behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বর্জ্য রাখার স্টেশন তৈরির জমি নিয়ে জটিলতা: ক্যাপ্টেন রকিব

ওমর ফারুক০২:৩০, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৬

ক্যাপ্টেন রকিবনগরবাসীর ফেলে দেওয়া বর্জ্য বেশির ভাগ সময়ই সড়কে পড়ে থাকে। জায়গা নেই বলে বর্জ্যের কন্টেইনার রাখা হয় সড়কের ওপর। ফলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়ক পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে। এতে সারাক্ষণ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বর্জ্য সংশ্লিষ্ট এলাকায়। সৃষ্টি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের।

এ অবস্থা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনা হচ্ছে প্রতিটি ওয়ার্ডে বর্জ্য রাখার জন্য ‘সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন’ (এসটিএস) নির্মাণের। এটি বাস্তবায়নে কয়েকটি এসটিএসের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু জমি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি এবং স্থানীয়দের বাধার কারণে এই বাস্তবায়ন কার্যক্রম প্রচণ্ডভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে- বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এমন খবরই দিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন রকিব উদ্দিন।

বাংলা ট্রিবিউন: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আপনাদের পরিকল্পনা কী?

ক্যাপ্টেন রকিব: প্রতিটি ওয়ার্ডে আমরা স্বাস্থ্যসম্মত সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ করবো। ওয়ার্ডের যত বর্জ্য সেগুলো এই এসটিএসে এনে রাখা হবে। এখান থেকে নির্দিষ্ট সময়ে ট্রাকে করে বর্জ্য নেওয়া হবে মাতুয়াইল ডাম্পিং স্টেশনে। এ লক্ষ্যে আমাদের কাজ চলছে।

বাংলা ট্রিবিউন: পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সর্বশেষ অবস্থা কী?

ক্যাপ্টেন রকিব: আরবান প্রাইমারি এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (ইউপিইএইচএসডিপি) আওতায় ইতোমধ্যে সাতটি এসটিএস নির্মাণ হবে। এগুলোর মধ্যে হাজারীবাগে বেরিবাঁধ সংলগ্ন ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের এসটিএস নির্মাণ প্রায় শেষ। ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের জুরাইনে আরও একটির কাজ চলছে। ধলপুরে শিগগিরই এসটিএস নির্মাণ শুরু হবে।

তবে কয়েকটি এসটিএস নির্মাণ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। যেমন- মামলার কারণে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং পান্থকুঞ্জে দুটি এসটিএস নির্মাণ বন্ধ রয়েছে। নিউমার্কেট সংলগ্ন এসটিএস নির্মাণে আপত্তি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হল কর্তৃপক্ষ। এটার কাজ বন্ধ রয়েছে। সড়ক সম্প্রসারণের কারণে যাত্রাবাড়ীতে এসটিএস নির্মাণ শুরু করা যায়নি।

বাংলা ট্রিবিউন: এসটিএসের ধরণ কেমন হবে?

ক্যাপ্টেন রকিব: এসটিএস নির্মাণ করতে ছয় থেকে সাত কাঠা জমি লাগে। এটা চারদিকে দেয়াল ঘেরা ও উপরে টিনের শেড থাকবে। ওয়ার্ডের সব বর্জ্য এখানে এনে রাখা হবে। সিটি করপোরেশনের ট্রাক এই স্টেশনে ঢুকে বর্জ্য নিয়ে মাতুয়াইল ডাম্পিংয়ে চলে যাবে। এখানে বর্জ্য থাকলেও দুর্গন্ধ তেমন হবে না। কারণ বর্জ্য রাখতে আমরা সর্বাধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করবো। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে এসটিএস নির্মাণ করতে পারলে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। জমি নিয়ে জটিলতা না হলে আমরা দ্রুত এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারতাম।

বাংলা ট্রিবিউন: এসটিএস নির্মিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি  হবে না? বর্জ্য  সড়কেই পড়ে থাকবে?

ক্যাপ্টেন রকিব: অতীতের যেকোনও সময়ের চাইতে বর্তমানে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অনেক ভালো। এখন দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া যেখানে সেখানে বর্জ্যের স্তুপ দেখা যায় না। বর্জ্য জমার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতির আরও উন্নতি ঘটাতে শিগগিরই আমরা প্রতি ওয়ার্ডে স্টিলের ‘বিন’ দেব। এই বিনে রানিং বর্জ্য (মানুষ হাটার সময় যে বর্জ্যগুলো ফেলে) ফেলতে হবে। রাস্তায় এই বিন ফিক্সড করে দেওয়া হবে, যাতে কেউ চুরি করতে না পারে। প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়ে আমাদের ক্লিনাররা সেগুলো নিয়ে যাবে।

বাংলা ট্রিবিউন: অভিযোগ আছে ডিসিসির বহু পরিচ্ছন্নতাকর্মী ঠিকমতো কাজ না করে বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। এর সঙ্গে সিটি করপোরেশনের লোকজনও জড়িত রয়েছে। আপনি এর সঙ্গে একমত?

ক্যাপ্টেন রকিব: এ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করবো না। তবে অভিযোগ যাতে আর না থাকে সেজন্য আমরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫২১৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ট্রাকিংয়ের আওতায় নিয়ে আসছি। সম্প্রতি মাননীয় মেয়র এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। এরপর পর্যায়ক্রমে ৫৭টি ওয়ার্ডের প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে এই ট্রাকিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আগামী মার্চের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে। তখন নগরভবনে বসেই জানা যাবে- ডিউটি চলাকালে কোন কর্মী বা কর্মকর্তা কোথায় অবস্থান করছেন। এরপর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। অবশ্য এ মাসের গোড়া থেকে আমরা পাঁচটি ওয়ার্ডে এই ট্রাফিক সিস্টেম পরিচালনা করছি। এতে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া অন্যদেরও এই সিস্টেমের প্রতি আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনারা বলছেন সন্ধ্যার পর নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলতে। এই অনুরোধ কি কাজে আসছে?

ক্যাপ্টেন রকিব: সব ক্ষেত্রেই আমাদের অনুরোধ মানা হচ্ছে না। এরপরও আমরা সন্ধ্যার পর নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলতে সম্মানিত নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানাবো। এই অনুরোধ যদি সবাই মানেন তাহলে জমে থাকা বর্জ্য আমরা দ্রুত অপসারণ করতে পারবো। অবশ্য এজন্য নগরবাসীরও আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: জনগণকে সচেতন করতে আপনারা কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন?

ক্যাপ্টেন রকিব: আপনারা জানেন, আমরা ইতোমধ্যে ২০১৬ সালকে পরিচ্ছন্নতার বছর হিসেবে ঘোষণা করেছি। এটি বাস্তবায়নে মাননীয় মেয়রের নেতৃত্বে অবিরাম সচেতনতামূলক কর্মসূচি চলছে। বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও আমাদের এই কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে শাহবাগে বিশাল মঞ্চ বানিয়ে দিনভর বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান করেছি। সমাজের গুণীরা এতে যোগ দেন।

বাংলা ট্রিবিউন: বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে জনবল ও যন্ত্রপাতি কেমন আছে?

ক্যাপ্টেন রকিব: বর্জ্য অপসারণের জন্য বর্তমানে আমাদের রয়েছে ওপেন ট্রাক ১২০টি, কন্টেইনার ক্যারিয়ার ৭৩টি, আর্ম রোল ক্যারিয়ার ১২টি, কমপ্যাক্ট ট্রাক ১৬টি। সড়ক ও অলিগলির বর্জ্য সংগ্রহে রয়েছে সহস্রাধিক ট্রলি। শুষ্ক মৌসুমে প্রতিদিন ডিএসসিসি এলাকায় বর্জ্য উৎপাদন হয় ১৮০০ থেকে ২০০০ মেট্রিক টন বর্জ্য। গ্রীষ্মকালে এ বর্জ্যের পরিমাণ দাড়ায় ২২০০ থেকে ২৫০০ মেট্রিক টন।

/ওএফ /এএইচ/এপিএইচ/আপ-এআর/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ