প্রথম শহীদ মিনার ঢাকায় নাকি রাজশাহীতে!

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ২২:৫৪, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৪, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৬

বদরুল আলমের পরিকল্পনায় ঢাকার প্রথম শহীদ মিনার‘স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কী বন্ধু, আমরা এখনও

চার কোটি পরিবার...’

আলাউদ্দিন আল আজাদ এর সেই কবিতার সাড়ে চার কোটি এখন চারগুণ ছাড়িয়েছে। তবুও এই কবিতা স্মরণ করিয়ে দেয় পিচঢালা রাজপথে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া মুখগুলো, স্মরণে শুরু থেকে কোনও শহীদ মিনার দাঁড় করাতে দেয়নি শাসকরা।

বার বার ভাঙা-গড়ার খেলায় দেশে প্রথম শহীদ মিনার কোথায় হয়েছিল সেটা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়া হয়নি আজও। তবে বিভিন্ন স্থানের ভাষা সৈনিকদের তথ্য বলছে, প্রথম শহীদ মিনার হয়েছিল রাজশাহীতে। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ দিবাগত রাতে রাজশাহী কলেজ ছাত্রাবাস সংলগ্ন এলাকায় এটি তৈরি হয়। 

রাজশাহীতে প্রথম শহীদ মিনারের ছবিঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ভাঙা-গড়ার বিষয়ে বলতে গিয়ে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র বদরুল আলম ও সাঈদ হায়দারকে দিয়ে ডিজাইন করিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কারণ, স্মৃতিস্তম্ভের বিষয়টি বদরুল ছেলেবেলায় তার বাবার কাছে শুনেছিল। তারই আদলে ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি একটা নকশা করে দেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতেই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণ শেষ হলে ২৪ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনার এর উদ্বোধন করেছিলেন ভাষা শহীদ সফিউর রহমানের বাবা।’ যদিও ততক্ষণে রাজশাহীর শহীদ মিনার তৈরি হয়ে সেটা ভেঙেও ফেলা হয়েছে।

২১ ফেব্রুয়ারি গুলি চলার পর রাজশাহী সরকারি কলেজের ছাত্ররা রাতের আঁধারে লণ্ঠন জ্বালিয়ে কলেজ হোস্টেলের মাঠে কাদা দিয়ে ইট গেঁথে বানিয়েছিলেন প্রথম শহীদ মিনার।পরের দিন পুলিশ এসে তা ভেঙে দেয়। পেশায় লেখক ও সাংবাদিক সাঈদ উদ্দিন আহমদ এর লেখা থেকে জানা যায়, রাজশাহী মেডিক্যাল স্কুলের সিনিয়র ছাত্র এস এম গাফ্ফারের সভাপতিত্বে সভায় দুটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। তার মধ্যে শহীদ ছাত্রদের স্মরণে শহীদ মিনার নির্মাণ করাটাও একটা। ইট ও কাদামাটি দিয়ে যেভাবেই হোক রাতেই শহীদদের স্মরণে একটি শহীদ মিনার তৈরি করতে হবে বলে সবাই সিদ্ধান্ত নিলো। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন রাজশাহী কলেজের সিনিয়র ছাত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোলাম আরিফ টিপু (বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর)।

ভাষাসৈনিক সাঈদ হায়দারসেই রাতের সিদ্ধান্তে একদিনের মধ্যে তৈরি হলো মিনার, লেখা হলো ‘শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’। আর দেয়ালে সেঁটে দেওয়া হলো একটি চরণ-'উদয়ের পথে শুনি কার বাণী, ভয় নাই ওরে ভয় নাই। নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান,ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।'সেখানে উপস্থিত গোলাম আরিফ টিপু বলেন, কোথা থেকে একটা ভাঙাচোরা ক্যামেরা এনে সেইদিন ছবিও তুলে রাখা হয়েছিল। এদিকে আমরা সারা রাত জেগে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করি। পরদিন সকালে হরতালের পিকেটিং করার জন্য আমরা সবাই হোস্টেল থেকে বেরিয়ে পড়ি। এ সময় পুলিশ এসে শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলে। আমরা খবর পেয়ে বিকেলে এসে দেখি, পুলিশ শহীদ মিনারটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

এই ভাষা সৈনিককে প্রথম শহীদ মিনারের স্মৃতি নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে আরও বলেন, কে আগে আর কে পরে এটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ না, তবে এটা সত্য রাজশাহী কলেজ ছাত্রাবাসের সামনে আমরা একদিনেই শহীদ মিনার তৈরি করে ফেলি। সিদ্ধান্তটা ২১ তারিখেই ছিল।এটাই যে প্রথম শহীদ মিনার সেটা প্রমাণে আমরা কখনও আর এগোয়নি।কিন্তু সঠিকটা জানানোর জন্য ইতিহাসের কিছু দায় থাকে কিনা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, অবশ্যই ইতিহাসের দায় আছে এবং এটাই সত্য যে, সময়ের হিসাব করলে রাজশাহীর শহীদ মিনারটি আগে হয়েছিল।

ঢাকায় প্রথম শহীদ মিনার তৈরির সঙ্গে জড়িত সাঈদ হায়দার বলেন, আমাদের মিনারটি ছিল কিউব করা। বদরুণ আলমের মূল পরিকল্পনাটাকে আমরা বানানোর জন্য একটু সহজ করে নিয়েছিলাম। তখন তো এ ধরনের যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল না। ফলে কোনটা প্রথম বা দ্বিতীয় তা নিয়ে আমাদের আসলেই খুব ভাবা হয়নি। তবে রাজশাহীতে দুর্দান্ত আন্দোলন হয়েছিল।

/এপিএইচ/আপ-এআর/

লাইভ

টপ