৫ দাবি বাস্তবায়িত না হলে বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা নয়

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:০৫, অক্টোবর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:১৭, অক্টোবর ১২, ২০১৯

single pic template-1 copyবিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর স্বল্প সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য পাঁচটি দাবির কথা জানিয়েছেন আন্দোলনকারী বুয়েট শিক্ষার্থীরা। যেগুলো বাস্তবায়িত হলে বুয়েট ক্যাম্পাসে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার মতো পরিবেশ রয়েছে বলে তারা আশ্বস্ত হবেন। তা না হলে ভর্তি পরীক্ষা হবে না বলে জানান শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবির কথা জানান আন্দোলনকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, ‘১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। তবে শেষ মুহূর্তে ভিসি স্যারের অনুরোধ এবং ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া অনুজদের কথা চিন্তা করে স্বল্প সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য এ দাবিগুলো আমরা পেশ করছি।’

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো:

১. আবরার হত্যা মামলায় জড়িত সবাইকে এখন থেকেই সাময়িক বহিষ্কার করতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করা হবে তাদেরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে এই মর্মে একটি নোটিশ জারি করতে হবে।

২. আবরার হত্যা মামলার সমস্ত খরচ বুয়েট প্রশাসন বহন করবে এবং আবরারের পরিবারকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে বুয়েট প্রশাসন বাধ্য থাকবে। এই বিষয়টি নোটিশে উল্লেখ থাকতে হবে।

৩. বুয়েট থেকে সব সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করে হল থেকে অবৈধ ছাত্রদের উৎখাত করতে হবে। হলে অবৈধভাবে সিট দখলকারীদের উৎখাত করতে হবে। সাংগঠনিক ছাত্র সংগঠনগুলোর অফিস সিলগালা করতে হবে। ভবিষ্যতে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি বা নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা একটি নোটিশ জারির মাধ্যমে আমাদের জানাতে হবে। পরবর্তী সময়ে এটি যে অর্ডিন্যান্সে অন্তর্ভুক্ত করা হবে তা নোটিশে উল্লেখ থাকতে হবে। আমরা চাই, এ ধরনের কার্যক্রম তদারকি করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হোক এবং এই কমিটি গঠনের বিষয়টি নোটিশে উল্লেখ করতে হবে।

৪. বুয়েটে অতীতে ঘটে যাওয়া সব ছাত্র নির্যাতন, হয়রানি র‌্যাগিংয়ের ঘটনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রকাশের জন্য বিআইএসএস অ্যাকাউন্টে একটি কমন প্ল্যাটফর্ম সংযুক্ত করতে হবে। সেগুলো মনিটরিংয়ের জন্য কমিটি গঠন করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একটি নোটিশের মাধ্যমে এটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।

৫. প্রত্যেক হলের প্রতিটি ফ্লোরের প্রতিটি উইংয়ের দুই পাশে সিসি ক্যামেরা যুক্ত করতে হবে। সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এই বিষয়গুলো নোটিশে আসতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা চাই না ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ১৯ ব্যাচের যেসব অনুজরা আসবে তারা একটি অসুস্থ একাডেমিক কালচারের অন্তর্ভুক্ত হোক।’

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ১৭তম ব্যাচের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীকে। রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একাধিক ভিডিও ফুটেজও পাওয়া গেছে। আবরারকে হত্যার ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন...
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো বুয়েট প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বৈঠক 

ক্যাম্পাস এখনও নিরাপদ নয়, মনে করেন আন্দোলনকারীরা

ক্ষমা চাইলেন বুয়েট উপাচার্য

 আবরার হত্যায় ১৯ আসামিকে বুয়েট থেকে সাময়িক বহিষ্কার: উপাচার্য

বুয়েটে দলীয় ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের ঘোষণা 

 

 

/আরজে/এমএএ/

লাইভ

টপ