বিবিএসের জরিপে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ কমেছে!

Send
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ১৮:০৭, মার্চ ০৮, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৬, মার্চ ০৮, ২০১৬

নারী প্রতীককর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ কমেছে। ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মোট কমার হার আড়াই শতাংশ। তবে কেন কমেছে তার নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে- ২০১০ সালে শ্রমশক্তির জরিপে নারীর অংশগ্রহণ ছিল ৩৬ শতাংশ। অপরদিকে সর্বশেষ ২০১৩ সালের জরিপে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিবিএস থেকে জানা যায়, তাদের সর্বশেষ জরিপটি করা হয় ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। ৬৪টি জেলাতেই জরিপ কাজ চলে। জরিপ অনুযায়ী শ্রমশক্তিতে পুরুষের হার ৮১ দশমিক ৭ শতাংশ, নারীর হার ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ। জরিপটি প্রকাশিত হয় গত বছরের অক্টোবরে।
বিবিএসের জরিপ থেকে আরও জানা যায়, বাংলাদেশের শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মমকর্তা বা নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নারীর সংখ্যা মাত্র ৪ হাজার ৯৮৫ জন। শতকরা হিসাবে এই সংখ্যা মাত্র ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। বিবিএসের হিসাবে শিল্পখাতে উচ্চ আসনে নারী রয়েছেন ২ হাজার ২৪৩ জন এবং সেবা খাতে এই সংখ্যা ২ হাজার ৭৪১ জন।
অপরদিকে বিবিএস থেকেই জানা গেল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ শিল্প, কৃষি ও সেবা খাতে নীতি নির্ধধারণী পর্যায়ে আছেন ৮৬ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কিংবা নীতি নির্ধারণী পদে আছেন ৩৭ হাজার ৩৮২ জন, কৃষিখাতে ১ হাজার ৫২৩ জন, শিল্প খাতে ৯ হাজার ৮৮৮ জন এবং সেবা খাতে ২৫ হাজার ৯৭১ জন।

এদিকে বাংলা ট্রিবিউনের এক জরিপে উঠে এসেছে, গৃহিণীরা পেশায় যোগদানের বিষয়ে নিজেদের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করলেও তাদের অধিকাংশেরই স্বাধীনভাবে বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই। এদের ৭০.৯৪ শতাংশ ইচ্ছা করলেই বাইরে যেতে পারেন না।

সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনের দেশব্যাপী ৪ হাজার ৮০০ নারীর ওপর পরিচালিত নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

এদিকে স্বাধীনভাবে পেশা বেছে নিতে পেরেছেন কিনা এই প্রশ্নের জবাবে প্রায় ৬৭ শতাংশ নারী ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দিয়েছেন। এই হার গ্রামের তুলনায় শহরেই বেশি দেখা গেছে। শহরের প্রায় ৬৮ শতাংশ কর্মজীবী নারী স্বাধীনভাবে পেশা বেছে নিতে পারার কথা জানিয়েছেন, অপরদিকে গ্রামের প্রায় ৬৬ শতাংশ নারী এক্ষেত্রে সফল হয়েছেন।

বিবিএস সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সাল পর্যন্ত শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও তারপর থেকে আর এ হার বাড়েনি বরং কমেছে। যেখানে ২০০৫-২০০৬ সালে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল ২৯ দশমিক ২ শতাংশ। তারও আগে ২০০২-২০০৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৬ দশমিক ১ শতাংশ।

শ্রমশক্তিতে নারীর অংশ কম কেন, জানতে চাইলে মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, ‘নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সবার আগে। সেটা কর্মক্ষেত্র, যাতায়াতসহ সবখানে। নারীকে সন্তান পালনের সুযোগ দিতে হবে এবং অফিসগুলোকে এই বিষয়ে সহযোগিতা করতে হবে। একইসঙ্গে বাড়াতে হবে নারীর দক্ষতা। তাইলেই শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়বে।’

অপরদিকে, জাতিসংঘের শান্তি মিশন দারফুরের কেন্দ্রীয় সেক্টরের প্রশাসনিক প্রধান রাশিদা সুলতানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নারীদের চাকরির পথটা বন্ধুর।’

রাশিদা সুলতানা বলেন, ‘আমি যে কয়জন আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল, অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি জেনারেল বা উর্ধধ্বতন নারী কর্মকর্তাকে দেখেছি, সিনিয়র পজিশনে তারা খুবই প্রেরণাময়ী। যে কারও জন্য তারা রোল মডেল হওয়ার মতো। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। একজন শাইনিং অফিসার যদি দেখেন যে পুরুষ হোক কিংবা নারী তাদেরকে তৈরি করেন নেতা হিসেবে, যেন তারা পূর্বসুরীদের জায়গায় যেতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘নানা সময়ে নারীদের দাবিয়ে রাখার প্রয়াস চলে। যেমন- প্রথম পুলিশ বিভাগে নারী কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন ১৯৮৪ কিংবা ১৯৮৫ সালের দিকে। এরপর বিসিএস পুলিশ সার্ভিসে মেয়েদের অংশগ্রহণ বন্ধ করে দেয় এরশাদ সরকার। পরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ১৯৯৯ সালে ক্ষমতায় আসেন তখন তিনি আবার পুলিশে নারীদের অংশগ্রহণের পথ সুগম করেন। এখন ধীরে ধীরে নানা জায়গায় নারীরা কাজ করছেন, তবে এ সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে।’

নারীদের কাজের পরিবেশ এবং শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ সর্ম্পকে জানতে চাইলে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মেরীনা নাজনীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নারীদের অংশগ্রহণ আশাব্যঞ্জক অবশ্যই। তবে নারীদের এখন কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। পরিবর্ততন যেটা হয়েছে, আগে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের কম অংশগ্রহণ থাকলেও এখন মানসিকতায় পরিবর্তন এসছে। কোথাও কোথাও নারীদের বেশি প্রাধান্যও দেওয়া হয়ে থাকে। কারণ মেয়েরা অনেক বেশি সিনসিয়ার। এ কারণে মেয়েরা এপ্রিসিয়েশন পাচ্ছে এবং তাদের কাজের উৎসাহ আরও বেড়ে যাচ্ছে।’

সচিবালয় কিংবা প্রশাসনের অবস্থা দিয়ে পুরো দেশের অবস্থা বিবেচনা করা যাবে না বলে মনে করেন মেরীনা নাজনীন। তিনি বলেন, ‘কোথাও একটা থেকে শুরু হতে হবে। সেই হিসেবে বিসিএস ক্যাডার দিয়ে এটা শুরু হয়েছে এটা বলতে পারি। মাঠ পর্যায়ে জেন্ডার নিয়ে বিভিন্ন কাজ হচ্ছে, যেটা নিয়ে আমরা আশাবাদী।’

/এজে/

লাইভ

টপ