behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

জেলে থেকেও বেতন-ভাতা তুলেছেন জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা!

আশরাফ উদ্দিন সিজেল, ময়মনসিংহ০৯:৫৭, জানুয়ারি ২৮, ২০১৬

গ্রেফতার হয়েও বেতন-ভাতা তুলেছেন জামায়াতপন্থী শিক্ষকরাবিভিন্ন অভিযোগে পুলিশের  হাতে গ্রেফতার এবং মামলা থাকার পরেও নিয়মিত বেতন-ভাতা পেয়েছেন ময়মনসিংহের বেশ কয়েকজন শিক্ষক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারা সবাই উপজেলা জামায়াতের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। কিন্তু সরকারি আইনে কোনও শিক্ষক গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে গেলে, তিনি সাময়িক বহিষ্কার হবেন। মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।   
নাছির উদ্দিন ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার টাংগাব ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর। তিনি বাশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ২০১৫ সালের ২০ জুন তাকে পুলিশ গ্রেফতার করেন।
আড়াই মাস জেল হাজতে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। পরে গফরগাঁও থানা পুলিশ আদালতে বিস্ফোরক আইনে মামলার চার্জশিট দাখিল করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই জামায়াত নেতাকে বিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার তো দূরের কথা,তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল লতিফ বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,‘আমি নতুন মানুষ,অনেক কিছু জানা নেই।’ শিক্ষক নাছির উদ্দিনের  কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলেও  তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।

শুধু শিক্ষক নাছির উদ্দিন নয়, উপজেলার জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন শিক্ষক মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পরেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন ।

উপজেলার পাঁচবাগ ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক হাসিম উদ্দিন।  গ্রেফতার হয়ে তিন মাস জেল হাজতে ছিলেন তিনি। এরপরেও সরকারি সমুদয় বেতন-ভাতা নিয়মিতই তুলেছেন তিনি। গফরগাঁও অগ্রণী ব্যাংক থেকে গত আগষ্ট ও ডিসেম্বর মাসে তার একাউন্ট ( নং১২৩২৪) থেকে পুরো মাসের বেতন তুলেছেন।

গোপন বৈঠকের সময় গফরগাঁও থেকে জামায়াতের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশমাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওয়াহিদুজ্জামান সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে বেতন ভাতা উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিনিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি উলফত রানার সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মাদ্রাসার কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুছ সাত্তার ও মাদ্রাসার ডিজি প্রতিনিধি গফরগাঁও সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আবুল হোসেন জানান,তারা বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
একই চিত্র উপজেলার গয়েশপুর ফাজিল মাদ্রাসায়। এ মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক উপজেলা জামায়াতের সদস্য মাহমুদুল হাসান বিস্ফোরক দ্রব্য ও জিহাদি বইসহ গ্রেফতার হয়ে জেল খাটেন তিন মাস। জামিনে বেরিয়ে এলেও ওই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার করেনি। তিনি নিয়মিত বেতন ভাতা ভোগ করে যাচ্ছেন।
এ মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন বাদল মুঠোফোনে বুধবার জানান, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন।
গয়েশপুর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সাঈদ আহম্মেদ বলেন,আড়াই মাস আরবি প্রভাষক মাহমুদুল হাসান কোথায় ছিলেন তা আমরা জানতাম না। এ বিষয়ে তাকে নোটিশ করা হয়। এরপরেই আমরা জানতে পেরেছি, তিনি জেল হাজতে ছিলেন।
উপজেলার বিরুই কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে মামলা আছে। তবে তিনিও নিয়মিত বেতন ভাতা পাচ্ছেন।
গফরগাঁও উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন অভিযোগের দায় ম্যানেজিং কমিটির ওপর চাপিয়ে দিয়ে বলেন,‘এসব অভিযোগ আমার জানা নেই।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিদ্ধার্থ শংকর কুণ্ডু জানান,প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পেলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। তবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান লিখিতভাবে জানালে নিয়ম অনুসারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ময়মনসিংহ জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মামলা হওয়ার পর গ্রেফতার হলে সাময়িক বহিষ্কার থাকা অবস্থায় মূল বেতনের অর্ধেক টাকা পাবেন। দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে বহিষ্কার হলে সরকারি কোনও সুযোগ সুবিধা পাবেন না।

 

/এনএস/এমএসএম/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ