ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে শ্রম আইন সংশোধনের পরামর্শ

Send
শেখ শাহরিয়ার জামান
প্রকাশিত : ০৯:৫৫, অক্টোবর ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৪, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের বাজারের নতুন শুল্কমুক্ত সুবিধা নীতিমালা (ইবিএ) তৈরি করছে। বাংলাদেশের জন্য এই সুবিধা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে আগামী এক বছরের মধ্যে শ্রম আইন, শ্রম নীতিমালা ও ইপিজেড শ্রম আইন সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলোর এই জোট।

বাংলাদেশ-ইইউ যৌথ কমিশনের সোমবারের (২১ অক্টোবর) বৈঠকে এই পরামর্শ দেওয়া হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছে ইইউ। ২০২৩ সালের মধ্যে ইবিএ তৈরি করবে তারা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন কর্মকতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধার বিষয়টি নির্ভর করবে আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে ইইউ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ কীভাবে দর কষাকষি করবে, তার ওপর।’

শুল্কমুক্ত সুবিধার বিষয়টি ইউরোপিয়ান সংসদে চূড়ান্ত হবে এবং এ কারণে আমাদের ইইউ-এর প্রতিটি দেশের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে হবে তিনি জানান।

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ইইউ-এর অনেক বিষয় নিয়ে প্রকৃত উদ্বেগ আছে এবং এগুলোর সংশোধন করছে বা করতে চায় বাংলাদেশ, এমন একটি বার্তা দেওয়ার প্রয়োজন আছে যাতে করে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়।’

২০০১ সালে যখন বাংলাদেশ-ইইউ সহযোগিতা চুক্তি সই হয়েছিল, তখন উন্নয়ন সহায়তার বিষয়টি প্রধান্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমানে বিদেশি সহায়তার পরিমাণ দেশের মোট উৎপাদনের দশমিক ৫ শতাংশও নয় এবং এ বিষয়ে দুই পক্ষের আগ্রহ অনেক।

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আগ্রহী এবং অন্যদিকে ইইউ মানবাধিকার, শ্রম অধিকার, আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে আগ্রহী।’

বাংলাদেশ যত উন্নত হবে, এই ধরনের সামাজিক বিষয়গুলো তত বেশি সামনে আসবে এবং সরকারকে এটি সামাল দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কনভেনশন বাস্তবায়নে ইইউ-এর পক্ষ থেকে তাগাদা দেওয়া হলে বাংলাদেশ এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নিচ্ছে, সেটি জানানো হয়।’

তিনি বলেন, ইইউ-এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সময়ভিত্তিক একটি রোডম্যাপের কথা বলা হয়েছে এবং এখন সরকার সবার সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

এই কর্মকর্তার মতে, বাংলাদেশ ইচ্ছা করলেও উন্নত বিশ্বের মতো শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। এজন্য আমাদের সময় দরকার।

তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রম আইন ৫ বার সংশোধন করেছি এবং প্রয়োজন হলে আবার করা হবে বলে ইইউকে জানানো হয়েছে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাব

বৈঠকে ইইউ-এর পক্ষ থেকে যৌথ কমিশনের সভা প্রতিবছর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যাতে করে দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রে আলোচনা জোরদার হয়। এছাড়া যৌথ কমিশনের বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আলাপ করতে আগ্রহী ইইউ।

এ বিষয়ে একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে উন্নয়ন সহযোগিতার পরিমাণ অত্যন্ত কম এবং যেসব বিষয় নিয়ে যৌথসভায় আলোচনা হয়, সেগুলোর বেশির ভাগ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়।’

প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজ করার একটি পরিধি আছে এবং এর বাইরে গিয়ে তাদের কথা বলার অধিকার থাকে না। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়সহ সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করার অধিকার রাখে বলে তিনি জানান।

সোমবার দিনব্যাপী যৌথ কমিশনের ওই বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচিব মোহাম্মাদ আশাদুল ইসলাম নেতৃত্ব দেন। দুপুরের পর বৈঠকে যোগ দেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখার জন্য প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশ আছে এবং এ বিষয়ে আমরা তৎপর।’

গত মে মাসে লন্ডনে অনুষ্ঠিত এনভয় কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী নতুন কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শহীদুল হক বলেন, ‘ইইউ-এর সঙ্গে সব বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই, যাতে করে ওই অঞ্চলে আমরা যে সুবিধা পাই, তা অব্যাহত থাকে।’

/এইচআই/এমএমজে/

লাইভ

টপ