ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে ‘হাফ বাংলাদেশি’ বলে বিতর্কে টিপু মুনশি

Send
রঞ্জন বসু, দিল্লি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:৪০, অক্টোবর ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪৯, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে রসিকতার ছলে ‘হাফ বাংলাদেশি’ বলে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। চূড়ান্ত নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি-বিতর্কের কেন্দ্রস্থল আসামের মাটিতে দাঁড়িয়ে টিপু মুনশি ওই মন্তব্য করায় বিপ্লব দেবের কথিত বাংলাদেশি যোগসূত্র বিতর্কের আগুনে যেন ঘি নিক্ষিপ্ত হয়েছে।

আসামের রাজধানী গৌহাটিতে প্রথম ‘ভারত-বাংলাদেশ স্টেকহোল্ডার্স সম্মেলনে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা থেকে এসেছিলেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ওই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভি কে সিং, আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত রিভা গাঙ্গুলি দাসসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘আপনাদের ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব—উনি তো হাফ বাংলাদেশি, আর হাফ ভারতের লোক।’

পরক্ষণেই কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো বলবো, উনার শরীরটা হয়তো ত্রিপুরায় থাকতে পারে, কিন্তু মন পড়ে থাকে বাংলাদেশে!’

ত্রিপুরার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর জন্ম বাংলাদেশে কিনা, এর আগে বিষয়টি নিয়ে ভারতে অনেক জলঘোলা হয়েছে। এমনকি, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বিষয়টি একবার খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বিপ্লববাবুর বাবা-মা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে চলে এসেছিলেন। ত্রিপুরার সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী ত্রিপুরার গোমতী জেলার জামজুড়ি গ্রামে ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর বিপ্লব বাবুর জন্ম হয়েছিল।

কিন্তু বছর দেড়েক আগে বিপ্লব বাবু যখন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হন, তখন থেকেই বিষয়টি নিয়ে বারবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বরাবরই বলে এসেছেন, তার জন্ম ভারতের মাটিতে এবং তিনি ভারতেরই বৈধ নাগরিক।

এই পটভূমিতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি যখন বিপ্লব বাবুকে ‘হাফ বাংলাদেশি’ বলে মন্তব্য করেছেন, স্পষ্টতই তা ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর অস্বস্তি বাড়িয়েছে।

বস্তুত ওই একই অনুষ্ঠানে বিপ্লব দেব নিজে যখন ভাষণ দেন, তখন নিজের কথিত ‘বাংলাদেশি যোগসূত্র’ নিয়ে একটি কথাও বলেননি তিনি।

টিপু মুনশির পরে বলতে উঠে বাংলাদেশের সঙ্গে ত্রিপুরার সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে নানা কথা বলেছেন ও প্রস্তাব দিয়েছেন বিপ্লব দেব। কিন্তু খুব সচেতনভাবে এড়িয়ে গিয়েছেন ‘হাফ বাংলাদেশি’ প্রসঙ্গ।

এদিকে, আসামের বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও পত্রিকা কিন্তু টিপু মুনশির ওই মন্তব্য নিয়ে হইচই বাঁধিয়ে দিতে দেরি করেনি। প্রাগ নিউজ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন আঞ্চলিক চ্যানেল ‘এ কী বললেন বাংলাদেশের মন্ত্রী’ শিরোনামে টিপু মুনশির বক্তব্যের ক্লিপ বাজাতে শুরু করে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) থেকেই।

আসামে কথিত অবৈধ বিদেশিদের শনাক্ত করার জন্য যে এনআরসি বা জাতীয় নাগরিক পঞ্জি তৈরি করা হয়েছে, তা নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরেও তর্ক-বিতর্ক চলছে বহুদিন ধরেই।

ভারত সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত আসাম চুক্তি অনুযায়ী, সে রাজ্যে যারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পরে এসেছেন, তারা বিদেশি বলে গণ্য হবেন। সে রাজ্যে কাউকে বাংলাদেশি বলে বর্ণনা করাটাও খুব স্পর্শকাতর ও সংবেদনশীল বিষয়। আর ঠিক এ কারণেই টিপু মুনশির মন্তব্য নিয়ে এত বিতর্ক হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী কিন্তু তার ভাষণে বিপ্লববাবুর তারিফ করেও অনেক কথা বলেছিলেন। যেমন, ‘এত সুদর্শন একজন পুরুষ (হ্যান্ডসাম গাই) তিনি। সেইসঙ্গে খুব ভালো একজন রাজনীতিবিদ।’ কিন্তু 'হাফ বাংলাদেশি' মন্তব্যের জেরে হারিয়ে গেছে সেই সব তারিফ। বিতর্ক চলছে শুধু ওই একটি মন্তব্য ঘিরেই!

/এমএ/

লাইভ

টপ