাম (উপ-মহাব্যবস্থাপক, সাময়িক বরখাস্ত), অশোক কুমার হালদার (ব্যবস্থাপক) ও মো. জোবায়ের আলী (উপ-মহাব্যবস্থাপক)।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘আমাদের কোনও কাজ নাই। এইটা দুদকের কাজ।’ বিদ্যুৎ জ্বালানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আদালত যা বুঝবেন তাই আদেশ দিবেন। আমাদের কিছু করার নাই।’

প্রসঙ্গত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি নিয়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এরমধ্যে প্রথম পেট্রোবাংলার তদন্ত প্রতিবেদনে সব ব্যবস্থাপনা পরিচালককে কয়লা গায়েবের জন্য দায়ী করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কাযালয় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রকাশ করা হয়নি। তবে দুদক তদন্ত শেষে বলছে, খনির কয়লা চুরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ দশমিক ৯২ মেট্রিক টন কয়লা চুরি হয়। যার আনুমানিক মূল্য ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকা। তবে স্থানীয়রা বলছেন, চুরি হওয়া কয়লার পরিমাণ আরও অনেক বেশি। 

আরও পড়ুন- 

বড়পুকুরিয়া খনিতে চুরি হয়েছে ৩ লাখ টন কয়লা!

কয়লা চুরির নাটের গুরু কারা?

 

/এসএনএস/এফএস/

লাইভ

টপ