সুফল প্রকল্প: ‘নামটা যত ভালো, কাজটা তত ভালো নয়।’

Send
এমরান হোসাইন শেখ
প্রকাশিত : ১৮:৩০, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫১, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯

13a04fc99ee21dbcf28c3fc881971e47-59d61d35c69a4সুফল প্রকল্পের (টেকসই বন ও জীবিকা) সফল হওয়ার বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। প্রকল্পের অগ্রগতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘তাদের নামটা যত ভালো, কাজটা ততটা ভালো নয়।’ শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে প্রকল্প নিয়ে এই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৫ বছরের প্রকল্পের এক বছর হতে চলছে কিন্তু মৌলিক কাজগুলো এখনও হয়নি। বৈঠকে প্রকল্প সম্পর্কে চমৎকার উপস্থাপনা হয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে, তাদের কোনও ধরনের প্রস্তুতি নেই। তারা প্রত্যাশার ধারে-কাছেও নেই।’

কমিটির কার্যপত্র পর্যালোচনা করে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ৫ বছরব্যাপী ‘সাসটেইনেবল ফরেস্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড  (সুফল) প্রজেক্ট’ হাতে নেওয়া হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি বনজসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো। পাশাপাশি বনজসম্পদ উজাড়রোধ ও বিননির্ভর জনগোষ্ঠীর বিকল্প জীবিকা সুবিধা দেওয়া। প্রকল্পের মেয়াদ শুরুর ৬ মাসের মাথায় গত বছর ডিসেম্বরে কাজ শুরু হয়।

প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ৫টি বনাঞ্চল, যা দেশের ৮টি বিভাগের ২৮টি জেলায় ১৬৫ উপজেলার ৬০০টি গ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ১ হাজার ৫০২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার প্রকল্পের সিংহভাগই দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্পের মধ্য রয়েছে—নতুন করে ৭৭ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বনায়ন ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও চলাচলের পথের (করিডোর) উন্নয়ন, বিপন্ন বন্যপ্রাণী (হাতি, শকুন, স্পুন-বিল সেন্ডপাইপার, সার্ক, রে, ঘড়িয়াল, ডলফিন ও বাঘ) সংরক্ষণ, বিপন্ন প্রজাতির গাছপালার লাল তালিকাকরণ, কিছু স্থাপনা নির্মাণ, বনাঞ্চলের আশাপাশের বননির্ভর ৬০০টি গ্রামের ৪০ হাজার পরিবারের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ইত্যাদি। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের জাতীয় বনাঞ্চল ১ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে বলেও জানানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পটি এক বছর পার হতে চললেও এখন পর্যন্ত ‘ফুলটাইমের’ কোনও প্রকল্প পরিচালক নেই। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে যিনি দায়িত্বে আছেন, তিনি সরকারের আরও একাধিক দায়িত্ব পালন করছেন। পরন্তু প্রকল্পের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেনটেশন কমিটি অ্যান্ড প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করতে না করতেই তা আবার ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পে বলা হয়েছে, বনাঞ্চলের পার্শ্ববর্তী ৬০০টি গ্রামের মানুষকে প্রণোদনা দেওয়া হবে। কিন্তু এই গ্রামগুলো কোথায়, তার কিছুই এখনও ঠিক করা হয়নি।  প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের সময়ই এই মৌলিক বিষয়গুলো থাকার কথা বলে কমিটির সদস্যরা অভিমত দিয়েছেন।

জানা গেছে, প্রকল্পের প্রশিক্ষণের ১১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু কীসের ওপর প্রশিক্ষণ হবে, তার মডিউল কী হবে, কারা মডিউল তৈরি করবে বা কাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনও কর্মপরিকল্পনা নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি বলেন, ‘এত বড় প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে গেলে এর ভিত শক্তভাবে তৈরি করতে হবে। কিন্তু পরিকল্পনার দিক থেকে কোনও ধরনের স্বস্তি আমরা খুঁজে পাইনি। বাস্তবায়ন তো পরের কথা। এজন্য আমরা আগামীতে ডিটেইল কর্মপরিকল্পনা চেয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পে যে ৬০০টি গ্রামের মানুষকে প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর উল্লেখ নেই। অথচ এটি একনেকে অনুমোদনের আগেই চূড়ান্ত হওয়ার কথা।’

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা একজন ফুলটাইম প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের জন্য আগেই সুপারিশ করেছি। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘প্রথম বছর তাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী টাকা খরচ করতে পারেনি।’ অথচ তারা হুলস্থুল করে গাড়ি কেনা শুরু করে দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

/এমএনএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ