জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যু জোরালোভাবে তুলে ধরবে বাংলাদেশ

Send
শেখ শাহরিয়ার জামান
প্রকাশিত : ২৩:৩৬, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪৫, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯





আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যু জোরালোভাবে তুলে ধরবে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে সমমনা দেশ ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এর সমাধানের উপায় খুঁজে বের করতে একাধিক অনুষ্ঠান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সব দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরা হবে গুরুত্বের সঙ্গে। পাশাপাশি বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যকার অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হবে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও এবারের সাধারণ পরিষদের ৩টি বড় ইস্যুভিত্তিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এগুলো হচ্ছে এসডিজি সামিট, জলবায়ু অ্যাকশন সামিট এবং ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ।
রোহিঙ্গা সংকট
গত দুই বছরের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে তার মূল বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকটকে জোরালোভাবে তুলে ধরবেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, রাখাইনে তাদের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করা ও দায়বদ্ধতা ইত্যাদি বিষয় তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরবেন।
পাশাপাশি এবারে রোহিঙ্গা বিষয়ে অন্তত ৫টি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা আছে নিউ ইয়র্কে। এর মধ্যে অরগানাইজেশন ফর ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি), সৌদি আরব, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউই) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ওআইসি এবারে অন্তত ৩টি অনুষ্ঠান করবে এবং বড় অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে হবে।’
ওআইসি’র রোহিঙ্গা বিষয়ক একটি কনট্যাক্ট গ্রুপ আছে, যেটির সদস্যদেশের সংখ্যা ১৪। এই দেশগুলো সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে বৈঠকে মিলিত হবে বলে তিনি জানান।
এই কর্মকর্তা বলেন, এছাড়া রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য গাম্বিয়ার নেতৃত্বে ওআইসি অ্যাডহক কমিটিও বৈঠক করবে— কীভাবে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে মামলা করা যায়।
রোহিঙ্গাদের অর্থ সংস্থানের জন্য সৌদি আরব একটি প্লেজ কনফারেন্স আয়োজন করবে এবং সেখানে অর্থ সংগ্রহ করা হবে রোহিঙ্গাদের দেখভাল করার জন্য বলে জানান আরেকজন কর্মকর্তা।
এছাড়া জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির অফিস জাতিসংঘের বাইরে রোহিঙ্গা সমস্যা শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে বলে তিনি জানান।
এসডিজি সামিট
এবারে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অন্যতম বড় অনুষ্ঠান হচ্ছে এসডিজি সামিট। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) বাস্তবায়নে কোন দেশের কী অবস্থা, সে বিষয়ে এখানে আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতার নিরিখে আমরা এসডিজি বাস্তবায়ন করতে চাই এবং এ বিষয়টি আমরা জোরালোভাবে তুলে ধরবো।’
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তারা সফল হয়েছেন, এসডিজি বাস্তবায়নেও সফল হবেন এবং এ বিষয়টিকে জাতিসংঘে তুলে ধরবেন বলে তিনি জানান।
জলবায়ু অ্যাকশন সামিট
২০১৬ সালে প্যারিস জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নিজেদের অর্থায়নে ৫ শতাংশ এবং অন্যদের সহায়তায় ১৫ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমানো হবে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এবারও আমাদের প্রতিশ্রুতি এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু দূষণের জন্য দায়ী নয়, বরং এর জন্য দায়ী উন্নত বিশ্বের দেশগুলো।’
ওই দেশগুলোও কার্বন নিঃসরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কিন্তু তারা এই প্রতিশ্রুতি কতটুকু রক্ষা করেছে, সেটি জানার কোনও ব্যবস্থা প্যারিস চুক্তিতে রাখা হয়নি বলে তিনি জানান।
এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা একটি মেকানিজম চাই যার মাধ্যমে বোঝা যাবে কোন দেশ কতটুকু প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে এবং এর ফলে একটি দায়বদ্ধতা তৈরি হবে।’

ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ
একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক বাংলাদেশের একটি সাফল্য এবং এ বিষয়টি আমরা সবার সামনে তুলে ধরবো।’
এছাড়া অটিজম ও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয় নিয়েও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করবেন বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পেনের প্রেসিডেন্ট স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি প্যানেল আলোচনায় যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন।

/এইচআই/

লাইভ

টপ