বোরহানউদ্দিনের ঘটনায় দাবি-দাওয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিবেচনা করবে: বরিশালের ডিআইজি

Send
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:৪২, অক্টোবর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫২, অক্টোবর ২১, ২০১৯

ভোলার বোরহানউদ্দিনে সহিংসতাপুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সঙ্গে জনতার সংঘর্ষে চার জন নিহতের ঘটনায় ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে যে ছয় দফা দাবি তোলা হয়েছে, সেব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেবে। সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে  ভোলা সার্কিট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা জানান।

এর আগে আজ সোমবার সকালে ভোলা প্রেসক্লাবে ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ’ ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে বক্তারা ইসলাম নিয়ে ব্যঙ্গ ও কটূক্তিকারীর ফাঁসির আইন পাসসহ ছয় দফা দাবি তোলেন। ‘কটূক্তিকারী’ বিপ্লবের ফাঁসি, নিহতদের ক্ষতিপূরণ, আহতদের চিকিৎসা, গ্রেফতারদের মুক্তিসহ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়। এছাড়াও আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মানা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। এরপরই ডিআইজির সংবাদ সম্মেলন হয়।

বোরহানউদ্দিনে সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের আগে কিছুই বলা যাবে না। তদন্তের ফলাফলের পর যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আইনের মধ্যে চলে। কেউ আইনের বাইরে নয়, আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন প্রযোজ্য।’

ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের ওই বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা হাইলি টেকনিক্যাল বিষয়। বোরহানউদ্দিনের ফেসবুকের বিষয় ঢাকায় বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সেখানের ফলাফল পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ভোলার বোরহানউদ্দিনে বিক্ষোভ ও সহিংসতা

উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর নিজের ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার অভিযোগে ভোলার বোরহানউদ্দিন থানায় জিডি করেন বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য (২৫) ওরফে শুভ।   তার অ্যাকাউন্টের ম্যাসেঞ্জার থেকে  ‘মহানবীকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য’ ছড়িয়ে সেই ‘স্ক্রিনশট’ ব্যবহার করে গত শুক্রবার থেকে বোরহানউদ্দিনে উত্তেজেনা সৃষ্টির অভিযোগ করা হয়।পুলিশ বিপ্লবের অ্যাকাউন্ট হ্যাকের প্রমাণ পায় এবং দুই জনকে গ্রেফতার করে। তবে ফেসবুকে কথিত বক্তব্যের জেরে একটি পক্ষ উত্তেজনা ছড়ায়। রবিবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বোরহানউদ্দিন উপজেলা সদরের ঈদগাহ মাঠে প্রতিবাদ সভার ঘোষণা দেওয়া হয়। পুলিশ সেখানে সতর্ক অবস্থান নিলেও একটি গ্রুপ ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করে মানুষকে উত্তেজিত করতে থাকে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও গুলি চালায়। এই ঘটনায় চার জন নিহত হন। আহত হন ১০ পুলিশসহ প্রায় দেড় শতাধিক লোক।

সহিংসতার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজিকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সারাদেশে পুলিশকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দফতর থেকে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় ভোলা জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার উপপরিচালক মামুদুর রহমানকে প্রধান করে ওই দিনই (রবিবার) তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন−অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইটি অ্যান্ড এডুকেশন) আতাহার মিয়া ও ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মহসিন আল ফারুক।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত পাঁচ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। রবিবার (২০ অক্টোবর) রাতে বোরহানউদ্দিন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবিদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে ভোলা জেলায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। সোমবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।

আরও পড়ুন- 

বোরহানউদ্দিনে পুলিশ-এলাকাবাসী সংঘর্ষে নিহত ৪, অর্ধশতাধিক আহত 

যেভাবে বোরহানউদ্দিনে হামলা-সংঘর্ষ

বিপ্লবের আইডি হ্যাক হয়েছিল: পুলিশ সুপার

বোরহানউদ্দিনে সংঘর্ষ: পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে মামলা

ভোলায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

ভোলার ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় নয়: প্রধানমন্ত্রী

ভোলার ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের ব্যাখ্যা: ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

/এফএস/

লাইভ

টপ