সড়ক পরিবহন আইন ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৪৩, অক্টোবর ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৪, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

গেজেটঅবশেষে আলোর মুখ দেখেছে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’। ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন’টি কার্যকরের গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী আইনে কোনও ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই ২২ অক্টোবর (মঙ্গলবার) এই আইনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।

এরআগে, জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর গত বছরের ৮ অক্টোবর ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ এর গেজেট প্রকাশিত হয়।
সড়ক-মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলামের স্বাক্ষর করা গেজেটে বলা হয়েছে, এসআরও নং ৩৩৩-আইন/২০১৯, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ (২০১৮ সনের ৪৭ নং আইন)’-এর ধারা ১-এর উপধারা (২)-এ ক্ষমতাবলে সরকার  চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে এই আইন কার্যকর  হবে।

এই গেজেট অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর থেকে সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা রইলো না।

এই আইনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ডের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধানসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা রাখা হয়েছে। এসব ধারার মধ্যে অধিকাংশের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন পরিবহন শ্রমিক-মালিকরা।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-বিল’টি সংসদে তোলা হয়। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর তা সংসদে পাস হয়। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর ৮ অক্টোবর আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এর আগে একই বছরের ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয় ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’। তবে আইনটির ১-এর (২) ধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির গেজেটের পর আইনটি কার্যকর করতে সরকারের পক্ষ থেকেও গেজেট প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু মালিক শ্রমিকদের আপত্তির কারণেই এতদিন সরকার সেই গেজেট প্রকাশ করেনি। এ কারণেই এতদিন কার্যকর হয়নি আইনটি। অবশেষে  আইনটি কার্যকর করতে গেজেট প্রকাশ করলো সরকার।

এদিকে, গত ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী ৬টি নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনাগুলো হলো—১. দূরপাল্লার গাড়িতে বিকল্প চালক রাখতে হবে। ২. একজন চালক দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাবেন না, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ৩. গাড়ির চালক ও তার সহকারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ৪. নির্দিষ্ট দূরত্বে সড়কের পাশে সার্ভিস সেন্টার বা বিশ্রামাগার তৈরি করতে হবে। ৫. অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাস্তা পারাপার বন্ধ করতে হবে বা সিগন্যাল মেনে পথচারী পারাপারে জেব্রাক্রসিং ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ৬. চালক ও যাত্রীদের সিটবেল্ট বাঁধা নিশ্চিত করতে হবে।

সড়ক পরিবহন আইনে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হচ্ছে- এই আইনের ১০৫ ধারায় বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে এবং সেই দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, ৯৮ ধারায় সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। আর গাড়ি চালিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যা করলে বা ইচ্ছাকৃত দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ক্ষেত্রে ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে সড়ক পরিবহন আইনে।

আইনের ৬ ধারার (ক) উপধারায় বলা হয়েছে, অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বয়স হতে হবে ন্যূনতম ১৮ বছর, পেশাদারদের ক্ষেত্রে ২০ বছর। একই ধারার (গ) উপধারায় বলা হয়েছে, চালকের শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস। অন্যদিকে, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির জন্য ৯৮ ও ১০৫ ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্সের যোগ্যতার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে এই আইনের ৬ ধারায় ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে পেশাদার চালককে ৮ম শ্রেণি পাস ও বয়স ২১ বছর হতে হবে। এছাড়া, অপেশাদার চালকের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, হত্যার উদ্দেশ্যে গাড়ি চালানো হয়েছে বলে প্রতীয়মান হলে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলা হবে। এই আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। এক্ষেত্রে সংঘটিত দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হবে দুর্ঘটনার প্রকৃতি। প্রতিবেদনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পেলে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলা হবে। এই ধারায় শাস্তি সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আর তদন্ত প্রতিবেদনে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে হতাহতের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সড়ক পরিবহন আইনের ১০৩ ধারায় মামলা হবে। এই ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি হবে ৫ বছর জেল অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। অর্থদণ্ডের পরিমাণ আদালত নির্ধারণ করবেন।

তবে এই আইনে কয়েকটি ধারায় আপত্তি তুলেছিল মালিক শ্রমিকরা। আইনের বিষয়ে শ্রমিকদের দাবি ছিল সড়ক পরিবহন আইনের সব ধারা জামিনযোগ্য করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিকের কারাদণ্ডের মেয়াদ ৫ বছরের বিধান বাতিল করতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণির বদলে পঞ্চম শ্রেণি করতে হবে। আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ইচ্ছাকৃত দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধানেও পরিবর্তন আনতে হবে।

/এসআই/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ