behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান‘প্রসিকিউশন টিমে কমতি থাকতে পারে, গাফিলতি নেই’

উদিসা ইসলাম১০:২৪, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৬

ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনাকালে প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমানআপনিতো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুরু থেকে আছেন। আপনার কি মনে হয়, ছয় বছরের মাথায় এসে কাজের মূল্যায়ন করে প্রসিকিউশন টিমটাকে নতুন করে সাজানোর দরকার আছে?
প্রসিকিউশন টিমটাকে নতুন করে সাজানোর দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। এখন পর্যন্ত প্রসিকিউশন টিম যথেষ্ট সফলতার সাক্ষর রেখেছে। আমরা যখন প্রসিকিউটর হিসেবে এখানে প্রথম আসি, তখন আইনটি সম্পর্কে কারোর কোনও ধারণা ছিল না। পরবর্তীতে আমরা বিষয়গুলো শিখতে শিখতে এগিয়েছি । ২২/২৩টা মামলার রায় হয়ে গেছে। প্রতিটি মামলা প্রসিকিউশন সফলভাবেই শেষ করেছে। আপিল বিভাগেও এখনও পর্যন্ত সবগুলো মামলাতেই সাজা বহাল আছে, খালাসতো কেউ হয়ে যায়নি। এসব করতে করতে এখন এসে প্রসিকিউশন টিম যথেষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। আপনি যদি বাইরের দেশের দিকে তাকান, ৪০বছর আগের কোনও বিষয়কে সামনে এনে মামলা সফল করার নজির আইসিসিরও নাই। সেখানে আমরা শিক্ষিত- অশিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত ভিকটিম পরিবার, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সাক্ষী হিসেবে আনতে পেরেছি।এইসব করতে করতে প্রসিকিউশন যখন শিশু থেকে যৌবনে পদার্পণ করেছে তখন এসে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।
আপনি একজন সংগঠন করা এবং রাজনীতি করা মানুষ। আপনার ভালই জানার কথা, যদি কোন প্রতিষ্ঠানে এমন হয় যে, কিছু মানুষ কাজ করে আর কিছু মানুষ কাজ করে না, সেক্ষেত্রে যারা কাজ করে তারা নৈতিকভাবে ভেঙে পড়েন কিনা?
বাহ্যিকভাবে যা দেখা যায় তাতো ঠিক নাও হতে পারে। প্রসিকিউশন টিমের সবাইকে মামলা করতে হবে, আদালতে দাঁড়াতে হবে তাতো না। প্রসিকিউশনের বাইরেও কাজ থাকে। সেগুলোর সঙ্গে তারা নানাভাবে সম্পৃক্ত থাকেন। ফলে কেউ কাজ করেন না, এ কথা বলে যারা দৃশ্যত কাজ করেন তাদের নৈতিকভাবে ভেঙে পড়ার প্রশ্নই আসে না।

সম্প্রতি পর পর কয়েকটা রায়ে আপিল বিভাগ প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার ওপর রুষ্ঠ হয়েছেন। এর আগে তারা রায়ের অরজারভেশন অংশে লিখতেন। এখন মীর কাসেমের মামলায় সরাসরি শুনানির সময় অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেল। এ দায় কতটুকু নিতে রাজি আছেন?

আমি উত্তরটা দিয়েছি। ৪০বছর আগের ঘটনায় আমরা মামলা পরিচালনা করছি। আমাদের যারা সাক্ষী তারা বেশিরভাগ ষাটোর্ধ। আশি শতাংশের বেশির বয়স ষাটের ওপরে। শিক্ষিত, অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত নানা শ্রেণী পেশার অনেক সাক্ষী আছেন যারা আদালতের ভাষা বোঝেন না, কেউ কানে শোনেন না, কেউ চোখে দেখেন না। এসব সাক্ষীদের আমরা ‍আনতে পেরেছি। পরিস্থিতি বিবেচনায় যতটা সম্ভব আমরা করার চেষ্টা করেছি।

আমাদের কমতি থাকতেই পারে, কারণ বিষয়টা একেবারেই নতুন। ২০১০ এর ২৫ মার্চ আদালত প্রতিষ্ঠা হলো। তখন তদন্ত সংস্থা জানতো না কীভাবে তদন্ত করবে, আমরাও জানতাম না কীভাবে মামলা পরিচালনা করতে হবে। কেবল গাইডলাইন ছিল ১৯৭৩ এর আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন। ন্যূরেমবার্গের ট্রায়ালে যান, তারা কিন্তু প্রিন্সিপালের ওপর ট্রায়াল করেছে। আমরা যারা জড়িত তাদেরকে কিন্তু আইসিসি থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়ে আসা হয় নাই। নিজেরা নিজেরা শিখতে শিখতে কাজটা করেছি। আমাদের কমতি থাকতেই পারে, অস্বীকার করি না। কিন্তু গাফিলতি ছিল না,এখনও নেই। একেবারেই কিছু না থাকলে সব অপরাধী খালাস হয়ে যেত। কিছু দিতেতো পেরেছি। হয়তো সম্পূর্ণ দিতে পারিনি। এখানে যারা প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, এর বাইরে আর কেউ নেই, যারা এ মামলা সম্পর্কে জানেন। তাদেরকেতো শুরু থেকে শুরু করতে হবে আবারও। আমাদেরতো ৬ বছর তাও অভিজ্ঞতা হলো। আমি মনে করি না নতুন কেউ আসলে অনেক বেশি সফল হয়ে যাবেন।

আপনি ইণ্ডিভিজ্যুয়ালি অনেকগুলো মামলায় প্রসিকিউটরের দায়িত্ব করেছেন। তদন্ত সংস্থা থেকে তৈরি হয়ে যখন প্রতিবেদনটা প্রস্তুত হয়ে আসে, তখন কি আপনার মনে হয়েছে সংস্থার কোন গাফিলতি আছে। এই জিনিসটা চাইলে আরেকটু ভাল করতে পারতো কিন্তু করেনি এমন কিছু নজরে এসছে?

গাফিলতি আর কমতির মধ্যে পার্থক্য আছে। কমতি কোনও না কোনও কারনে থাকতে পারে। গাফিলতি দেখিনি। আমাদের কাছে আসার পর আমরা যাচাই বাছাই করি, যেখানে যা আরও দরকার মনে হয় সেগুলো আবার তারা ঠিকঠাক করে দেন।এভাবেই কাজটা হয়।

বাচ্চু রাজাকার থেকে শুরু করে বেশ কয়েকজন অপরাধীর অনুপস্থিতিতে বিচারের সঙ্গে আপনি সম্পৃক্ত ছিলেন। সম্প্রতি পলাতক আসামীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া নিয়ে ট্রাইব্যুনাল সমালোচনা করেছেন। তদন্ত সংস্থার হাতে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলে কি এ সমস্যা এড়ানো যেতে পারে?

না আমি সেটা মনে করি না। একটা মামলা তদন্ত শুরু হয় যখন, তখন সেটার প্রক্রিয়া কিন্তু সাধারণ মামলার মতো না। যিনি দরখাস্ত করলেন বা যে দলিলগুলো তদন্ত সংস্থায় আসে, সেগুলোর প্রাথমিক অনুসন্ধান হয়। তদন্ত শুরু করতে করতে আসামী পলাতক হয়ে যায়। তদন্ত সংস্থার হাতে গ্রেফতারের ক্ষমতা দিলেই যে হুট করে গ্রেফতার করে ফেলতে পারবে তা আমি মনে করি না।

সম্প্রতি প্রসিকিউটর মোহম্মদ আলীকে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে বহিস্কার করা হলো। এটা এখন সবাই জানেন যে, তিনি কি করতে চেয়েছিলেন। আপনার কি মনে হয়, তার এই কর্মকাণ্ড আপনাদের এতোদিনের অর্জন নেতিবাচকভাবে মূল্যায়নের সুযোগ করে দিল?

ব্যক্তি কোনও অসৎ কাজ করলে আরেকজন তার দায় নেবে না। বা প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা ঠিক হবে না। তিনি কিছু করে থাকলে সে দায় তাকেই বহন করতে হবে। তিনি কতটুকু কি করেছেন না করেছেন তাতো আমি জানি না। সঠিক তদন্ত করে এটা নিশ্চয় বের হবে। তবে একজনের কর্মকাণ্ড দিয়ে ‍পুরো প্রসিকিউশন টিমের মূল্যায়নের কোন সুযোগ নেই।

 ছবি কৃতজ্ঞতা: www.ict-bd.org

/এপিএইচ/

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ