বিলুপ্তপ্রায় ২১ প্রজাতির মাছের জিনপুল সংরক্ষণ করা হয়েছে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৫০, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫৬, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু

মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণা করে বিলুপ্তপ্রায় ৬৪ প্রজাতির মাছের মধ্যে এরই মধ্যে ২১ প্রজাতির মাছের জিনপুল সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। বৃহস্পতিবার ( ১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) এর ‘বার্ষিক গবেষণা পরিকল্পনা প্রণয়ন ২০১৯-২০’বিষয়ক দু’দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু।

তিনি জানিয়েছেন, অপ্রচলিত মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে বৈদেশিক অর্থ উপার্জন  এবং দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় মাছগুলোকে ফিরিয়ে আনতে গবেষণা কাজ জোরদার করার ওপর জোর দিয়েছে সরকার।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ১১ শতাংশের বেশি মানুষ মৎস্যখাতের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে দেশের জিডিপির ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ অর্জিত হয় মৎস্যখাত থেকে। আশির দশকে মাছের মোট উৎপাদন ছিল ৮ লাখ মেট্রিক টন। এর প্রায় ৮০ শতাংশ ছিল নদ-নদী, হাওর-বাঁওড় ও বিলের মাছ। সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টায় এখন মাছের মোট উৎপাদন ৪২ দশমিক ৭৭ লাখ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ আসে চাষাবাদ থেকে, ২৮ শতাংশ নদ-নদী, হাওর-বাঁওড়সহ অন্যান্য অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় থেকে এবং ১৬ শতাংশ আসে সাগর থেকে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলিশ উৎপাদনে এখন আমরা বিশ্বে প্রথম। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে তৃতীয়, মিঠাপানির মৎস্য উৎপাদনে চতুর্থ।  চাষকৃত মাছ উৎপাদনে পঞ্চম। এবং তেলাপিয়া উৎপাদনেও চতুর্থ অবস্থান অর্জন করে বিশ্বে গৌরব অর্জন করেছি। এ কৃতিত্ব এদেশের সকলের। বিএফআরআই ইতোমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের পারশে ও নোনা টেংরার প্রজননকৌশল উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছে এবং চাকাচিংড়ি, হরিনাচিংড়ি, কাইন-মাগুর, ভেটকি, দাতিনা এবং চিত্রামাছের প্রজনন ও চাষাবাদের ওপর গবেষণা পরিচালনা করছে। এসব মাছের পোনা উৎপাদন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবন সম্ভব হলে উপকূলীয় অঞ্চলে এসবের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে। বিএফআরআই অপ্রচলিত মৎস্যসম্পদের মধ্যে কাঁকড়া ও কুচিয়ার পোনা উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করায় কুচিয়া ও কাঁকড়ার জীববৈচিত্র্য-সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

বিএফআরআই এর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদের সভাপতিত্বে রাজধানীর কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান বৈজ্ঞানিক অফিসার ড. আশরাফুল আলম।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রইছউল আলম মণ্ডল, কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. কবির ইকরামুল হক, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু সাইদ মো. রাশেদুল হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নিয়ামুল হক প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

দুদিন ব্যাপী কর্মশালায় ৬টি টেকনিক্যাল অধিবেশনে মোট ৬৫টি গবেষণা প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। এতে মৎস্যবিজ্ঞানী, সম্প্রসারণকর্মী, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যগবেষক, মৎস্যজীবী, মৎস্যব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ মৎস্যসেক্টরের সঙ্গে সম্পৃক্ত লোকজন অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা জানান, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭৩  হাজার ১৭১ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রফতানি করে ৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। অপ্রচলিত মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে ইনস্টিটিউটে ২টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ওয়েস্টার, শামুক ও ঝিনুকের প্রজনন ও চাষাবাদ বিষয়ক গবেষণা-পরিচালনা করা হচ্ছে। সামুদ্রিক গবেষণা জোরদার করতে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারের সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণাকেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গবেষণা জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের মোট কৃষিজ আয়ের ২৫ দশমিক ৩০ শতাংশ যোগান দেয় মৎস্যখাত এবং দেশের প্রাণিজ আমিষের শতকরা ৬০ ভাগ মাছ থেকে আসে বলেও তারা উল্লেখ করেন। প্রচুর লোকবলসহ অর্থব্যয় এবং সুশৃঙ্খল ও সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ইলিশ উৎপাদনবৃদ্ধির প্রশংসা করে তারা বলেন, এতে ইলিশের ব্যাপক উৎপাদন সম্ভব হলেও চিংড়িসহ অন্যান্য মাছের ক্ষেত্রে আমরা বেশ পিছিয়ে পড়ছি, যা এখন থেকেই মাথায় রাখা জরুরি।

 

/এসআই/টিএন/

লাইভ

টপ