behind the news
IPDC  ad on bangla Tribune
Vision  ad on bangla Tribune

আদালত অবমাননাদুই মন্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে জেল

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট১০:৪১, মার্চ ২৭, ২০১৬

খাদ্যমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

আদালত অবমাননার অভিযোগে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজ্জাম্মেল হককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আপিল বিভাগ। আদালত নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার নোটিশের ব্যাখ্যা খারিজ করে দিয়ে এ আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আগামী ৭ দিনের মধ্যে জরিমানার এ অর্থ জমা দিতে হবে, অনাদায়ে তাদের সাতদিনের জেল খাটতে হবে।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে সকালে নোটিশের জবাব দিতে সুপ্রিম কোর্টে হাজির হন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তারা দুজনই নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছেন।

রবিবার সকালে এ বিষয়ে প্রাথমিক শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে। সকাল ১০টা ১০ মিনিট পর্যন্ত শুনানি মুলতবি রাখেন আদালত।

রায়ের আগে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা উচ্চ আদালতের বিচারকরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করেছি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে (দুই মন্ত্রী যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছিলেন) অনেকের নাম এসেছে। সবার নামে আমরা প্রোসিডিংস ড্র করিনি। প্রকৃতপক্ষে কনটেম্পট নিয়ে আমরা বাড়াবাড়ি করতে চাইনি। আদালত বলেন, ‘দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কনটেম্পট প্রোসিডিংস ড্র করা হয়েছে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়র জন্য।’

কী বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন আদালত আদেশের পর সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আদালতে মর্যাদা কোনওভাবেই ক্ষুণ্ন করা উচিত নয়, এ বিষয়টি যাতে দুই মন্ত্রীর সাজার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ বুঝতে পারে সেই বার্তাই আপিল বিভাগ দিতে চেয়েছেন।

এর মধ্যে খাদ্যমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) নতুন করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন জমা দিয়েছিলেন। আর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর আগের আবেদনটিই উপস্থাপন করা হয়েছে।

কামরুল ইসলামের পক্ষে শুনানি করেছেন আবদুল বাসেত মজুমদার। মোজাম্মেল হকের ক্ষমা চেয়ে করা আবেদনটি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। আদালতের নির্দেশে দুই মন্ত্রীর করা মন্তব্য পড়ে শোনান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

দুই মন্ত্রীর পক্ষে গত ১৪ মার্চ নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় নোটিশের জবাব দাখিল করেন। পরে ২০ মার্চ সকালে হাজির হন দুই মন্ত্রী। ওইদিন আপিল বিভাগ খাদ্যমন্ত্রীর নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে করা আবেদন গ্রহণযোগ্য মনে না হওয়ায় খারিজ করে দেন আদালত এবং ২৭ মার্চ দুই মন্ত্রীকে ফের হাজির হতে নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার নতুন করে ব্যাখ্যা দিয়ে আবেদন জমা দেন আদালত। যেখানে তিনি বলেছেন, তিনি আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করছেন। তিনি ভবিষ্যতে আর এ ধরনের আদালত অবমাননাকর বক্তব্য দেবেন না এবং আদালত যে আদেশ দেবেন তা মাথা পেতে নেবেন। এসময় আদালত খাদ্যমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য নিয়ে জনকণ্ঠে প্রকাশিত বক্তব্যের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বলেন, এ মন্তব্য আদালতকে প্রভাবিত করতে পারবে না। যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে তা তাদের স্তম্ভিত করেছে বলেও আগে জানিয়েছিলেন আদালত।

গত ৫ মার্চ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আলোচনা সভায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে বাদ দিয়ে মীর কাসেমের মামলার আপিল শুনানি পুনরায় করার দাবি জানান খাদ্যমন্ত্রী। ওই একই অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীও ছিলেন এবং তিনিও মন্তব্য করেছিলেন এ বিষয়ে। এ বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশের পর গত ৮ মার্চ খাদ্যমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে তলব করেন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে নোটিশ জারি করেন।

সরকারের এ দুই মন্ত্রীকে ১৫ মার্চ সকাল ৯টায় সর্বোচ্চ আদালতে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। অন্যদিকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয় ১৪ মার্চের মধ্যে। নোটিশে কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না- তা দুই মন্ত্রীর কাছে জানতে চান আপিল বিভাগ।

/ইউআই/এসটি/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ