behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

ইউপি নির্বাচনি সহিংসতায় পাঁচ জেলায় নিহত ৯

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক০১:২৪, মার্চ ২৩, ২০১৬

নির্বাচনি সহিংসতাইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম দফায় মঙ্গলবার দেশের ৩৩ জেলার ৭১২টি ইউনিয়নে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটগ্রহণকালে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। তবে ভোট গণনাকালে পিরোজপুর, নেত্রকোনা, কক্সবাজার ও সিরাজগঞ্জে সহিংসতায় ৮জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে পিরোজপুরে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে বিজিবির গুলিতে নিহত হয়েছেন ৫ জন। বাকি চার জেলায় ১ জন করে নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, মঠবাড়িয়ায় ২নং ধানিসাফা ইউনিয়নে ভোট গণনার সময় বেশ কিছু ব্যালট বাতিল নিয়ে নির্বাচনি কর্মকর্তা ও প্রশাসনের ওপর আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের হামলা ঠেকাতে বিজিবির গুলিতে ৫ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সাপা ডিগ্রি কলেজে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনজন। তারা হলেন, শাহাদত (৩৮), কামরুল মৃধা (২৫) ও সোহেল (২৫)। এছাড়াও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়। এরা হচ্ছেন বেলাল (২৮) ও সোলায়মান মোল্লা (৩২)।

পুলিশের দাবি, আওয়ামী লীগের প্রার্থী হারুন উর রশীদের সমর্থকরা ওই কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় তাদের ঠেকাতে বিজিবি গুলি চালাতে বাধ্য হয়।

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, টেকনাফে ইউপি নিবার্চনে ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে শফিক আলম নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। টেকনাফ উপজেলার শাবরাং ইউনিয়নের শাহাপরী দ্বীপ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের পক্ষ থেকে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। এ সময় গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন আরও ১৫জন।
নিহত শফিক আলমের (২৫) বাবার নাম দুদু মিয়া। নিহতের বাবা দুদু মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সোনা  আলী ও বিদ্রোহী প্রার্থী নূর হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় গোলাগুলির সময় নিহত হন শফিক।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, খালিয়াজুরি উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোট গণনার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে আদাউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।  

নিহত আওয়ামী লীগ কর্মীর নাম গোলাম আবু কাউছার ওরফে কাউছার মিয়া (৩২)। তিনি খালিয়াজুরি ৩ নম্বর সদর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান  মো. গোলাম আবু ইছহাকের ছোট ভাই।
তবে নিহতের ভাই আরিফুল ইসলাম ফালাকের দাবি পুলিশের গুলিতে কাউছার মিয়া নিহত হয়েছেন।

রাত নয়টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান প্রামাণিক এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে গুলির কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের জয়েনপুর গ্রামে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় এক নারী নিহত হয়েছেন। নিহত নওনাই বেওয়া নির্বাচনে বেসরকারিভাবে জয়ী ইউপি সদস্য নবাব আলীর শাশুড়ি। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নবাব আলী ও পরাজিত প্রার্থী সামিদুল হকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তার মৃত্যু হয়। সংঘর্ষে আহত হন আরও ১০ জন।

আহতদের মধ্যে ওই গ্রামের মালেককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়া মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ডিবি পুলিশের ওসি ওয়াহেদুজ্জামান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলার পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবির উপ-পরিচালক ইকবাল আখতার জানিয়েছেন, ঘটনার পর সেখানে বিজিবি ও পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স পাঠানো হয়েছে।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠি সদর উপজেলার নির্বাচনি সহিংসতায় দুই ইউপি সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ইউপি সদস্য চুন্নু সিকদারের আপন বড় ভাই আবুল কাশেম সিকদার(৬৫) গুরুতর আহন হন। পরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেল ৪টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

/এএ/টিএন/এইচকে/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ