শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য তৈরি করেছিলেন জিয়াউর রহমান: তথ্যমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:২১, অক্টোবর ১০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৬, অক্টোবর ১০, ২০১৯

জিয়াউর রহমান শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য তৈরি করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে চট্টগ্রাম বিভাগ সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেভেন মার্ডারের পর শফিউল আলম প্রধানসহ আরও অনেকের শাস্তি হয়েছিল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর শফিউল আলম প্রধানকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে হত্যাকাণ্ড হয়েছিল, অপরাধীকে জিয়াউর রহমান ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। পরে তাদের অনেককে মুক্ত করে দিয়ে ছাত্রদল গঠন করেছেন জিয়াউর রহমান। আর বাংলাদেশের মেধাবী ছাত্রদের বানিয়েছিলেন সন্ত্রাসী। জিয়াউর রহমান, এরশাদ যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য, সেশন জট স্বাভাবিক ঘটনা ছিল।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনও ধরনের নৈরাজ্যকে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্রয় দেন না উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বুয়েটের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটার পরপরই কেউ দাবি তোলার আগে যারা প্রাথমিকভাবে জড়িত মনে হয়েছে, তাদের প্রায় সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছাত্রলীগ তাদের বহিষ্কার করেছে। বুয়েটে যখন সনি হত্যাকাণ্ড ঘটে, বিএনপি কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ছাত্রদের করুণ মৃত্যু ঘটে, তখন কি বিএনপি ব্যবস্থা নিয়েছিল? নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়েছেন। যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়, সেজন্য সরকার বদ্ধপরিকর।’
সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হবে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা জানি আমাদের দলে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এই আবর্জনা পরিষ্কার করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির কয়েকজন নেতা গত কয়েকদিন ধরে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন। তাদের কারও কারও বক্তব্য শুনলে মনে হয় তারা বদ্ধ উন্মাদ। অতীতে একটু ফিরে তাকান, তারপর নিজের কাছে প্রশ্ন রাখেন। এরপর দয়া করে কথা বলেন।’

আবরার হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিদেশি মিশনগুলোর উদ্বেগের সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদের ধন্যবাদ জানাই। তারা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের উন্নয়নে কাজ করছেন। এজন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপানসহ সব উন্নয়ন সহযোগীকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।’
এ সময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যখন স্কুলে গোলাগুলি হয়, তখন কি তারা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে? যখন পাকিস্তানে শিয়া মসজিদ পুড়িয়ে দেওয়া হয়, তখন কি প্রতিক্রিয়া জানায়? অতীতে যখন বাংলাদেশে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তখন কি তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে? যারা বক্তব্য রেখেছেন তাদের বলবো, কূটনৈতিক শিষ্টাচার যাতে রক্ষিত হয়, সেভাবে যেন আপনারা বক্তব্য রাখেন। এভাবে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে বক্তব্য রাখা সমীচীন নয়।’
ভারতে গ্যাস রফতানি এবং রাডার স্থাপন নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আমদানিকৃত গ্যাস ভারতের ত্রিপুরায় রফতানি হবে। আমাদের চাহিদা মিটিয়ে ত্রিপুরায় বোতলজাত এলপিজি গ্যাস রফতানি করবো, এটা তো আমাদের অর্থনীতির জন্য সহায়ক।’ এ সময় তেল গ্যাস বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটিকে ভুল শুধরে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

/এসও/এআর/এমএমজে/

লাইভ

টপ