ভুভুজেলা বন্ধে আপত্তি নেইরাত আটটা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করতে অনড় সাংস্কৃতিক জোট

জাকিয়া আহমেদ২৩:৪০, এপ্রিল ০৫, ২০১৬




বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রাপহেলা বৈশাখে ভুভুজেলা বাঁশি ও মুখোশ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে বিকেল ৫টার মধ্যে সব অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারের এসব নির্দেশ তারা মানবেন না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

উৎসব সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে বাংলা বছরের প্রথম দিনকে বরণ করে নেওয়ার উৎসব সার্বজনীন রূপ নিয়েছে। পহেলা বৈশাখে মুখোশের ব্যবহার বাঙালি সংস্কৃতির একটি অংশ। আর বিকেল পাঁচটার মধ্যে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার ঘোষণা দেওয়ার আগে কোনও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেই আলোচনা করা হয়নি।

তারা বলছেন, মুখোশের বিষয়টি বাঙালির সংস্কৃতির অংশ, মুখোশ তারা পরবেন এবং বিকেল পাঁচটা নয়, রাত আটটা পর্যন্তই তারা অনুষ্ঠান করবেন। তবে ভুভুজেলা নিষিদ্ধ করার বিষয়টিকে তারা সমর্থন দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ সচিবালয়ে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, পহেলা বৈশাখে মুখোশ পরা ও ভুভুজেলা বাজানো নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে বিকেল ৫টার মধ্যে সব ধরনের অনুষ্ঠান শেষ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশ সর্ম্পকে জানতে চাইলে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান একটি হয় সকালে আরেকটি হয় বিকেলে। পাঁচটাতো বিকেল, অনুষ্ঠান শুরুই হয় তখন। পাঁচটায় যদি সবাইকে চলে যেতে হয়, তাহলে কি বিকেলের অনুষ্ঠান হবে না? সারাদেশে বিকেলে কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে না? এ অনুষ্ঠান যারা করেন, সরকার কি তাদের সঙ্গে একবারও আলোচনা করেছে? তাদের মতামত নিয়েছে?’

তিনি বলেন, ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন কিংবা পথনাটক পরিষদের মতো জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একবারও বসেনি সরকার। তাহলে এমন ঘোষণা কী করে দিতে পারে?’

অপরদিকে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ‘নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হঠাৎ করে ঘোষণা দিলেন, পহেলা বৈশাখে মুখোশ ব্যবহার করা যাবে না। এটি আমাদের বিস্মিত করেছে। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি।’

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘যদি সরকার মনে করে এখানে একটা ক্রাইসিস রয়েছে, তাহলে তো সবার সঙ্গে মতবিনিময় করে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছি। আমাদের দাবি, অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার সময় রাত ৮টা পর্যন্ত করা হোক। না হলে এ সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষে মানা সম্ভব নয়। আপনারা কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, তা না হলে সারাদেশের সংস্কৃতিকর্মীরা আইন অমান্য করতে বাধ্য হবে। আর ভুভুজেলা নিষিদ্ধ করার বিষয়টিকে আমরা অভিনন্দন জানিয়েছি, সমর্থন করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মুখোশের বিষয়েও আমাদের কিছু দাবি রয়েছে। যেসব মুখোশ বা প্রতিকৃতি আমরা শোভাযাত্রায় বহন করি সেগুলোর ব্যাপারে আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু যে ধরনের মুখোশ পরে লোকসমাগমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যায়, সে ধরনের মুখোশ নিষিদ্ধ হলে আমাদের আপত্তি নেই। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য স্পষ্ট নয়।’

উল্লেখ্য, গত পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে টিএসসিতে নারীদের লাঞ্ছনা করে একদল যুবক। এ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় চলে। বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশও নারীর ওপর লাঠিচার্জ করে। টিএসসির ঘটনায় ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও থেকে আটজনের ছবি প্রকাশ করে পুলিশ। আজ পর্যন্ত তাদের কেউ গ্রেফতার হয়নি।

/এজে/

লাইভ

টপ