‘কোনও রোহিঙ্গাই এনআইডি পাননি’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:১৯, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৩, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯

এনআইডিরোহিঙ্গাদের কেউই বাংলাদেশে ভোটার হতে পারেননি বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কোনও রোহিঙ্গাই ন্যাশনাল আইডি  (এনআইডি) কার্ড পাননি। বাংলাদেশে আসা প্রায় ১১ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গার আঙুলের ছাপ ও পরিচিতি সংবলিত সার্ভার কমিশনের কাছে রয়েছে। ফলে তাদের কেউ চাইলেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।’ সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।

এনআইডির ডিজি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার যে তথ্য এসেছে, সেটি মূলত তারা চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কেউই ভোটার হতে পারেননি। কারণ ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় বিশেষ কার্যক্রম শেষ করে সার্ভারে তথ্য আপলোড করা হয়। এরপর ফিঙ্গার প্রিন্ট ম্যাচিং করে যারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য, কেবল তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ক্ষেত্রে কারও তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে সেটি লক করে দেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘লাকী বেগম নামের একজন স্মার্টকার্ড আনতে গেলে মূল সার্ভার থেকে ধরা পড়ে যে, তার এনআইডি সঠিক নয়। জিজ্ঞাসাবাদে চিহ্নিত হয়েছে, তাকে বৈধ এনআইডি দেওয়া হয়নি। তাই, তাকে পুলিশে দেওয়া হয়। এরপর আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করি। তাদের মাধ্যমে সঠিকভাবে প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হয়েছে কিনা এসব দেখি। এতে ৪৬ জনের ডাটা অসম্পূর্ণ পাওয়া যায়। কারও ফিঙ্গার প্রিন্ট ঠিক মতো নেই, কারও ফরম সঠিকভাবে আপলোড করা হয়নি। এটা আমরাই চিহ্নিত করেছি।’

রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক হয়েছে জানিয়ে এনআইডি ডিজি বলেন, ‘কোনও তথ্য আপলোড হলে আমরা চেক করি। কোনও তথ্য রোহিঙ্গা সার্ভারের সঙ্গে মিলে গেলে সার্ভারে আর এন্ট্রি করা যাবে না। স্টেপ বাই স্টেপ ভোটার তালিকার বিষয়টি ৪৬ জনের যে ফাইল আপলোড হয়েছে, সেটি অসম্পূর্ণ। চেষ্টা তো করছেই, কিন্তু সফল হতে পারবে না।’

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান জানান, কক্সবাজারের আশে-পাশের ৩২টি উপজেলাকে বিশেষ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সেখানে গঠিত বিশেষ কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে বারবার সতর্ক করেছি, যেন বিদেশি বা রোহিঙ্গারা ভোটার তালিকায় আসতে না পারেন। আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্তে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চট্টগ্রামের ডাবলমুরিং উপজেলা নির্বাচন অফিসের পিয়ন জয়নাল আবেদিনের জড়িত থাকার প্রমাণ কমিশন পেয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবে। চাকরির বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কিনা, সেটিও দেখা হবে।’

ইসির অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ভোটার করার চেষ্টা করেছেন পিয়ন জয়নাল আবেদিন। তবে কাউকে ভোটার করতে পারেননি এবং এনআইডিও দিতে পারেননি। শুধু এটেম্প (চেষ্টা করেছে) নিয়েছেন, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোভাবে যেন আইডি কার্ড রোহিঙ্গারা না পান, সেজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ তারা ভোটার হতে পারবেন না বলেও তিনি জানান।

/ইএইচএস/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ