behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বিশ্বের জন্য প্রোগ্রামার তৈরি করছে বাংলাদেশ

হিটলার এ. হালিম১০:০৫, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৬





প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার লোগো২০২০ সালে পশ্চিমা বিশ্বে কম্পিউটার প্রোগ্রামার প্রয়োজন হবে ১৯ লাখ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ এবং ইউরোপে ৯ লাখ। ওই সময়ে বাংলাদেশের প্রোগ্রামার প্রয়োজন হবে ১ লাখ ২০ হাজার। আর এ জন্য তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশ। সরকার উদ্যোগ নিয়েছে দেশ-বিদেশের জন্য প্রোগ্রামার তৈরির। শিগগিরই সেই উদ্যোগের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হতে যাচ্ছে। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

২০১৫ সালের সাফল্যের পর বড় আকারে এবং বিস্তৃত পরিসরে শুরু হচ্ছে জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা (এনএইচএসপিসি)-২০১৬। গত বছরের এপ্রিল-মে মাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ বছর ১৫-১৬ হাজার প্রতিযোগী অংশ নেবেন বলে আশাবাদী আয়োজকরা।

সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এই আয়োজন করছে। বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)। পৃষ্ঠপোষক হিসেবে থাকছে রবি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে আমাদের বিপুল সংখ্যক কোডার ও প্রোগ্রামার প্রয়োজন হবে। এ জন্য হাইস্কুল থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিংয়ে উৎসাহিত করতে এই উদ্যোগ নিয়েছি।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘২০২০ সালে পশ্চিমা বিশ্বে কম্পিউটার প্রোগ্রামার প্রয়োজন হবে ১৯ লাখ। আমরা চাই, আমাদের প্রোগ্রামাররা সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক, প্রোগ্রামার হিসেবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা ক্লাস সিক্স থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছি। বিজ্ঞান, অংক ও ইংরেজি শেখার পাশাপাশি তারা ডিজিটাল দুনিয়ায় সক্ষমতা অর্জনের জন্য প্রোগ্রামিং শিখবে, কোডিংও শিখবে। তবেই না তারা সক্ষমতা অর্জন করবে।’

শিক্ষার্থীদের কৈশর থেকেই গড়ে তুলতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয় পড়ার পাশাপাশি তাদের প্রোগ্রামিং, কোডিংটাও শিখতে হবে।’

জানা গেছে, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এবার শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নের জন্য জেলায় জেলায় কর্মশালা এবং মেন্টর প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। এ বছর মোট ১৬টি আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগে ৪টি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৪টি, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ২টি এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১টি করে ১৬টি আঞ্চলিক ভেন্যুতে আইসিটি কুইজ ও প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। কুইজ ও প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা ঢাকায় জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। প্রতিযোগিতা ছাড়াও ৬৪টি জেলার ২ জন করে শিক্ষক ও মেন্টরকে ঢাকায় আবাসিক প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ জন মেন্টরকে আগামী দিনের জন্য প্রশিক্ষিত করা হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম কায়কোবাদ বলেন, ‘আমাদের ভালো মানের প্রোগ্রামার তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ মানের নয়, বিশ্বমানের। তাহলে আগামী দিনে সৃষ্ট সংকট আমরা মোকাবেলা করতে পারব। ব্যাংকিংসহ অন্যান্য সফটওয়্যার দেশেই তৈরি করতে হবে। তা নাহলে দেশে সফটওয়্যার খাতের প্রসার হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি-বেশি করে এসিএম-আইসিপি, এনসিপিসি-এর মতো প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে হবে। এর পাশাপাশি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল সিটি তৈরির প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। সেই প্রতিযোগিতায় তারা দেখাবেন কিভাবে বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনাকে ডিজিটাল করা যাবে। তারা ডিজিটাল হাসপাতাল, ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি তৈরির প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।’ হাতে-কলমে কাজ করতে পারলেই ভালো ভালো প্রোগ্রামার বের হয়ে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

জানা যায়, আমাদের দেশে প্রতি বছর সাড়ে ৯ হাজার শিক্ষার্থী কম্পিউটারে গ্র্যাজুয়েশন করেন। তাদের মধ্যে সবাই প্রোগ্রামার হতে চান না। আগ্রহীর সংখ্যা একেবারেই কম। কম্পিউটার বিজ্ঞানে ৪ বছরের গ্র্যাজুয়েশন কোর্সে ৪০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এর মধ্য থেকে মাত্র ৩ হাজার শিক্ষার্থী প্রোগ্রামিংয়ে আসেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় আছে ৫ বছর। এ সময়ের মধ্য দক্ষ প্রোগ্রামার তৈরি করতে না পারলে ২০২০ সালে বিদেশে প্রোগ্রামার পাঠানো তো দূরে থাক, বাংলাদেশকে তার প্রয়োজন মেটাতে বিদেশ থেকেই প্রোগ্রামার আনতে হবে ৫০ হাজার।

কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, সে সময়ে বাংলাদেশের প্রোগ্রামার প্রয়োজন হবে ১ লাখ ২০ হাজার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রোগ্রামিং করতে চান, তাদের আগ্রহ আছে। তবে এ ধরনের কোনও উদ্যোগ আগে ছিল না। ফলে তারা তাদের মেধা যাচাইয়ের কোনও সুযোগ পাচ্ছিলেন না।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম আয়োজনে (২০১৫) অধিকাংশ বিজয়ী ছিলেন ঢাকার বাইরের। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও ছিল বেশি।

মুনির হাসান বলেন, ‘সারাদেশ থেকে আমরা নির্বাচন করেছিলাম ১৯০ জন শিক্ষার্থী। ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে দেখা যায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছে। এটা সাধারণত অন্যান্য কোনও প্রতিযোগিতার বেলায় দেখা যায় না। আমাদের মনে হয়েছে, স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা প্রোগ্রামিং শিখতে চায়, তারা নিজেকে প্রমাণ করতে চায়।’

তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম আয়োজনে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জানত না। এবার আমরা জানানোর জন্য একটি বুকলেট তৈরি করেছি। এটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পৌঁছানো হবে। ফলে আরও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, প্রতিষ্ঠান এই আয়োজনে অংশ নেবে।

তবে মুনির হাসান এও বলেন, ‘পশ্চিমা বিশ্ব তো অনেক পরের কথা, আমাদের নিজেদেরই অসংখ্য প্রোগ্রামার প্রয়োজন হবে। সেই অভাবটা আমাদেরই মেটাতে হবে। তা না হলে অন্য দেশের প্রোগ্রামাররা এসে আমাদের প্রোগ্রামিং খাতটা দখল করে নেবেন। তাই এখনই সময়, স্কুল থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিংয়ে উৎসাহিত করা।’

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা (এনএইচএসপিসি) ২০১৬’- এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। সেই ঘোষণায় থাকবে কবে, কখন, কোথায় হবে প্রতিযোগিতা। এমনকি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে কোথায় নিব্ন্ধন করতে হবে তাও সেদিন ঘোষণা করা হবে। বিস্তারিত জানা যাবে http://www.nhspc.org/ এই ঠিকানায়, তবে ১৪ ফেব্রুয়ারির পরে।

/এমএনএইচ/এজে

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ