‘দেশকে এগিয়ে নিতে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে কাজ করতে হবে’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৩২, অক্টোবর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫০, অক্টোবর ২২, ২০১৯




সামাজিক মূল্যবোধ ও সচেতনতা তৈরিতে নবীন ও প্রবীণদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম। তিনি বলেন, সামাজিক মূল্যবোধ না থাকায় সমাজ ও পরিবারে অশান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রে নবীনরা প্রবীণদের শ্রদ্ধা করছে না। আবার প্রবীণরাও অনেকক্ষেত্রে নবীনদের ওপর অসন্তুষ্ট থাকেন। তবে দেশকে এগিয়ে নিতে নবীন ও প্রবীণদের নিয়ে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে কেউ দেশের বোঝা না।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বয়সের সমতার পথে যাত্রা-২০১৯’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে ফোরাম ফর দ্য রাইটস অফ দ্য এল্ডারলি-বাংলাদেশ (এফআরইবি)।

মূল্যবোধের অবক্ষয়ের বিষয়টি তুলে ধরে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানের সবাই মেধাবী। তাদের একবারও মনে হলো না যে, আর পেটানো যাবে না, ছেলেটা মরে যেতে পারে। আমাদের মানবিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় কারণেই এমন হচ্ছে।

মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ সৃষ্টিতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মানবাধিকার কমিশন কাজ করবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন এখন নতুনভাবে কাজ করবে। মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ তৈরিতে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করবে কমিশন।

প্রবীণদের সম্মানের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সমাজের বয়স্কদের সম্মান করতে হবে। তাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা যাবে না।

অনুষ্ঠানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, সরকার শিশু ও নারীবন্ধব সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে প্রবীণদের নির্যাতনের বিষয়ে কেউ কখনও ভাবে না। প্রবীণদের জন্য অবশ্যই রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে।

আলোচনা সভায় প্রবীণদের চাহিদা এবং প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে ১২ দফা দাবি তোলে আয়োজক সংগঠনটি। তাদের দাবিগুলো হলো— ষাটোর্দ্ধ প্রবীণদের জন্য বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা; প্রবীণদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা; শারীরিক, মানসিকভাবে অক্ষম এবং অসমর্থ প্রবীণদের জন্য ব্যক্তিগত সেবার ব্যবস্থা করা; প্রবীণদের যাতায়াত সহজ এবং সুগমের জন্য প্রবীণবান্ধব যানবাহনের ব্যবস্থা করা; শারীরিক ও মানসিকভাবে অক্ষম ষাটোর্দ্ধ প্রবীণদের জন্য অর্থকরী কাজের ব্যবস্থা করা; সক্ষম প্রবীণদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা; অক্ষম, অসহায় ও সন্তানহীন প্রবীণদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক এবং যথোপযুক্ত প্রবীণ নিবাসের ব্যবস্থা করা; দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা; প্রবীণদের সুরক্ষার জন্য দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে অন্যান্য কমিটির ন্যায় প্রবীণ কমিটি চালু করা; চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি করা।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি সাইফুল আলম, ফোরাম ফর দ্য রাইটস অব দ্য এল্ডারলি বাংলাদেশের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাই দাস এবং মহাসচিব আবুল হাসিব খান প্রমুখ।

 

/এইচএন/টিটি/

লাইভ

টপ