জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নেই!

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ১৫:০৯, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:১৭, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

গত জুলাই থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে কোনও চেয়ারম্যান নিয়োগ হয়নি। আইন অনুযায়ী কমিশনের প্রধান নির্বাহী হচ্ছেন চেয়ারম্যান। তিনি না থাকলে আমলা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাফতরিক কাজ করলেও  কমিশন কার্যকর থাকে না।

সর্বশেষ ১ জুলাই রিয়াজুর রহমান দায়িত্ব ছাড়ার পর চেয়ারম্যানের পদটি খালি হয়ে যায়। এরপর থেকে নতুন করে কোনও চেয়ারম্যান আসেননি। কমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা বলছেন, প্রায় অভিভাবক শূন্য হয়ে আছেন তারা। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ বা অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে পারছেন না। সাবেক চেয়াম্যানরা বলেছেন, যতদিন চেয়ারম্যান নিয়োগ হবে না, ততদিন কমিশনে কর্মকর্তা -কর্মচারীরা আছেন বটে, কিন্তু কমিশনের কোনও অস্তিত্ব নেই। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন,বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেই এমনটা ঘটেছে।

কমিশনের সূত্র মতে, গত বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চেয়ারম্যান বাছাই কমিটির সভা হয়েছে এবং এখান থেকে পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে।

কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদ বেশি দিন শূন্য রাখা সমীচীন হবে না। ২০১০ সালে তার আগের চেয়ারম্যানের শেষ কার্যদিবসের পরের দিনই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মধ্যবর্তী সময় লেগে গেলে ওই সময়টায় দেশের মানুষেরই ক্ষতি হবে।’

হিসাব অনুযায়ী কাজী রিয়াজুল হকের মেয়াদ শেষ হয় গত ৩ আগস্ট। কিন্তু তার ৭০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ায় এক মাস আগেই অর্থাৎ গত ২ জুলাই থেকেই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার জন্য চিঠি দেন। ওই দিন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মো. নজরুল ইসলাম। তারও চাকরির মেয়াদ ১ আগস্ট শেষ হলে আবারও অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়ে এই প্রতিষ্ঠানটি। কমিশনের বরাবর জমা হওয়া অভিযোগের বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত আসে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে। চেয়ারম্যান না থাকায় কমিশনে প্রতিদিনই অভিযোগ জমা হচ্ছে, কিন্তু কোনও অভিযোগেরই সুরাহা হচ্ছে না।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ২০০৯-এর ৬ (৫) ধারা অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে চেয়ারম্যান তার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান তার পদে যোগদান না করা পর্যন্ত, কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, সার্বক্ষণিক সদস্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। যদিও কমিশন সূত্র বলছে, বর্তমানে কোনও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নেই।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান মনে করেন, রাষ্ট্র গুরুত্ব না দেওয়ায় এধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে মানুষ ভরসার সঙ্গে নজর দিয়ে থাকে। কিন্তু যখন কিনা মাসের পর মাস এর চেয়ারম্যান নিয়োগ আটকে থাকে, তখন মনে হয়— এর যে গুরুত্ব সেটি আসলে তারা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে, অথবা দলীয়করণ করতে আস্থার লোক না পেয়ে দেরি করছে।’

সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আইনটিই এরকম যে, চেয়ারম্যান নেই মানে কমিশন নেই। এখন অভিযোগ ও ভুক্তভোগী এদের কথা বিবেচনায় রেখে দ্রুত কাজটি করতে হবে।’ এর আগে এতটা সময় লেগেছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমার কর্মদিবস শেষে মাসখানেক সময় লেগেছিল। এটি মূলত সার্চ কমিটির বসা এবং ফাইল চালাচালিতেই একটু পিছিয়ে যায়।’

যে কমিটি চেয়ারম্যান খুঁজে বের করে নাম প্রস্তাব করবেন তার নেতৃত্বে রয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সার্চ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান, দু’জন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিউজ হওয়ার মতো কোনও খবর আমার কাছে এখনও নেই।’

/ইউআই/এপিএইচ/

লাইভ

টপ