ভারপ্রাপ্তদের ভারে নাজুক বিমান

Send
চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ১০:০০, অক্টোবর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:০৯, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

বিমান বালাদেশ এয়ারলাইনস

সরকারি মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালনার জন্য রয়েছে আটটি পরিচালকের পদ। এসব পদে এমন লোকও নিয়োগ পেয়েছেন, যার এয়ারলাইনসে কাজ করার কোনও অভিজ্ঞতা নেই। এরইমধ্যে একজন পরিচালক অনিয়ম ও গাফিলতির কারণে চাকরি হারিয়েছেন। আটটি পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি বিভাগে পরিচালকের পদ শূন্য থাকছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এক বিভাগের পরিচালককে দিয়ে করানো হয় অন্য বিভাগের কাজ। মহাব্যবস্থাপক দিয়ে চলছে ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের কাজ। সবচেয়ে বেশি শোচনীয় অবস্থা বিরাজ করছে বিমানের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস,গ্রাহক সেবা ও পরিকল্পনা বিভাগে।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য রয়েছে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও পদ। দীর্ঘদিন ধরে এ পদগুলোও চলে আসছে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে। আর এই ভারপ্রাপ্তদের ভারে বিমানে বিরাজ করছে নাজুক পরিস্থিতি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রতিষ্ঠা ১৯৭২ সালের ৪ জানুয়ারি। শুরুর দিকে মোটামুটি নিজস্ব নিয়ম-কানুনের মাধ্যমেই চলছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় বিভিন্ন রকম দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায় অহরহ। এছাড়াও কর্মী সংকটের কারণে এক ব্যক্তির একাধিক পদে দায়িত্ব পালন করার ঘটনা ঘটছে। গত ৫/৬ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৮ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত এমডি ও সিইও ছিলেন মোসাদ্দিক আহমেদ। ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত এ পদে ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক কাইল হেউড। তারপর ভারপ্রাপ্ত এমডি ও সিইও হিসেবে দায়িত্বে আসেন উইং কমান্ডার (অব.) আসাদুজ্জামান। বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক পদের পাশাপাশি এমডি হিসেবে তিনি ২০১৬ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর একই পদে  আবারও নিয়োগ পান মোসাদ্দিক আহমেদ,তিনি ২০১৬ সালের ১ জুন থেকে ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত একটানা দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দুর্নীতির অভিযোগে মোসাদ্দিককে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে আসেন ফ্লাইট অপারেশন বিভাগের পরিচালক ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল। তিনি দায়িত্ব পালন করেন এ বছরের ১ মে থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

এরপর এমডি ও সিইও পদে নিয়োগের জন্য গত ১২ মার্চ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিমান। সূত্র জানায়, ১২ জন বিদেশিসহ প্রায় ৭০ জন প্রার্থী আবেদনপত্র জমা দেন। তবে পছন্দমতো লোক না পাওয়ায় গত ৩ সেপ্টেম্বর বিমানের বোর্ড মিটিংয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোকাব্বির হোসেনকে এমডি ও সিইও পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব ওঠে। ১২ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত সচিব মো.মোকাব্বির হোসেনকে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য আটটি বিভাগের আটটি পরিচালক পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে বিভাগগুলো চলছে জোড়াতালি দিয়ে। এ সুযোগে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও আছে বিমানে। এ বছরই এমন  ‍দুটি ঘটনাও ঘটেছে।

বিমানের একটি সূত্র জানায়, এয়ারলাইনসে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকলেও চলতি বছর এয়ার কমোডর (অব.) মো. মাহবুব জাহান খান ও গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) খন্দকার সাজ্জাদ রহিমকে পরিচালক পদে নিয়োগ দেয় বিমান। মো. মাহবুব জাহান খান দায়িত্ব পান পরিকল্পনা বিভাগের, আর খন্দকার সাজ্জাদ রহিম দায়িত্ব পান ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক পদে। তবে এরইমধ্যে অনিয়ম ও গাফিলতির কারণে চাকরি হারিয়েছেন খন্দকার সাজ্জাদ রহিম বলে বিমানের ওই সূত্রটি জানিয়েছে।

বিমানের আটটি বিভাগ হচ্ছে—প্রশাসন,মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস, গ্রাহকসেবা, পরিকল্পনা, অর্থ, ফ্লাইট অপারেশনস,ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট ও প্রকিওরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট বিভাগ।

প্রশাসন বিভাগ

বিমানের প্রশাসনিক সব সিদ্ধান্ত আসে এ বিভাগ থেকে। এ বিভাগের প্রধান হিসেবে রয়েছে পরিচালক পদ। এ পদে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন সরকারের একজন যুগ্ম সচিব। গত ২৪ মার্চ থেকে উপ সচিব পদমর্দার কর্মকর্তা জিয়াউদ্দিন আহমেদকে নিয়োগ দেয় সরকার। সম্প্রতি তিনি যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন।

বিমান বাংলাদেশএর আগে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত প্রায় সাত মাস এ পদে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন বিমানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ট্রেনিং সেন্টারের (বিএটিসি) প্রিন্সিপাল পার্থ কুমার পণ্ডিত।

২০১৭ সালের ৫ মার্চ থেকে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রশাসনিক বিভাগের পরিচালক পদে ছিলেন মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম। ২০১৬ সালের ২৬ মে থেকে ২০১৭ সালের ২ মার্চ পর্যন্ত এ পদে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো.বেলায়েত হোসেন। সে সময় তিনিও একইসঙ্গে পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বেও ছিলেন।

মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগ

বিমানের টিকিট বিক্রি ও কার্গো পরিবহন পরিচালনা করা হয় এ বিভাগ থেকে। এ বিভাগের শীর্ষ পদে রয়েছেন একজন পরিচালক। বর্তমানে এ বিভাগের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বারবার হোঁচট খেতে হচ্ছে বিমানকে। ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব আসেন আলী আহসান বাবু। এর আগে তিনি ছিলেন কার্গো শাখার জেনারেল ম্যানেজার। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ ওঠায় গঠিত হয় একাধিক তদন্ত কমিটি। তবে কোনও কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনই আলোর মুখ দেখেনি। ২০১৯ সালে ৭ মে তাকে এ বিভাগ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আলী আহসান বাবু চলে যাওয়ার পর এ বিভাগে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান ঢাকা জেলা সেলসের মহাব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম। তার বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে ওএসডি করা হয়।

এরপর পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক এয়ার কমোডর (অব.) মাহবুব জাহান খান গত ১৭ এপ্রিল ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে এ বিভাগের দায়িত্ব পান। আর গত ২৭ আগস্ট ঢাকা জেলা সেলসের মহাব্যবস্থাপক মো. শওকত হোসেনকে বদলি করে বিক্রয় বিভাগের মহাব্যবস্থাপক করা হয়। একইসঙ্গে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অর্থ বিভাগ

২০১০ সালের ১ জুন থেকে ২০১৩ সালের ২৯ মে পর্যন্ত চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (পরিচালক, অর্থ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কামাল উদ্দিন আহমেদ। এরপর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে আসেন এএসএম মনজুর ইমাম,তিনি ২০১৩ সালের ৩০ মে থেকে ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত এ পদে ছিলেন মোসাদ্দিক আহমেদ। এরপর নিয়োগ পান ভারতীয় নাগরিক ভিনীত সুদ। তিনি ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

ফ্লাইট অপারেশন বিভাগ

২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত এ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন ক্যাপ্টেন ইশরাত আহমেদ। এরপর দায়িত্ব পান ক্যাপ্টেন দিদার আহমেদ তোফায়েল।তিনি ২০১৪ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০১৫ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এ পদে আসেন ক্যাপ্টেন সরকার কামাল সাঈদ,তিনি ২০১৬ সালের ৮ মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর এ বিভাগের পরিচালক পদে আসেন ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল। তিনি ২০১৬ সালের ৮ মে থেকে পরিচালকের দায়িত্বে আছেন।

বলাকা, বিমানের প্রধান কার্যালয়মূলত ফ্লাইট অপারেশন বিভাগ থেকেই পাইলটদের ডিউটি বণ্টন,ফ্লাইট সেফটি, ফ্লাইট প্ল্যানসহ ফ্লাইট ও পাইলট সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এ বিভাগের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও পদের দায়িত্ব দেওয়া হয় ফারহাত হাসান জামিলকে।

বিমানের সূত্র জানায়, গত ৩০ এপ্রিল অনিয়মের অভিযোগে বিমানের এমডি ও সিইও এএম মোসাদ্দিক আহমেদকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিলকে এ পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গ্রাহক সেবা বিভাগ

এ বিভাগ দীর্ঘ সময় ধরেই চলছে ‘ভারপ্রাপ্ত’ অথবা ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ দিয়ে। কখনও অন্য বিভাগের পরিচালককে দেওয়া হয়েছে এ বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্ব। আবার কখনও মহাব্যবস্থাপককে করা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক।

২০১৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ছিলেন আব্দুল্লাহ আল হাসান। গ্রাহক সেবা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আতিক সোবহান ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে এ বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর ফ্লাইট অপারেশনস বিভাগের পরিচালক ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এ বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

এরপর ২০১৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন আলী আহসান বাবু। তার উত্তরসূরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মমিনুল ইসলাম,তিনি ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে এ বছরের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত এ বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর আবারও গ্রাহক সেবা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আতিক সোবহান ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে এ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল থেকে তিনি এ বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন।

ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট বিভাগ

২০০৯ সালের ৮ এপ্রিল থেকে ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ বিভাগে পরিচালক পদে ছিলেন উইং কমান্ডার (অব.) এম এম আসাদুজ্জামান। এরপর ২০১৭ সালের ২ মে থেকে ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রধান প্রকৌশলী জিএম ইকবাল ।

২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল পরিচালক হিসেব দায়িত্বে আসেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) খন্দকার সাজ্জাদুর রহিম। জিএম ইকবাল ফিরে যান স্বপদে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইজিপ্ট এয়ারের কাছ থেকে লিজ নেওয়া দুটি উড়োজাহাজ ফেরত সংক্রান্ত বিষয়ে গাফিলতির কারণে ৪ সেপ্টেম্বর চাকরি হারান খন্দকার সাজ্জাদুর রহিম। একই ঘটনায় প্রধান প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস) গাজী মাহমুদ ইকবালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ফ্লাইট অপারেশন বিভাগের পরিচালক ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিলকে অতিরিক্ত দায়িত্বে এ বিভাগের পরিচালক করা হয়েছে।

পরিকল্পনা বিভাগ

২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট থেকে ২০১৭ সালের ২ মার্চ পর্যন্ত পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন বেলায়েত হোসেন। এ পদে থাকা অবস্থায় তিনি ২০১৬ সালের ২৬ মে থেকে ২০১৭ সালের ২ মার্চ পর্যন্ত প্রশাসন বিভাগের পরিচালক হিসেবেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর অর্থ বিভাগের পরিচালক ভিনীত সু্দ অতিরিক্ত দায়িত্বে ২০১৭ সালের ২২ মার্চ থেকে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত এ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৮ সালের ৩০ মে থেকে এ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বে আছেন এয়ার কমোডোর (অব.) মাহবুব জাহান খান ।

প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট বিভাগ

চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল থেকে এ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বে আছেন মমিনুল ইসলাম। তিনি এর আগে ২০১৭ সালের ২ জুলাই থেকে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে এ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গ্রাহক সেবা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আতিক সোবহান। ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। সেসময় একইসঙ্গে তিনটি পদের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তখন তার মূল পদ ছিল গ্রাহক সেবা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক।এরপর তাকে করা হয় গ্রাহক সেবা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক, সঙ্গে যোগ হয় প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব।

বিমানের একাধিক মহাব্যবস্থাপক ও পরিচালক জানিয়েছেন,একই ব্যক্তি একাধিক দায়িত্ব পালন করায় গতি বাড়ছে না বিমানে পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে। কারণ, এক ব্যক্তি যখন এক বিভাগের মিটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তখন অন্য বিভাগের দৈনন্দিন কাজ আটকে যায়। তারা আরও মনে করেন, একইসঙ্গে একই ব্যক্তি একাধিক পদে থাকায় স্বেচ্ছাচারিতা,অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়।

এ প্রসঙ্গে বিমান পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিমানে আটটি পরিচালক পদের মধ্যে কয়েকটি পদ শূন্য আছে। এ মুহূর্তে বিমানে এমন কোনও কর্মকর্তা নেই, যাদেরকে দায়িত্ব দিয়ে এ পদগুলো পূরণ করা যাবে, তাদের সেই কোয়ালিফায়িং সার্ভিসও হয়নি। এ শূন্যতা বিরাজ করছে বিমানের কারণে। এর আগে যারা বিমান পরিচালনা করেছেন, তারা নিচের পদের অফিসারদের তৈরি করে ওপরে নিয়ে আসেননি। যথা সময়ে নিয়োগ,পদোন্নতি হয়নি, যার কারণে এ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের একজন কর্মকর্তাকে সেখানে পরিচালক করে নেওয়া হয়েছে, যিনি পরিচালক প্রশাসন হিসেবে কাজ করছেন। একইভাবে এ পদগুলো পূরণের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল।বেশ কিছু ব্যক্তির সাক্ষাৎকারও আমরা নিয়েছিলাম। কিন্তু যে মানের আমরা চাচ্ছিলাম, সেরূপ কাউকে আমরা পাইনি।’

সমাধান প্রসঙ্গে মো.মহিবুল হক বলেন,‘এ পদগুলো পূরণ করার জন্য বিমান অথবা সরকার অন্যভাবে চিন্তা করতে পারে। এখন যারা কাজ করছেন তাদের নয়, ব্যর্থতা বিমানের। আমরা এখন চেষ্টা করছি— প্রত্যেক লেভেলে যথা সময়ে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য। আমরা আশা করছি, ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে বিমানের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পদোন্নতি দিয়ে নিয়োগের জন্য কর্মকর্তা খুঁজে পাবো।’

 

/এপিএইচ/টিএন/

লাইভ

টপ