behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বাংলা ট্রিবিউনকে শামা ওবায়েদ‘মাহফুজ আনামকে দিয়ে গণমাধ্যমকে শায়েস্তা করতে চাচ্ছে সরকার’

সালমান তারেক শাকিল২২:০৪, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৬

জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সভাপতি শামা ওবায়েদ বলেছেন, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে এক-এগারোর সময়কার সংবাদ প্রকাশের জের ধরে অসংখ্য মামলা দেওয়ার কারণ হচ্ছে দেশের গণমাধ্যম ও অন্যান্য পত্রিকার সম্পাদকদের শায়েস্তা করা। এর পাশাপাশি যেহেতু ইন্টারনেট আর অবাধ তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করা যাচ্ছে না, সেহেতু ব্যক্তিবিশেষকে টার্গেট করছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে উদ্দেশ্য হচ্ছে সবাইকে ভয় দেখানো ।

এই ঘটনাকে সংবাদপত্রের ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক এবং দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন বিএনপির প্রয়াত নেতা ওবায়েদুর রহমানের মেয়ে শামা। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে তার বাসায় বসে বিএনপির কাউন্সিল, প্রস্তুতি, ইউনিয়ন নির্বাচন, মহাসচিব নিয়ে বিতর্ক ও সংবাদমাধ্যম নিয়ে কথা বলেন শামা ওবায়েদ।

 ‘আওয়ামী লীগের একটি বিশেষ চরিত্র আছে..’শামা ওবায়েদ
সংবাদপত্র প্রসঙ্গে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, এখন সরকারের সরাসরি দালালি করছে এমন অনেক পত্রিকা ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।  এখন মাহফুজ আনামকে হয়রানি করা হচ্ছে। মুক্তি পেলেও মাহমুদুর রহমানকে আবারও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এসবই সংবাদপত্রকে হয়রানি করার জন্য।
শামা ওবায়েদ বলেন, আওয়ামী লীগের একটি বিশেষ চরিত্র আছে। সেটি বুঝা যাবে পেছনে ফিরে তাকালে। ১৯৭১ সালে যখন দেশ স্বাধীন হল, তখন কিন্তু কথা ছিল যে, সংবাদপত্র স্বাধীনভাবে চলবে। কিন্তু ১৯৭২-৭৩, ১৯৭৩-৭৪ এ কি দেখলাম। তা না করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সংবাপত্রের টুঁটি চেপে ধরেছিল। এখনও তাই হচ্ছে।
‘ইউপিতে প্রার্থীদের গুমের ভয় দেখানো হচ্ছে’
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, আমাদের তো ১১৪ টি ইউনিয়নে প্রার্থী পাচ্ছি না। আমাদের লোকদের ভয় দেখানো হচ্ছে, হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রার্থীরাও এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছে, কিন্তু এই কমিশন কোনও গুরুত্ব দিচ্ছে না। প্রার্থীদের অভিযোগ বাক্সবন্দী হয়ে আছে। তাদের চিঠি খোলাও হচ্ছে না। আমাদের দলীয় প্রার্থীদের গুমের ভয়, মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। এসব নিয়ে নির্বাচন কমিশনে বলা হলেও তারা আমলে নিচ্ছে না। তো এই কমিশন হচ্ছে মেরুদণ্ডহীন। নির্বোধ কমিশন। সেক্ষেত্রে আমরা মনে করি না, ইউপিতে ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন, পৌরসভা নির্বাচনে যেমন পারেননি। তেমনি এবারও পারবেন না।
‘মির্জা ফখরুলকে অবশ্যই মূল্যায়ন করা উচিৎ’
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই মহাসচিব হচ্ছেন কী না, এ নিয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, এটা তো আসলে আমার জানার কথা নয়। বিষয়টি আমাদের দলের চেয়ারপারসনের এখতিয়ারে আছে। তবে এ কথা বলতে পারি, মির্জা ফখরুল ৫ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও সরকারের নির্যাতনের ক্ষেত্রে কিন্তু ভারপ্রাপ্ত হিসেবে বিবেচিত হননা। তাকে অনেকটা নিয়মিত জেলে যেতে  হচ্ছে। তিনি ভদ্র-সজ্জন হিসেবে ইতোমধ্যে দলে গ্রহণযোগ্য। ফলে, যে কষ্ট করেছেন দলের জন্য; এ কারণে তো কাউন্সিলে অবশ্যই তার মূল্যায়ন করা উচিৎ।  

 ‘শহীদদের তালিকা প্রণয়ন না করাটা দু’দলের ব্যর্থতা’

শহীদদের সংখ্যা নিরূপণ বিষয়ে নিজের অবস্থান সম্পর্কে শামা ওবায়েদ বলেন, এটা আরও আগেই করা উচিৎ ছিল। দুই দলেরই এটা করা উচিৎ ছিল। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনও আপোষ নেই। বিএনপি রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধাদের দল, শহীদ জিয়াউর রহমানের দল। বিএনপি কিন্তু স্বপক্ষের না, সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের দল। এই বিষয়টি বিবেচনায় খালেদা জিয়া শহীদদের সংখ্যা নিয়ে যে কথাটি বলেছেন, এটি কিন্তু জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রকৃত সম্মানের জন্য। এই তালিকা করা সবার দায়িত্ব ছিল। সেটি করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।  তবে আল্লাহ তায়ালা যদি বিএনপিকে ক্ষমতায় আনেন, জনগণ যদি সুযোগ দেয়, তাহলে বিএনপির দায়িত্ব হবে শহীদদের সঠিক তালিকা নির্ণয় করা এবং সে তালিকা অনুযায়ী শহীদ পরিবারগুলোকে সম্মানের ব্যবস্থা করা।

 প্রসঙ্গ কাউন্সিল

কাউন্সিলের প্রস্তুতি সম্পর্কে শামা ওবায়েদ বলেন, কাউন্সিলের প্রস্তুতি চলছে। উপকমিটিগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের দলের অসংখ্য নেতাকর্মী এখনও জেলে আছেন। মামলার কারণে অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে নেতাকর্মীরা আতঙ্কে সময় কাটাচ্ছেন। কাউন্সিলররা না এলে তো কাউন্সিল হবে না। সরকারের নানামুখী হয়রানির কারণে কাউন্সিলররা ঠিকভাবে কাজ করতেও ব্যর্থ হচ্ছেন।  এ অবস্থায় আমরা বিরাট সমস্যা ফেস করছি। তা ছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সমস্যা সৃষ্টি করা হচ্ছে। কাউন্সিলের জন্য ইতোমধ্যে আমরা তিনটি স্থানের জন্য আবেদন করলেও দুটি স্থানের সম্ভাবনা আছে। কিন্তু এখনও অনুমতি পাওয়া  যায়নি। তবে দল ডিটারমাইন্ড কাউন্সিল হবেই।

আর অনুমতি না পেলে? উত্তরে শামা ওবায়েদ বলেন, সেক্ষেত্রে ম্যাডাম আছেন, স্থায়ী কমিটি আছে, সিনিয়র নেতারা আছেন। তারা সিদ্ধান্ত নিবেন। তবে আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, যেকোনও মূল্যে কাউন্সিল করা, প্রয়োজনে ছোট পরিসরে।

শোনা যাচ্ছে কাউন্সিল আয়োজনে অর্থসঙ্কট চলছে, এ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, বিএনপি গত ১০ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে। পাশাপাশি সমানতালে চলছে সরকারের নির্যাতন। কিছু সমস্যা হতে পারে। তবে সঠিক আমি জানি না। আমাদের নেতাকর্মীরা আছেন, প্রত্যেকে সহায়তা করলে অবশ্যই কাউন্সিল করা সম্ভব হবে।

কাউন্সিলে নিজের কোনও পদ পাওয়ার ইচ্ছা আছে কি না, এ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, ইচ্ছা নয়, আমি তো দলেই আছি। দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, এটাই বড় কথা। দল প্রয়োজন মনে করলে যেখানে রাখবে, সেখানেই থাকব। এটা নিয়ে ব্যক্তিগত অভিলাষ নেই।

 এসটিএস/এপিএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ