ড্রোন পরিচালনা ও আমদানি নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে: সংসদে বিমান প্রতিমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:০০, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৮, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

জাতীয় সংসদ (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)

ড্রোন পরিচালনা ও আমদানির জন্য নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

সরকারি দলের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, ‘কিছু উৎসাহিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিনা অনুমতিতে বাংলাদেশের আকাশসীমায় আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল সিস্টেম (UAV/UAS), রিমোর্ট কন্ট্রোল বিমান বা খেলনা বিমান ইত্যাদি উড়াচ্ছে। এতে দেশি-বিদেশি বিমান, হেলিকপ্টার এবং দ্রুতগতি সম্পন্ন সামরিক বিমানের সঙ্গে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

দেশে কী পরিমাণ ড্রোন রয়েছে তার তথ্য সরকারের কাছে নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, ড্রোন পরিচালনা ও আমদানির বিষয়ে নীতিমালা তৈরি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই নীতিমালায় ড্রোনের আকার, রেজিস্ট্রেশন ও উড্ডয়ন সম্পর্কিত তথ্যাদিসহ অন্য তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নীতিমালা প্রকাশের পর ড্রোন সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত থাকবে।

ওয়াসিকা আয়শা খানের প্রশ্নের জবাবে বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, ২০১৮–১৯ অর্থবছরে বিমানের আয় ৫ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা; অন্যদিকে, ব্যয় ৫ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা।

রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উড়োজাহাজের জ্বালানি তেলের দাম ২৫ শতাংশ বাড়ায় উড়োজাহাজের লিজ খরচ বৃদ্ধি, বৈদেশিক ঋণের সুদ বাবদ খরচ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং ক্রুদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১৭–১৮ সালে বিমানের লোকসান হয়েছে।’

রুমানা আলীর প্রশ্নের জবাবে সংসদ কাজে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আনিসুল হক জানান, বিশ্বের ৮টি দেশে ৯টি শান্তিরক্ষা মিশনে সশস্ত্র বাহিনীর ৫ হাজার ৮৫৬ জন সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ৫ হাজার ৪৯ জন, নৌবাহিনীর ৩৪৫ জন ও বিমান বাহিনীর ৩৪৫ জন। প্রতি সদস্যের বিপরীতে জাতিসংঘ বৈদেশিক ভাতা বাবদ মাসে ১৪২৮ মার্কিন ডলার (৮৫ টাকার এক ডলার হিসেবে ১২১৩৮০ টাকা) প্রদান করে। বৈদেশিক ভাতার প্রাপ্ত অর্থ থেকে ৯০ শতাংশ শান্তিরক্ষীদের মাঝে বিতরণ করা হয় এবং ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়।

নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানান, মুক্তিযুদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের ৭০ দশমিক ৪৬৮৬ একর জমি ও ১৭টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের ৬টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পূর্ণিমা ফিলিং স্টেশন ছাড়া অন্যগুলো বন্ধ রয়েছে। বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কয়েকটির জমি স্বল্প মেয়াদে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, চট্টগ্রামের নাসিরাবাদের মেটাল প্যাকেজেস লিমিটেডের জমি বিক্রি করা হয়েছে। তবে জমির দলিল বাতিলের জন্য মামলা চলছে।

দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী জানান, দেশে গেজেটভুক্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৩২২ জন।

সৈয়দা রুবিনা আক্তারের প্রশ্নের জবাবে আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘নতুনভাবে করা মুক্তিযোদ্ধার তালিকা যাচাই–বাছাই করার জন্য জেলা, উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ে ৪৭০টি কমিটি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৭৫টি কমিটি যাচাই–বাছাই করে প্রতিবেদন দিয়েছে। হাইকোর্টে রিট আবেদন, কমিটির ভেতরে দ্বন্দ্ব ও অন্য কারণে ৯৫টি কমিটি প্রতিবেদন দিতে পারেনি।’

প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল পাঁচটার পর সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

/ইএইচএস/এমএ/

লাইভ

টপ