behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

পাঁচ বছরেও চূড়ান্ত হয়নি শিক্ষা আইন, অপরাধীরা অধরাই

রশিদ আল রুহানী১৭:৩৮, মার্চ ০৮, ২০১৬

‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০’ বাস্তবায়নের জন্য ২০১১ সালে শিক্ষা আইন প্রণয়নের কাজ শুরু হলেও এর মধ্যে কেটে গেছে পাঁচ বছর। কিন্তু শিক্ষা আইন এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। শিক্ষা আইন চূড়ান্ত না হওয়ায় অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, শিক্ষক নেতাদের একটি অংশ, নোট গাইড প্রকাশে জড়িত ব্যবসায়ী, কোচিং বাণিজ্যে জড়িত শিক্ষকদের বিরোধিতা ও মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতায় শিক্ষা আইন চূড়ান্তে বিলম্ব হচ্ছে। তবে এই আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট  কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ মাসেই চূড়ান্ত হতে পারে আইনটি।শিক্ষা মন্ত্রণালয়
দেশে শিক্ষায় অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতিসহ নানা অপরাধ প্রবণতা ব্যাপক হারে বেড়েছে। কিন্তু শিক্ষা আইন না থাকায় কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের বেশিরভাগ নির্দেশনা।
জানা যায়, প্রাক-প্রাথমিক থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে আইনি কাঠামোতে আনা এবং সবার জন্য বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০’ এর আলোকে ২০১১ সালে ‘শিক্ষা আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
২০১১ সালের জানুয়ারিতে শিক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রথম সভা হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। ওই সভায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিবকে (আইন ও অডিট)আহ্বায়ক করে শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির কয়েকজন সদস্যকে শিক্ষা আইনের খসড়া তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়।ওই কমিটি ২০১২ সালে শিক্ষা আইনের খসড়া তৈরি করে।পরে সংযোজন-বিয়োজন শেষে ২০১৩ সালের ৫ আগস্ট জনমত যাচাইয়ের জন্য আইনের খসড়া মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

খসড়া আইনের বিষয়ে মতামত দিতে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে নানা জটিলতায় আবারও ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। খসড়ায় অনিয়মের জন্য শিক্ষকদের শাস্তি ও কোচিং বাণিজ্য বন্ধের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক সংগঠনসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে আপত্তি ওঠে। শিক্ষকরা এ আইনের বিরুদ্ধে মাঠেও নামেন।

আবার ‘শিক্ষানীতি-২০১০’ অনুযায়ী শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল চালু,বেতন কর্তন ও সামারি ট্রায়ালে শিক্ষকদের শাস্তি বিধানের ধারা থাকায় এর বিরুদ্ধে নামে শিক্ষক সংগঠনগুলো। এরপর উদ্যোগটি স্তিমিত হয়ে যায়।

খসড়া আইনটির ওপর সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৩৪টি, বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৯৪টি ও বিশিষ্ট নাগরিকসহ ব্যক্তি পর্যায়ে ১০৬টিসহ মোট ২৩৪টি মতামত নেওয়া হয়েছিল। এরপর ২০১৪ সালে আবারও আইন প্রণয়নে উদ্যোগ নেয় মন্ত্রণালয়।

ওই বছরের ২৮ আগস্ট প্রস্তাবিত ‘শিক্ষা আইন ২০১৪’ এর খসড়া পর্যালোচনায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদানের কথা বলা হয়। খসড়া আইনে ৬৭টি ধারা ছিল।

খসড়া আইন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অনিয়ম, দুর্নীতিতে জড়িত, ভুয়া সনদে চাকরি এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর বেতনের সরকারি অংশ (এমপিও) এবং প্রতিষ্ঠানের এমপিও সাময়িক বন্ধ, আংশিক বা সম্পূর্ণ কর্তন কিংবা বাতিলেরও বিধান রাখা হয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এসব অপরাধ রোধে দেশের প্রচলিত আইনে তেমন কার্যকর সুরক্ষা নেই। এর ফলে শিক্ষা সেক্টরে বড় ধরনের অপরাধ করেও প্রচলিত আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন অপরাধীরা।অনিয়ম ও দুর্নীতি করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকরা প্রায়ই উচ্চ আদালতে মামলা করে থাকেন। এসব মামলায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন আদেশ ও নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। মামলাগুলো লড়তে গেলে আদালত জানতে চান,কোন আইনের ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।তখন বিভিন্ন বিধিমালার কথা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হলেও আদালতে তা ততোটা গুরুত্ব পায় না।কারণ সুনির্দিষ্টভাবে কোনো আইন দেখানো সম্ভব হয় না। এ সব কারণে বেশিরভাগ মামলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় হেরে যায়।

শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ গণমাধ্যমকে বলছেন, আইন না থাকায় অনেক অপরাধী অপরাধ করে যাচ্ছেন। তাদেরকে আইনে আটকানো যাচ্ছে না। আইনটি দ্রুত চূড়ান্ত হওয়া জরুরি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,নিষিদ্ধ হলেও দেশে এখনও নোট গাইডের ব্যবসা চলছে। নীতিমালা করে বন্ধ করে দেওয়া হলেও স্কুলগুলোতে এখনও চলছে কোচিং বাণিজ্য। প্রকাশ্যে নির্দেশ অমান্য করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন বই ব্যবসায়ী ও শিক্ষকরা। শিক্ষা আইনে নিয়ম না মানাদের বিরুদ্ধে শাস্তির কথা বলা আছে। কিন্তু শিক্ষা আইন চূড়ান্ত করা কেবলই বিলম্বিত হচ্ছে।

প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে কিংবা এর সঙ্গে জড়িত থাকলে বা সহায়তা করলে সর্বোচ্চ চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইনটি ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর সবার মতামত গ্রহণের জন্য অনলাইনে প্রকাশ করা হলে এই শাস্তির বিধান নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বারবার যেখানে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটছে সেখানে কঠোর শাস্তির বিধান না করে তা কমানো হয়েছে বলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই অবস্থায় ফের সিদ্ধান্ত নিয়ে খসড়া প্রকাশ করা হবে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়।কিন্তু সেই  খসড়া আর প্রকাশ করা হয়নি।

তবে মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ইতোমধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে মন্ত্রণালয়ে আইন চূড়ান্ত করার ব্যাপারে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বা এর সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণে শাস্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইন) আবদুল্লাহ আল আহসান চৌধুরী সোমবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আসলে আইনটি খুব দ্রুতই চূড়ান্ত হওয়া প্রয়োজন। আইনটি চূড়ান্ত করা নিয়ে আমাদের উপরেও বেশ চাপ আছে। আশা করছি চলতি মাসেই চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।

তবে এটি আবারও মতামত চেয়ে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে আমরা কেবিনেটে পাঠাবো। এরপর সংসদে এটি পাস হবে।

আইনটি চূড়ান্ত হতে এতো সময় লাগার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘একটি আইন তৈরি করা খুবই কঠিন কাজ।আইন তৈরি করতে অনেক কিছু হিসাব করে তবেই চূড়ান্ত করা হয়।’

 

/আরএআর/ এমএসএম/

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ