টেলিভিশন সেটের লাইসেন্স ফি আদায় চায় সংসদীয় কমিটি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৩৬, অক্টোবর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩৮, অক্টোবর ২১, ২০১৯





আবাসিক ভিত্তিতে ব্যবহৃত টেলিভিশনের বিদ্যমান লাইসেন্স ফি আদায় কার্যক্রম জোরদার চায় সংসদীয় কমিটি। কমিটির মতে, যথাযথ মনিটরিংয়ের আওতায় এনে লাইসেন্স ফি আদায় করা গেলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের আয় বাড়বে। সোমবার (২১ অক্টোবর) তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়টি পর্যালোচনা করে কমিটিকে প্রতিবেদন দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সদস্য কাজী কেরামত আলী, আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক), মমতা হেনা লাভলী ও সালমা চৌধুরী অংশ নেন। বৈঠকে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান অংশ নেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য মমতা হেনা লাভলী বলেন, ‘লাইসেন্স ফি’র বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়কে এটি পর্যালোচনা করে দেখতে বলা হয়েছে।’

এদিকে, সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, টেলিভিশন সেটের ওপর লাইসেন্স ফি পুনঃধার্যের বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি প্রস্তাব কমিটির কাছে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে।

আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতের টেলিভিশনের লাইসেন্স ফি আদায়ে ব্রিটিশ আমলের ‘দ্য ওয়্যারলেস টেলিগ্রাফি অ্যাক্ট-১৯৩৩’ আইনের অধীনে ‘দ্য টেলিভিশন রিসিভিং অ্যাপারেটাস (পজেশন অ্যান্ড লাইসেন্সিং) রুলস, ১৯৭০’ প্রণীত হয়। এই বিধিমালার অধীনে আবাসিক ভিত্তিতে ব্যবহৃত টেলিভিশন ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত টেলিভিশনের লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

পরবর্তীকালে ১৯৯৩ সালে টেলিভিশন, ভিসিআর ও স্যাটেলাইট টিভি রিসিভারের ফি নির্ধারণ করে তা আদায় জোরদার করা হয়। এ সময় এক শ্রেণির প্রতারকচক্র আবাসিক টেলিভিশনের মালিকদের বাড়িতে গিয়ে ফি আদায়ের নামে প্রতারণা শুরু করে। পরে বিষয়টি সরকারের নজরে আসায় বার্ষিক ফি আদায়ের এই কার্যক্রমের পরিবর্তে টেলিভিশন কেনার সময় এককালীন তিন বছরের আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সরকারের মনিটরিংয়ের অভাবে এটিও ফলপ্রসূ হয়নি।

এদিকে লাইসেন্স ফি আদায় কার্যক্রম জোরদার না হলেও ২০১৪ সালে সরকার আরেক দফায় লাইসেন্স ফি বাড়িয়ে পুনঃনির্ধারণ করে। ওই সময় আবাসিক ভিত্তিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরন ও পরিমাপের টিভি সেটের পুনঃনির্ধারিত এককালীন আবাসিক টেলিভিশন লাইসেন্স ফি সাদাকালো টিভি ৬০০ টাকা, সাধারণ রঙিন টিভি ২১ ইঞ্চি পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ টাকা, সাধারণ রঙিন টিভি ২২ ইঞ্চি বা তদূর্ধ্ব ১ হাজার ৮০০ টাকা, এলসিডি/এলইডি টিভি ২১ ইঞ্চি পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ টাকা, এলসিডি/এলইডি টিভি ২২ থেকে ৩৬ ইঞ্চি পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং এলসিডি/এলইডি টিভি ৩৭ ইঞ্চি বা তদূর্ধ্ব ৩ হাজার টাকা পুনঃনির্ধারণ করা হয়।

এই লাইসেন্স ফি টেলিভিশন বিক্রেতাদের বিক্রির সময় গ্রাহকদের থেকে মূল্যের সঙ্গে গ্রহণ করে সরকারের সংশ্লিষ্ট কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সরকারের মনিটরিংয়ের অভাবে লাইসেন্স ফি গ্রহণের আইন কার্যকর থাকলেও সেই অর্থে বাস্তবায়ন নেই। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত টেলিভিশন সেট ও স্যালেটাইট নেটওয়ার্ক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে লাইসেন্স ফি আদায়ের বিষয়টি চালু রয়েছে।

এছাড়া, বৈঠকে তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে একটি অনুরোধপত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এছাড়া, কমিটিতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশনের সংযোগ স্থাপন এবং সম্প্রচারের ক্ষেত্রে চ্যানেল ক্রম ধারায় দেশি চ্যানেলগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

/ইএইচএস/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ