গণপূর্তের উন্নয়ন কাজে ধীরগতি দেখে সংসদীয় কমিটির ক্ষোভ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৪৯, অক্টোবর ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৩, অক্টোবর ২০, ২০১৯

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলোর ধীরগতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। একইসঙ্গে  চলমান সব প্রকল্প দ্রুত শেষ করার তাগাদা দিয়েছে। রবিবার (২০ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ তাগাদা দেওয়া হয় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পসহ বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কাজ শেষ করার পরামর্শ দেন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও এর অধীন সংস্থাগুলোর বর্তমানে ৯৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। এর মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে ৪৪টি এবং বাকি ৫৪টি সরকারি ও বৈদেশিক অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

রবিবারের বৈঠকে গণপূর্তের যেসব উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে, তার অনেকগুলোই কাজের গতি খুবই ধীর। বেশ কয়েকটি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তা আবারও বাড়ানো হয়েছে।

কার্যপত্রে দেখা গেছে, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়িত রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ জুন ২০১৯ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ওই সময় পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে জুন ২০২০ পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।  জুন ২০২০ সালে শেষ হওয়ার জন্য নির্ধারিত রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ৩ বছর মেয়াদি আরও দুটি প্রকল্পের মধ্যে অগ্রগতি যথাক্রমে ২৪ শতাংশ ও ২৫ শতাংশ। এছাড়া, এ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত একটি আবাসিক এলাকার উন্নয়ন প্রকল্প ৭ বছরের ৬ বছরে ৭ শতাংশ।

গত জুনে শেষ হওয়ার সময় নির্ধারিত থাকা খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি প্রকল্পের অগ্রগতি ৬ বছরে মাত্র ২৮ শতাংশ। অবশ্য এই প্রকল্পের মেয়াদ ইতোমধ্যে দেড় বছর বাড়িয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বর সময় পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম শহরের একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি ১৮ শতাংশ। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছর জুনে শেষ হওয়ার কথা। চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের প্রথম দুই বছরে কাজ হয়েছে মাত্র ১৭ শতাংশ।

ঢাকার ঝিলমিল প্রকল্পের আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার উন্নয়নে নেওয়া ৪ বছর মেয়াদি প্রকল্পের প্রথম দুই বছরে কাজ হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। উত্তরা আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্পে ৭ বছরে ৪০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। এই প্রকল্পের মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় তা বাড়িয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ২৪ বছরে ভৌত অগ্রগতি ৬৪ শতাংশ। আগামী জুনে এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। ৫ বছর মেয়াদি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের স্বল্প আয়ের মানুষের উন্নত জীবন ব্যবস্থা প্রকল্পের ৪ বছরে অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ।

এদিকে, কমিটির আগের বৈঠকে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের টাউনশিপ ডেভেলেপমেন্ট করার উদ্দেশ্যে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য দেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা নিলে তাতে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। এর পদক্ষেপ হিসেবে রবিবারের বৈঠকে কমিটি জানিয়েছে ভবিষ্যতে ভ্রমণ পরিকল্পনা করার সময়ে সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য ও গণপূর্তমন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, বজলুল হক হারুন, মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, আনোয়ারুল আশরাফ খান, জোহরা আলাউদ্দিন ও বেগম ফরিদা খানম অংশ নেন।

বৈঠকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে— রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য সংস্থাকে কমিটি  স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

/ইএইচএস/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ