অ্যাপস ও ফেসবুক পেজভিত্তিক অনলাইন সেবা কতটা নিরাপদ

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ১২:১১, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪২, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯

অ্যাপস ভিত্তিক সেবাঘরে-বাইরে ব্যস্ত মানুষ এখন দৈনন্দিন কাজগুলো অর্থের বিনিময়ে করিয়ে নিতে চান। আর প্রযুক্তির এই সময়ে বাটন চাপ দিলেই সেবা পৌঁছে যায় দোরগোড়ায়। টয়লেট পরিষ্কার থেকে শুরু করে পার্লারের সেবা সবই পাওয়া যায় অনলাইনে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে অ্যাপস ও ফেসবুকে পেজ খুলে নানা ধরনের সেবা দিচ্ছে। অনলাইনভিত্তিক সেবার ওপর নির্ভরতা বাড়লেও এখনও মানুষ পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না। পণ্য কিনে প্রতারণা ছাড়াও সেবাগ্রহীতার ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।  

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ফেসবুক, ফোন কিংবা অ্যাপসের মাধ্যমে যারা সেবা দিচ্ছে তাদের অনেকেরই ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)-এর সঙ্গে কোনও সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি এ ধরনের কত প্রতিষ্ঠান সেবা দিচ্ছে, তার সঠিক হিসাব নেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েও।

সেবাগ্রহীতা ও ই-কমার্সে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, কেবল ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করে কোনও পূর্বপরিচয় ছাড়া অচেনা ব্যক্তিদের বাসায় প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ায় যেকোনও দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। সেবাগ্রহীতাদের বাসার ঠিকানা, ফোন নম্বরসহ যাবতীয় তথ্য তাদের কাছে থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

অ্যাপস ভিত্তিক সেবারমনী নামের একটি অ্যাপের মাধ্যমে চুল কাটা, ফেসিয়াল, মেনিকিওর পেডিকিওর থেকে শুরু করে নানা সেবা দেওয়া হয়। কহিনুর ক্লিন অ্যান্ড কেয়ার, ঢাকা ক্লিনার্স, ক্লিন অ্যান্ড  কেয়ার প্ল্যাটফর্ম লিমিটেড নামের পেজগুলো থেকে বাসাবাড়ি পরিষ্কারের সেবা নিচ্ছেন অনেকে। সেবা নেওয়ার পর শঙ্কায়ও থাকছেন অনেকে। কারণ অপরিচিত মানুষ কাজগুলো করে দিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর কোনও কর্তৃপক্ষেরই সেই অর্থে কোনও মনিটরিং নেই।

প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, তাদের ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। এর বাইরে তারা কোনও সংগঠনের সঙ্গে নেই। কেউ কেউ প্রয়োজনও মনে করেন না।

বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত রোকসানা সুলতানা নিয়মিত ছারপোকা তেলাপোকা মারতে অনলাইনে যোগাযোগ করে বাসায় লোক ডাকেন। তিন-চার মাস পর নতুন নতুন লোক এসে বাসার আনাচে-কানাচে, আসবাবপত্র, এমনকি আলমারি খুলে তার ভেতরে ওষুধ দিয়ে যান।

রোকসানা বলেন, কাজ করালেও মনের ভেতর শঙ্কা কাটে না। প্রতিবারই তিনি সব লক চেঞ্জ করেন। তিনি নিজেও খোঁজ করার চেষ্টা করেছেন এসব প্রতিষ্ঠানের লোকজন আসলে নিরাপদ কিনা।

রেজা-সুষমা দম্পতি (ছদ্মনাম) আরও বেশি বিপদে পড়ে যান যখন কিনা অনলাইনে সেবা নিতে গিয়ে সেবাদাতার সঙ্গে তর্ক বেধে যায়। কোথায় অভিযোগ করলে তারা প্রতিকার পাবে, সেটা জানা না থাকায় ঘটনার পরের কয়দিন ভয়ে ভয়ে কাটান। শঙ্কার কারণ শিশু সন্তানকে বাসায় রেখে কাজে যান তারা। বিভিন্ন অনলাইন শপ, ক্লিনিংসহ নানা সেবা নিতে গিয়ে বাসা, ফোন নম্বর গণহারে না দিয়ে অন্য কোনও উপায় আছে কিনা, সেটাও বিবেচনা করা দরকার বলে মনে করেন তারা।

অ্যাপস ভিত্তিক সেবাকর্মীদের যথাযথ ডকুমেন্ট ও ট্রেড লাইসেন্সই নিরাপত্তা বলে উল্লেখ করেন ঢাকা ক্লিনার্সের জাকির হাসান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এখন পর্যন্ত কোনও সমস্যা হয়নি। যারা কাজ করে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নানা ডকুমেন্ট রাখা হয়।

তার প্রতিষ্ঠানের সংগঠন ইক্যাবে যুক্ত হননি কেন প্রশ্নের জাবাব বলেন, ‘প্রয়োজন ফিল করিনি। এভাবে কাজ হচ্ছে তো।’

অ্যাপের মাধ্যমে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনে যুক্ত কিনা প্রশ্নের জবাবে ‘রমনী’র আরমিন জামান খান বলেন, ‘হ্যাঁ বেসিস ইক্যাবে আছি। কিন্তু আমাদের সদস্যপদ নেই। ব্যবসা করতে সেটা বাধ্যতামূলকও নয়। আমরা ইকমার্সে যুক্ত, ইক্যাবের আন্ডারে। এসব কাজ ইক্যাব মনিটরিং করে।’

ইক্যাবের পক্ষে মেহেদি হাসান নিশ্চিত করেছেন ফেসবুকভিত্তিক এসব পেজের অনেকগুলোর সঙ্গেই তাদের সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি কহিনুর ক্লিনিং বা রমনী তাদের সংগঠনে নেই। সেবাএক্সওয়াইজেড ছাড়া অনলাইনে বাসাবাড়িতে সেবা দেয় এমন কেউই তাদের মেম্বার না। আর কোনও অথরাইজড সংগঠন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বেসিস আছে, কিন্তু তারা সফটওয়্যার রিলেটেড। আমাদের সদস্য না হয়েও বিজনেস করতে পারে। কিন্তু তখন তাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না।’

সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা কিংবা প্রতারণার শিকার হলে কার কাছে বিচার দেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মনিটরিংয়ের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কাজ হচ্ছে, সেল গঠন করা হবে। ভোক্তা অধিকারও করে থাকে। পারসোনালিও সমস্যা হলে আমরা যোগাযোগ করলে ওখান থেকে নেওয়া হয়। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছে না।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মনিটরিং আছে, আবার  নেই। ই-কমার্স নীতিমালা আছে, বাস্তবায়ন করা যায়নি। অনেকদিন ধরেই কাজ হচ্ছে। কিন্তু কতজন এ ব্যবসায় জড়িত, এ বিষয়ে আমাদের কাছে সঠিক তথ্য নেই। তারা ইকমার্সের নীতিমালাটাও মানে না।’ 

/ইউআই/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ