জাতিসংঘে বাংলাদেশের পাশে ভারত, বিপক্ষে অনড় চীন

উদিসা ইসলাম
০৪ অক্টোবর ২০২০, ০৮:০০আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২০, ০৮:০০

জাতিসংঘে বাংলাদেশের পাশে ভারত, বিপক্ষে অনড় চীন (বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ৪ অক্টোবরের ঘটনা।)

১৯৭২ সালের ৪ অক্টোবর জাতিসংঘে বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা নীতি-নির্ধারণী ভাষণ দেন এবং তারা বাংলাদেশের সদস্যভুক্তির বিষয়ে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি জাতিসংঘের সার্বজনীনতাকে সমুন্নত করবে বলে মন্তব্য করে ভারত। যদিও চীন বরাবরের মতো জাতিসংঘে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি বিপক্ষে অনড় ছিল। দেশটি ভেটোর অবস্থান থেকে না সরার বিষয়ে সুস্পষ্ট করে ঘোষণা দেয়।  এছাড়া ১৯৭২ সালের এইদিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘের বিশিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে বাংলাদেশের খাদ্য চাহিদা ও পরিবহন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের পাশে ভারত

বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি জাতিসংঘের সার্বজনীনতাকে সমুন্নত করবে বলে মন্তব্য করেন ভারতের মন্ত্রী শরণ সিং। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক নীতিনির্ধারণী ভাষণের ভারতীয় প্রতিনিধি দলের এই নেতা বিশ্বের মানচিত্রে সার্বভৌম রাষ্ট্র রূপে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রতি সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ দানের ব্যবস্থা করার জন্য আবেদনও জানান তিনি। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য নিরাপত্তা পরিষদকে সুপারিশ করার জন্য তিনি সদস্যদের অনুরোধ জানান। সাধারণ পরিষদের সেই অধিবেশনের বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করতে না পারায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি জাতিসংঘ পদ্ধতিকে অধিক শক্তিশালী করবে এবং জাতিসংঘের সর্বজনীনতা নীতিকে সমর্থন করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ব সংস্থায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে এবং এই এলাকার শান্তি সম্প্রীতি অর্জিত হবে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের পাশে ভারত, বিপক্ষে অনড় চীন

ভুমিকা বদলাবে না চীন

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে চীন দাবি করে,  বাংলাদেশের জনগণের জন্য চীন বন্ধুত্বের মনোভাব পোষণ করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে তাদের কোনও বিরূপ ধারণা নেই। তবে বিশ্ব সংস্থায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে চিন্তার আগের অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসবে না। জাতিসংঘ ও চীনের প্রধান প্রতিনিধি ও চীনা পররাষ্ট্র দফতরের মন্ত্রী চিয়াও কুয়ান হুয়া পরিষদে তার দেশের পক্ষে নীতি নির্ধারণী ভাষণ দেন।

খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে ইউএন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা

বঙ্গবন্ধু গণভবনে চার কর্মকর্তার সঙ্গে খাদ্য পরিস্থিতি ও সরবরাহ বিষয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায়  নিউইয়র্ক অফিসে বাংলাদেশের ত্রাণ তৎপরতা দায়িত্বে নিযুক্ত জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব জ্যাকসন, জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল আর্কহার্ট, জাতিসংঘের সেবা তৎপরতার প্রধান ল্যানাকি এবং ঢাকাস্থ অনরড প্রধান মি. উমব্রাইখট উপস্থিত ছিলেন। পরেরদিনের প্রথমসারির সবকয়টি দৈনিকে এ সংবাদ প্রকাশিত হয়।

ওয়াকিবহাল সূত্রের বরাত দিয়ে দৈনিক বাংলা জানায়, খাদ্য চাহিদা মেটানো ও পরিবহন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়েছে। এই টিম ফিরে গিয়ে সদর দফতরে তাদের প্রতিবেদন পেশ করবে। আলোচনা শেষে জ্যাকসন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের পাশে ভারত, বিপক্ষে অনড় চীন

চোরাকারবারি ঠেকাতে কঠের উদ্যোগ

চোরাচালানের সকল তৎপরতায় চিরতরে নির্মূল করার জন্য সীমান্ত এলাকায় খুব শিগগিরই নিরাপত্তা বাহিনী পাঠানো হচ্ছে এবং সীমান্তে চোরাচালান তৎপরতায় লিপ্ত কাউকে দেখামাত্র গুলি করা হবে। শেরপুরে এক জনসভায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম এ কথা বলেন। তিনি ঘোষণা করেন, যে কোনও ব্যক্তিকে চোরাচালান কালোবাজারি মজুতদারী ও মুনাফাখোরী তৎপরতায় লিপ্ত অবস্থায় পাওয়া গেলে তার প্রতি কোনও অনুকম্পা দেখানো হবে না। তিনি বলেন, যে কোনও এলাকায় যেকোনও সময়ে সান্ধ্য আইন জারি করা হবে এবং চোরাকারকারবারীদের খুঁজে বের করা হবে। সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণে ভারত সম্ভাব্য সকল সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও তিনি জানান।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের পাশে ভারত, বিপক্ষে অনড় চীন

৭ মার্চ প্রথম নির্বাচন

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করা হয়। শুধু প্রধান নির্বাচন কমিশনার এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বাকি ছিল। ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চে বিদ্রোহী বাংলার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্ঠে প্রথম উচ্চারিত হয় মুক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের যুগান্তকারী ঘোষণা। মাত্র এক বছরের মাঝেই সাম্রাজ্যবাদের প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় পাকিস্তানের কঠিন নাগপাশ থেকে মুক্ত ও স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত। এরমধ্যেই এক বছরের মাথায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রায় সকল প্রস্তুতিকাজ শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়,৩শ  আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের জন্য নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকাই আগামী সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচনি এলাকা হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

/এমআর/
সম্পর্কিত
মুজিববর্ষ উদযাপনে ব্যয় ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী
মুজিব বর্ষ উদযাপনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগের খরচ ১২৬১ কোটি
ভূমিহীনমুক্ত হচ্ছে সাতক্ষীরার ৬ উপজেলা, প্রস্তুত ৩৬৪টি ঘর
সর্বশেষ খবর
বিয়ের ছবি পোস্ট করে ওমর সানীর আবেগঘন বার্তা
বিয়ের ছবি পোস্ট করে ওমর সানীর আবেগঘন বার্তা
স্বপ্নের অভিষেকে জয়, কোমোর ইতিহাসের রাতে ফ্যাব্রেগাসের উচ্ছ্বাস
স্বপ্নের অভিষেকে জয়, কোমোর ইতিহাসের রাতে ফ্যাব্রেগাসের উচ্ছ্বাস
বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম আর নেই
বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম আর নেই
চাকরি হারালেই কি মার্কিন মুলুক ছাড়তে হবে দক্ষ কর্মীদের?
চাকরি হারালেই কি মার্কিন মুলুক ছাড়তে হবে দক্ষ কর্মীদের?
সর্বাধিক পঠিত
কানাডায় ববিতার ৩৬ ঘণ্টার সড়ক ভ্রমণ, সঙ্গে ছিলেন রাজ্জাকের ছেলে
কানাডায় ববিতার ৩৬ ঘণ্টার সড়ক ভ্রমণ, সঙ্গে ছিলেন রাজ্জাকের ছেলে
এক ভবন থেকে ৭০ বিদেশি নাগরিক আটক, কী করছিলেন তারা
এক ভবন থেকে ৭০ বিদেশি নাগরিক আটক, কী করছিলেন তারা
এখন সুযোগ পেলে কাকে নায়িকা হিসেবে চান আলমগীর, জানালেন নিজেই
এখন সুযোগ পেলে কাকে নায়িকা হিসেবে চান আলমগীর, জানালেন নিজেই
দৌলতদিয়ায় আতঙ্ক, কেন মারা যাচ্ছেন যৌনকর্মীরা? 
দৌলতদিয়ায় আতঙ্ক, কেন মারা যাচ্ছেন যৌনকর্মীরা? 
অন্যের স্ত্রীকে নিজের দাবি, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে এসে পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার
অন্যের স্ত্রীকে নিজের দাবি, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে এসে পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার