কোনও অপরাধকে কেন্দ্র করে একটি সংগঠনকে ঢালাও অভিযোগ দুঃখজনক: হানিফ

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ০২:২২, অক্টোবর ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:০৪, অক্টোবর ০৯, ২০১৯





মাহবুব উল আলম হানিফ (ফাইল ছবি)কোনও অপরাধকে কেন্দ্র করে একটি সংগঠনের প্রতি ঢালাও অভিযোগ করা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার পর ছাত্রলীগের সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) রাতে একাত্তর টেলিভিশন আয়োজিত টকশো ‘একাত্তর জার্নাল’-এ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন মাহবুব-উল আলম হানিফ। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন, ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি ও আণবিক জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন ও এটিএন বাংলার এক্সিকিউটিভ এডিটর জ ই মামুন। উপস্থাপানা করেন মিথিলা ফারজানা।
ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে অতিথিদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে টকশোতে হানিফ বলেন, ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা, মারামারি, খুনখুনি নতুন নয়। অতীতে অন্য ছাত্রসংগঠনও এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। তার মানে আমরা এর পক্ষে তা নয়। আদম হাওয়ার সময় থেকে অপরাধ প্রবণতা শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতিদিন কত কিছু ঘটছে। এসব কী ছাত্রলীগ করছে? অপরাধ যে করে সে আমাদের চোখে অপরাধী। তাকে শাস্তি পেতে হবে। ছাত্রলীগের কেউ অপরাধ করলে তাকে বহিষ্কার করা ছাড়া সংগঠনের আর কী করার আছে? তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। শোকসন্তপ্ত পরবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তাৎক্ষণিকভাবেই ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আজকে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে রিমান্ডেও আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টামূলক শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে যে পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার তা নিয়েছে।’
হানিফ বলেন, `আওয়ামী লীগ কোনও অপরাধকে সমর্থন করে না। সংগঠনের নেতাকর্মীই হোক আর বাইরের কেউ হোক, অপরাধ করলে পার পাবে না।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ধরনের ঘটনার সমর্থন করেন না। তিনি ছাত্রদের হাতে অস্ত্র ফেলে বই-কলম তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতা অন্যদের হাতে যাওয়ার পর ছাত্রদের হাতে আবারও অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। পরে অপরাজনীতির সৃষ্টি হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।’
এ সময় ছাত্র সংগঠনকে রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন থেকে আলাদা করার পরামর্শ দেন অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন,‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অসহায় থাকেন। হলগুলো ছাত্র সংগঠনের কাছে জিম্মি থাকে। হলগুলোতে কোন ছাত্র কোন রুমে থাকবে তা ঠিক করে ছাত্র সংগঠন। কোনটা টর্চার সেল হবে তাও তারাই ঠিক করে। যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদের ছাত্র সংগঠনই এগুলো করে থাকে।’

 

/আইএ/

লাইভ

টপ