behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

র‌্যাবের সফল অপারেশনের নেপথ্যে

জামাল উদ্দিন১৬:২০, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৬

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদবছরের ৩৬৫ দিনের প্রতিটি মুহূর্তই জঙ্গিদের পেছনে কঠোর নজরদারি থাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব)। আর সেই কাজটি নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের প্রতিটি সদস্য। ব্যাংকের টাকা লুট, শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার, অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার এবং জঙ্গি দমনসহ আলোচিত সব সফল অপারেশনের নেপথ্যেও কাজ করে যাচ্ছেন র‌্যাবের গোয়েন্দারা। সাদা পোশাকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে অপরাধী ও দুর্বৃত্তদের তথ্য সংগ্রহ করে র‌্যাবের ব্যাটালিয়নগুলোকে তা সরবরাহ করেন তারা। আর সেই তথ্য পেয়েই ব্যাটালিয়নগুলো অপারেশন সফল করছে। বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ এসব কথা বলেন।
সেনাবাহিনীর ইনফেন্ট্রি কোরের সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ গত কয়েক বছর ধরেই প্রেষণে (ডেপুটেশন) কাজ করছেন র‌্যাবে। বিগত প্রায় দু’বছর কাজ করছেন র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে। এরইমধ্যে সফল গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে তিনি রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) ও বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা) পেয়েছেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজাদকে বিপিএম-সেবা পদক দেওয়ার ক্ষেত্রে বলা হয়, ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে শীর্ষসন্ত্রাসী, অপহরণকারী, মাদক ব্যবসায়ী, জঙ্গি, জালনোট উৎপাদন ও সরবরাহকারী চক্রকে গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছেন। যার ফলে র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইং তথা র‌্যাবের সাফল্য ও সুনাম উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা যাতে দেশে কোনও অঘটন ঘটাতে না পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে দেশের সবগুলো বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক ঘটনা আছে যেগুলো আমরা ঘটতে দেই না। সংঘটিত হওয়ার আগেই আমরা ধরে ফেলি। এমন ঘটনা অনেক। তারপরও কখনও অঘটন ঘটে যায়। সেসব অঘটনের পেছনে যারা দায়ী তাদেরও ধরার চেষ্টা করি। তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়। এজন্য সবসময় আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে।’

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজাদ আরও বলেন, ‘গাড়িতে নারী ধর্ষণ, সোনালী ব্যাংকের ১৬ কোটি টাকা লুট, মন্টি নামের এক মহিলার লাশ সাত টুকরা করে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। সম্প্রতি কেরানীগঞ্জে একটি শিশুর লাশ ড্রামে পাওয়া গেলো, সেই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে মোতাহের নামে এক ব্যক্তি জড়িত ছিল। বিগত তিন বছরে যেসব ঘটনা সমাজকে বেশি আলোরিত করেছিল সেগুলোর রহস্য উদঘাটনে র‌্যাব সাফল্য দেখিয়েছে। আর এসব ঘটনার সাফল্যের পেছনে ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ইন্টেলিজেন্সের ভূমিকাটা হচ্ছে গোপন খবর ও তথ্য সংগ্রহ করে তথ্য দিয়ে ব্যাটালিয়নগুলোকে সহায়তা করা। যাতে ব্যাটালিয়নগুলো সাফল্যের সঙ্গে অপারেশনগুলো চালাতে পারে। তারপর যথাযথ আইনি পথে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা। সব মিলিয়ে বাহিনীর সাফল্যের পেছনে অবশ্যই ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের বড় একটা অবদান ও ভূমিকা রয়েছে।’

র‌্যাবের গোয়েন্দা ইউনিটের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে আরও বলেন, ‘প্রকাশ্যে আসা আমাদের কাজ না। কোনও কাজ করে সেই ক্রেডিটটা নেওয়াও আমাদের উদ্দেশ্য নয়। দেশ ও জাতির স্বার্থে ইন্টেলিজেন্সের সদস্যরা সাদা কাপড়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে নিরলসভাবে সব তথ্য সংগ্রহ করতে ব্যস্ত থাকে। এ প্রচেষ্টা সবসময়ই অব্যাহত থাকবে। আশা করি, অতীতে যেমন মানুষের আস্থা কুড়িয়েছি, ভবিষ্যতেও আমরা মানুষের এই আস্থার প্রতিদান দিতে পারবো। মানুষের আশা অনুযায়ী কাজ করে আমরা মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবো।’

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, ‘জঙ্গি দমন র‌্যাবের অন্যতম প্রধান কাজগুলোর একটি। র‌্যাব সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে জঙ্গি দমনের বিষয়টিও অন্যতম এজেন্ডা ও দায়িত্ব ছিল। জঙ্গি দমনের মাধ্যমেই র‌্যাবের উত্থান ও সাফল্য। জঙ্গি দমনের বিষয়টিকে র‌্যাব সবসময় প্রাধান্য দিয়ে থাকে। বছরের ৩৬৫ দিনই জঙ্গিদের পেছনে আমাদের কঠিন একটা নজরদারি থাকে। যাতে কোথাও তারা অঘটন ঘটাতে না পারে।’

গোয়েন্দা সাফল্যের জন্য পদক পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘পদক পাওয়ার ক্ষেত্রে একটা আত্মতৃপ্তি রয়েছে। এমন স্বীকৃতি পেলে অবশ্যই মনটা ভরে যায়। ভবিষ্যতে আরও অনুপ্রেরণা নিয়ে কাজ করার আগ্রহ জন্মে। আরও ভালো কাজ করা যায়।’

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত বছরের ২৭ মার্চ লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে র‌্যাব-১০ এর একটি দল রাজধানীর দক্ষিণখানের মোল্লারটেকের প্রেমবাগান এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার আমির এবং এহসার সদস্য আবদুর রাজ্জাক হায়দার ওরফে মামুন (৩৫), নওগাঁ জেলার আমির এবং গায়েরে এহসার সদস্য জিয়াউল বারী ওরফে ডালিম (৩২), জেএমবি’র দিনাজপুর জেলার আমির ও এহসার সদস্য মো. কোরবান আলী ওরফে মোহাম্মদ আলী ওরফে হাঞ্জালা (৫৫) এবং জেএমবি’র রংপুর জেলার অর্থ-সম্পাদক গায়েরে এহসার সদস্য মো. মোফাজ্জল হোসেনকে (২২) গ্রেফতার করে।

একইসঙ্গে তাদের আস্তানা থেকে গ্রেনেড, ডেটোনেটর, গান পাউডার, ককটেল, পেট্রোলবোমা, সালফিউরিক এসিডসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। যা দিয়ে জনবহুল এলাকা ও মার্কেটসহ বিভিন্নস্থানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সম্ভব ছিল। এছাড়া আরও বড় বড় আভিযানিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ নিয়ে সাহসিকতার সাক্ষর রেখেছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ।

/এএইচ/

আপ: এইচকে

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ