বাজানদারকে নিয়ে এখনও যে আশঙ্কা চিকিৎসকদের

Send
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ২০:৫৫, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫৭, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৬

আবুল বাজানদার ও তার মাঅপারেশনের পর বিছানায় শুয়ে হাসছেন তিনি, পাশের চেয়ারে বসে হাসছেন মা, সন্তান কোলে তার দিকে ভালোবাসার চোখে তাকাচ্ছেন স্ত্রী। মা আর স্ত্রীর চোখে আশার আলো। বাজানদারের চোখে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশা। নিজের হাতে খেতে পারা, গোসল করতে পারা আর সব কাজ করতে পারার স্বপ্ন এখন তার চোখে।

কিন্তু চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল ‘আশঙ্কা’ একটা থেকেই যাচ্ছে।

আবুল বাজানদার এখন পর্যন্ত ভালো আছেন। অপারেশনের পর সাধারণ কোনও জটিলতা তার হয়নি। তবে বিরল এই রোগে আক্রান্ত আবুলের এই রোগ আবার ফিরে আসবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা এখনও থেকেই যাচ্ছে চিকিৎসকদের, চিন্তামুক্ত হতে পারছেন না তারা। কারণ আবুলের রোগ ভাইরাসজনিত। তার আক্রান্ত হাত পায়ের বাইরের জট অপারেশন করা হয়েছে কিন্তু ভেতরের ভাইরাস এখনও রয়ে গেছে।

ড্রেসিং আজ খোলা হয়েছে, ক্ষতস্থান ভালো আছে, নতুন করে ড্রেসিং করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের রবি কিংবা সোমবার মেডিক্যাল বোর্ড বসে তার পরবর্তী অপারেশনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তার রোগ ফেরত আসার আশঙ্কা আছে কি না- জানতে চাইলে ডা. সামন্ত লাল সেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আবুল বাজানদারের রোগটি আবার ফেরত আসতে পারে- কথাটি সত্য। সাধারণত এ ধরনের রোগ ফিরে আসে।’

তিনি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ায় যে রোগী ছিলেন, তার একাধিকবার অপারেশন হয়েছিল। কিন্তু আমরা প্রথম থেকেই এ বিষয়ে কাজ করছি যাতে ফেরত না আসে। আমরা এরইমধ্যে ওষুধপত্র তাকে দিয়েছি এবং আমরা তার রক্ত, লালা এবং আক্রান্ত অংশের টিস্যু আমেরিকাতে পাঠিয়েছি। রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। সেগুলো এলেই আমরা সর্বশেষ পরিস্থিতি সর্ম্পকে জানতে পারবো। কারণ ওরা আমাকে বলেছে, তারা এটি নিয়ে কাজ করছে, এখন বাকিটা দেখা যাক।’

আবুল বাজানদার ও তার স্ত্রী-সন্তানঅপরদিকে আবুল বাজানদারের চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের একাধিক চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ভাইরাল ডিজিজ শরীর থেকে সহজে দূর হয় না এবং এই ভাইরাস দূর করা খুবই কঠিন কাজ। বিশেষ করে আবুল বাজানদার যে ভাইরাসে আক্রান্ত। এটা শুধু ফিরে আসে তাই নয়, এটা শরীরের ভেতরেই থেকে যায়। কারণ, ভাইরাস সাধারণত রক্তে যায়, কিছু কিছু সিম্পটম তৈরি করে তারপর তার প্রকাশ হয়।
একজন চিকিৎসক বলেন, ‘ভাইরাসমুক্ত করার জন্য এখনও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কীভাবে নেবে তা নিয়েও আমি সন্দিহান।’
তার মানে আবুল বাজানদারের পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই গেল- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শতভাগ আশঙ্কা এখনও থেকেই গেল। এটা সারাজীবনই থাকবে। যতদিন পর্যন্ত তার শরীর থেকে ভাইরাস বের করে না দেওয়া হবে, ততদিন আশঙ্কা থেকেই যাবে।
বিরল রোগ ইপিডার্মোডিসপ্লাসিয়া ভ্যারুসিফরমিসে আক্রান্ত বাংলাদেশের আবুল বাজানদার বিশ্বের তৃতীয় রোগী। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার ডান হাতের পাঁচ আঙুলে প্রথম অস্ত্রোপচার করে জটমুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গবার তার হাতের ড্রেসিং খোলা হয়েছে এবং নতুন ড্রেসিং করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার বাম হাতেও অপারেশন করা হবে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে।
এদিকে, বার্ন ইউনিটের বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম জানিয়েছেন, আবুল বাজানদারের চিকিৎসায় এক বছর বা যতদিন লাগবে তার পুরোটা সময় চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকবেন আবুল।
তার চিকিৎসার সব খরচ বহন করছে সরকার। গত ৩০ জানুয়ারি খুলনার আবুল বাজানদার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হন এবং তার চিকিৎসায় বর্তমানে নয় সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড কাজ করছে।
/এজে/

লাইভ

টপ