Vision  ad on bangla Tribune

ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটনয় বছর ধরে বেতন পান না ৫২ জন!

জাকিয়া আহমেদ০৭:৫৯, মার্চ ২৪, ২০১৬

বছরের পর বছর ধরে পোড়া রোগীদের শরীরের ক্ষত সারিয়ে সুস্থ করে তুলতে সাহায্য করেন বার্ন ইউনিটের কর্মীরা। এক সময় রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরে যান। অথচ নিজেদের মনের ক্ষত বছরের পর বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। দিনকে দিন এই ক্ষত বেড়েই চলেছে। সেইসঙ্গে রয়েছে ভাইরাস আতঙ্ক। বার্ন ইউনিটের এসব নয় বছর ধরে বেতন ছাড়াই চাকরি করছেন  ডিএমসিএইচ-এর  এই কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না দীর্ঘ নয় বছর ধরে। সেই সঙ্গে চাকরি রয়ে গেছে অস্থায়ী। তারা চান- বেতনের সঙ্গে সঙ্গে চাকরিটাও স্থায়ী হোক।
জানা গেছে, ২০০৪ সালে যখন বার্ন ইউনিট শুরু হয় তখন তারা ছিলেন ৩২ জন, এখন আছেন ৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪০ জন বাকি ১২ জন নারী। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জামাল, সোহেল, সুরুজরা জানালেন এসব কথা। তারা বার্ন ইউনিটে কাজ করেন। রোগীদের অপারেশন থিয়েটারে আনা-নেওয়া, অপারেশনের পর তাদের পরিষ্কার ও ড্রেসিং করার কাজ করেন। তারা বলেন, বার্ন ইউনিট যখন চালু হয় তখন খুব কদর ছিল। আর এখন আমরা পরগাছা হয়ে গেছি সরকারের কাছে।
বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এখানে কাজ করছেন জামাল। ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বেতন পেয়েছেন। তারপর থেকে তারা কেউ আর বেতন পাননি। রোগী ও রোগীর আত্মীয়রা যে কয় টাকা টিপস দেন, তাই দিয়ে চলে তাদের সংসার, বেঁচে থাকে তাদের পরিবার। এমএলএসএস পদের আরেকজন সোহেল বলেন, বেতন পেয়েছি দুই বছর। নীমতলীর মতো ভয়াবহ ঘটনা আমরা দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছি, সে কথা কে না জানে। দেশজুড়ে আমাদের প্রশংসা হয়েছিল। মিডিয়াতে আমাদের ছবি গেছে। কিন্তু প্রশংসা দিয়ে জীবন চলে না, জীবনের জন্য দরকার টাকা, টাকা না হলে তো পেট চলে না। কিন্তু কে শোনে আমাদের কথা, কে বুঝবে আমাদের ব্যথা! কেউ নাই আমাদের জন্য! না আছে এই হাসপাতালের কর্তাব্যক্তিরা, না আছে সরকার! রোগীরা খুশি হয়ে আমাদের যা দেন তাই দিয়ে সংসার চলে। কিন্তু এটা কি বেঁচে থাকা? এভাবে তো সংসার চলতে পারে না। প্রতিনিয়ত দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে চলেছে। কীভাবে বাঁচি আমরা? আবার সবাই যে টিপস দেয় তাও তো না। এতবছর ধরে এখানে কাজ করছি, নতুনদের মতো করে তো হাতও পাততে পারি না।
উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা সোহেল বলেন, এই হাসপাতালের সবচেয়ে বেশি ইনফেকশন হয় বার্ন ইউনিট থেকে। আমাদের অনেকেই আছেন যারা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছি সেই শুরু থেকে। তাদের কোনও চিকিৎসার খরচও হাসপাতাল থেকে দেওয়া হচ্ছে না। শুরু থেকেই আমাদের একটা করে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা ছিল। আমরা এখন সেটাও পাচ্ছি না। প্রশাসন আমাদের দিয়ে সবকিছু করায় কিন্তু আমরা কিছু পাচ্ছি না।

সোহেল বলেন, আজ মঙ্গলবারও আমরা বৃক্ষমানব খ্যাত আবুল বাজানদারের ড্রেসিং করলাম। স্যাররা তো অপারেশন করে চলে যাচ্ছেন। তার বর্জ্যগুলো কিন্তু আমাদেরই বহন করতে হয়। কিন্তু আমাদের জন্য কি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নিয়েছেন? নেননি।

অপরদিকে সুরুজ জানালেন, নয় বছর ধরে বেতন নাই। কত কষ্টে যে জীবন কাটাইতাছি সেটা কেবল আমরাই জানি। স্যারেরা বার বার আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। সেই আশ্বাসে এখনো আছি। এখন বলা হচ্ছে, চাকরি স্থায়ী করার ক্ষেত্রে বয়স বাধা আমাদের। কিন্তু এখন থেকে কেন বয়স ধরবে? ২০০৪ সাল থেকে কাজ করছি, তখন থেকে বয়স ধরতে হবে, না হলে সব যাবে আমাদের। অনেক মানুষ এখান থেকে ঝরে যাবে। কিন্তু পুরো জীবন এই বার্ন ইউনিটে কাটাইয়া সব যদি হারাইতে হয় তাইলে কি পাইলাম জীবনে। এর হিসাব আমরা কার কাছে চাইমু- বললেন সুরুজ। অভিযোগ করে সুরুজ বলেন, কত সরকার আসলো-গেলো কিন্তু আমাদের অবস্থার কোনও পরিবর্তন হলো না।

আমরা চাই, শুধু আমাদের চাকরিটা সরকারিভাবে স্থায়ী করা হোক। আর কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই আমাদের।

নয় বছর ধরে একটাই আশা করে যাচ্ছি- শুধু চাকরিটা হোক। প্রধানমন্ত্রী তো কয়েকবার এসেছেন এখানে। আমাদের তো কোনও বিহিত এখনো হয়নি। বেতনটাও যদি ঠিকমতো পাইতাম তাইলেও বুঝ দিতে পারতাম নিজেরে। ঈদের সময়ও দশটা টাকা আমরা পাই না, ছেলে-মেয়েকে একটা নতুন জামা কিনে দিতে পারি না, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের হাতে তুলে দিতে পারি না দশটা টাকা।

জানতে চাইলে বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা. সামন্ত লাল সেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ধীরে ধীরে সব হবে আশা করি। ওদের নিয়ে অনেক চিন্তাভাবনা রয়েছে আমাদের। নতুন যে বার্ন ইন্সটিটিউট হচ্ছে সেখানে তাদের স্থায়ীকরণ করা হবে।

/এএইচ/এপিএইচ/

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ