বাতিল হচ্ছে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল, মামলা যাবে দেওয়ানি আদালতে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:১২, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২১, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯





সংসদীয় কমিটির বৈঠকবাতিল হচ্ছে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল (ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল)। এর পরিবর্তে এ-সংক্রান্ত মামলা বিচারের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে সহকারী জজ ও সিনিয়র সহকারী জজ আদালতকে। এর আপিলের ক্ষমতা পাচ্ছে জেলা জজ আদালত। মামলার জট নিরসনে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, ১৯৫০ সালের ‘রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন’-এর বিধান অনুসরণ করে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি চলছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের তৈরি এ-সংক্রান্ত খসড়া প্রজ্ঞাপন চূড়ান্ত করতে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি একটি উপ-কমিটি গঠন করেছে।
সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটি সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই উপ-কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন আব্দুল মজিদ খান, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন করে সারাদেশে মাত্র ১২টি ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ফলে প্রতিটি ট্রাইব্যুনালে ২০ থেকে ৩০ হাজার মামলা দায়ের হয়। এ কারণে মামলা জট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পরে বর্তমান সরকার সারাদেশে আরও ৪১টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। কিন্তু তাতেও মামলার জট কমছে না।
এ পরিস্থিতিতে ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয় থেকে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিধান সংশোধন করে আগের মতোই জজ আদালতে বিচারের ক্ষমতা দিতে ভূমি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয় কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। পরে গত ২ এপ্রিল ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
বর্তমানে দেশের ৪১টি ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৭০২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে সংসদীয় কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ভূমি রেজিস্ট্রেশন প্রদ্ধতি ডিজিটাইজেশন করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে ‘ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থাপনা অটোমেশন’ প্রকল্প গ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
কমিটি সভাপতি আবদুল মতিন খসরুর সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটি সদস্য ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শামসুল হক টুকু, আব্দুল মজিদ খান, শেখ ফজলে নূর তাপস, শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও রুমিন ফারহানা।
এছাড়া কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান, ভূমি সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/ইএইচএস/এইচআই/

লাইভ

টপ