behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বাংলা ট্রিবিউনকে বিএসএফআইসি’র চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন‘চিনি নিয়ে ছিনিমিনি চলবে না’

শফিকুল ইসলাম১৪:০০, মার্চ ০৪, ২০১৬

চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন আসন্ন রমজানে দেশে চিনি নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত সরকারি চিনি উৎপাদনকারী মিলগুলো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ কে এম দেলোয়ার হোসেন। বলেছেন, রমজানের বাড়তি চাহিদা মেটাতে এই মুহূর্তে চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের হাতে ১ লাখ ১৫ হাজার টন চিনি মজুদ আছে, যা রমজানের সময় বাজারে ছাড়া হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে দিলকুশায় অবস্থিত বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন ভবনে নিজ দফতরে বাংলা ট্রিবিউনের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান।
এ কে এম দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা ও উৎসাহে, শিল্পমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়, অর্থমন্ত্রীর সহযোগিতায় সরকারি চিনিকলগুলো আবার জাগতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের সম্পদ সরকারি এই ১৫টি চিনিকল। এগুলো রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। চিনি কারখানাগুলোর লোকসান কমিয়ে লাভজনক করার প্রচেষ্টা চলছে। এক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা অপরিসীম। চিনিকলগুলোর প্রাণ আখচাষী। তাদের সঙ্গে সম্পর্কেরও উন্নয়ন ঘটেছে। দূরত্ব কমেছে। এখন আর তাদের পাওনা মিলগুলোতে আখ সরবরাহের ৭/৮ মাস পরে নয়, তাৎক্ষণিক পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে। ফলে আখচাষীরা আখ চাষে উৎসাহী হচ্ছেন। তাদের পাওনা সময়মতো পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছি।
বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, দেশে পোড়া ছাঁই ও লবণের তুলনায় চিনির দাম কম। ৩০ থেকে ৩১ টাকা কেজি দরেও চিনি বিক্রি হয়েছে। অনেক লড়াই সংগ্রাম করে আমদানিকৃত অপরিশোধিত চিনির ওপর ডিউটি আরোপ করায় বর্তমানে চিনির দাম কিছুটা বেড়ে ৪৪ থেকে ৪৫ টাকায় উঠেছে। এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান জানান, এখনও চিনির দাম সঠিক পর্যায়ে আসেনি। বিভিন্ন কারণেই চিনির দাম আরও কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়া জরুরি বলেও মনে করেন চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন। তিনি জানান, এতে চিনিকলগুলোর লোকসান কমবে। আখচাষীরা তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম পাবেন। চাষীরা উৎসাহী হবেন। চিনিকলগুলো লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখবে।

চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, ২০১১ সালের দিকে প্রতিকেজি চিনির দাম ছিল ৬০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারেও চিনির দাম কমে ওই পর্যায়ে এসে নেমেছিল। কিন্তু চিনি দিয়ে তৈরি মিষ্টি, আইসক্রিম, জুস, কেক, বিস্কুটসহ বিভিন্ন উপাদানের দাম বাড়ছে প্রতিদিন। এছাড়া দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসেরই দাম বাড়ে। তাই যদি হয়, তাহলে চিনির দাম কেন বাড়বে না? দেশের চিনিকলগুলো কেন ন্যায্য দামের অভাবে লোকসান দেবে? তিনি জানান, দেশের বেসরকারি চিনিকলগুলো এর জন্য অনেকটাই দায়ী। এক সময় হাজার হাজার টন অপিশোধিত চিনি ডিউটি ফ্রি সুবিধায় আমদানি করেছে বেসরকারি চিনিকলগুলোর মালকরা। সে সময়ে তারা তাদের মতো করে চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করতো। এখন আর সেইদিন নাই। এখন চিনি নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। সরকারি চিনিকলগুলো এখন মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম। পাশাপাশি পণ্যটি চমৎকার প্যাকেটে প্যাকেজাত করে বাজারে ভোক্তার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। খোলাবাজার থেকে সুপারশপ পর্যন্ত সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে সরকারি চিনিকলগুলোয় উৎপাদিত আখের চিনি। কোনও কেমিক্যিাল নাই বলে ভোক্তারাও কিনছেন স্বাচ্ছন্দে। আশা করছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবে। বাংলাদেশ একদিন চিনি রফতানি করবে। এটিই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চাওয়া বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, অপরিশোধিত ও পরিশোধিত আমদানিকৃত চিনির ওপর ডিউটি আরোপ করায় সরকারের রাজস্ব বেড়েছে। ২ দফায় চিনির ওপর শুল্ক আরোপ করায় সরকার গতবছর বাড়তি ১৯ হাজার ৯শ কোটি টাকার ট্যাক্স পেয়েছে। সরকারি মিলগুলো থেকেও আমরা সরকারি কোষাগারে ২৪শ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছি। এর পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।

চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালে উৎপাদিত প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন চিনি মজুদ ছিল। তা বিক্রি করে দিতে পেরেছি। এতে সরকারের লোকসান কমেছে। এই পরিমাণ চিনি বিক্রি করতে না পারলে করপোরেশনের বড় ধরনের লোকসান হতো। তিনি বলেন, আড়াই কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করতে পেরেছি বলে আমি খুবই খুশি। সরকারি সম্পদ নষ্ট হতে দেইনি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ১৫টি সরকারি চিনিকলে এই মুহূর্তে প্রায় ১৫ হাজার জনবল কাজ করছে। বাড়তি জনবলের প্রয়োজন নাই বলেও জানান তিনি। তবে খুব প্রয়োজন হলে টেকনিক্যাল পদগুলোর জন্য লোক নেওয়া যেতে পারে। তবে বসে বসে বেতন নেওয়ার দিন শেষ। এখন চিনিকলে চাকরি করলে কাজ করে বেতন বা পারিশ্রমিক নিতে হবে। চিনিকলগুলোকে লাভজনক করতে একজনকে ১০ জনের কাজ করতে হবে। মিলগুলো লাভবান হলে তার সুফল তারাও একদিন পাবেন।

৪০ বছরের পুরনো চিনিকলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে বলে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, এগুলো এখন অনেকটাই জরাজীর্ন। সবশেষ ১৯৯০ সালে নির্মিত পাবনা সুগার মিলের বয়সও এখন ২৬ বছর। এগুলোর জন্য নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

১৯৬১ সনে কিশোরগঞ্জে জন্ম নেওয়া একে একে এম দেলোয়ার হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাস্টার্স করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ছাত্র হিসেবে থাকতের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে। তিনি আইসিএমএতে ২০০৪ সালে একবার এবং ২০১৩ সালে একবারসহ মোট দুইবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।

/এসআই /এএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ