বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীর স্ট্যাটাস প্রকাশে বাধা নেই: কানাডার আদালত

Send
শেখ শাহরিয়ার জামান
প্রকাশিত : ২১:০০, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩০, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরী

বঙ্গবন্ধুর আত্ম-স্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীর স্ট্যাটাস প্রকাশ করা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের একটি আবেদনের পক্ষে রায় দিয়েছে  কানাডার ফেডারেল আদালত। আদালতের বিচারক ও’রেইলি গত মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এই রায় দেন।

রায়ে তিনি বলেন, ’আমি আবেদনটি জুডিশিয়াল রিভিউ করার জন্য সম্মতি দিলাম।’

এ রায়ের বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘কানাডার আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং তার (নূর চৌধুরী) স্ট্যাটাস প্রকাশে যে বাধাগুলো ছিল সেগুলো দূর হয়েছে।’

আইনমন্ত্রী আরও জানান, আমরা কানাডার ইমিগ্রেশন মন্ত্রীর কাছে আগেও আবেদন করেছিলাম এবং এখন আবার করবো যাতে করে তারা নূর চৌধুরীর স্ট্যাটাস প্রকাশ করে ।

কবে নাগাদ নতুন আবেদন করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুব শীঘ্রই।’

প্রেক্ষাপট

১৯৯৬ সালে নূর চৌধুরী এবং তার স্ত্রী কানাডাতে পর্যটক হিসাবে প্রবেশ করেন এবং পরে তারা উদ্বাস্তু সুরক্ষার জন্য আবেদন করেন।

এর আগে ১৯৯৮ সালে দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় অন্য আসামিদের সঙ্গে নূর চৌধুরীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং আদালত তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে।

এরপর মারাত্মক এই অপরাধ আমলে নিয়ে ২০০২ সালে কানাডার ওই আদালত এই দম্পতির করা উদ্বাস্তু সুরক্ষার আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে। এর বিরুদ্ধে আপিল করলেও ২০০৬ সালে ঘোষিত রায়ে হেরে যান নূর।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে নূর চৌধুরী প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট আবেদন করে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে। এটি করার উদ্দেশ্য ছিল তাকে যেন কানাডা থেকে বহিষ্কার করা না হয়। অন্যদিকে, এই অ্যাসেসমেন্ট যেন না করা হয় সে বিষয়ে ২০১০ সাল থেকে কানাডার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এরপর ২০১৮ সালে কানাডার অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে বাংলাদেশ একটি চিঠি দিয়ে নূর চৌধুরীর বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তার অফিস এ তথ্য দিতে অস্বীকার করে এবং জানায়, দুইদেশের মধ্যে তথ্য বিনিময় চুক্তি নেই। এরপর এ চুক্তি করার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তাব দিলে কানাডা সরকার পিছিয়ে আসে।

পরে ২০১৮ সালের জুন মাসে কানাডার ফেডারেল আদালতে এ বিষয়ে একটি মামলা করে বাংলাদেশ। এ সংক্রান্ত একমাত্র শুনানি গত ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর গতকাল (মঙ্গলবার) এ রায় ঘোষণা করে দেশটির এই আদালত।

কানাডার আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ‘নূর চৌধুরীর স্ট্যাটাস প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ এখন জুডিশিয়াল রিভিউ আবেদন করেছে। আমার বিবেচনায় বাংলাদেশের আবেদন গ্রহণ করা উচিত।’

চারটি ইস্যু

এই আদালত চারটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রায় দিয়েছে। এগুলো হচ্ছে ‘জুডিশিয়াল রিভিউ এর আবেদন কি অপরিপক্ক?’; ‘এটি কি বিচারযোগ্য?’; ‘কানাডার অ্যাটর্নি জেনারেলের সিদ্ধান্ত কি অবিবেচনাপ্রসূত?’ এবং ‘বাংলাদেশের জমাকৃত দলিলগুলো কি আংশিক সাংঘর্ষিক?’

এর সবগুলো বিষয়ে আদালত কানাডার অ্যাটর্নি জেনারেল ও নূর চৌধুরীর যুক্তিতর্কের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন এবং বাংলাদেশের যুক্তি-তর্ককে সমর্থন করেছেন।

 

 

/এসএসজেড/টিএন/

লাইভ

টপ