behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বাংলাদেশে আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছেন দুই কোটি মানুষআর্সেনিক প্রতিরোধে সরকার ব্যর্থ: এইচআরডব্লিউ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট১৩:২৯, এপ্রিল ০৬, ২০১৬

আর্সেনিক দূষণ

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনও প্র্রায় দুই কোটি মানুষ আর্সেনিক দূষিত পানি পান করছে। দেশে খাওয়ার পানিতে আর্সেনিক শনাক্ত হওয়ার ২০ বছর পরও সরকার এই সমস্যার প্রতিকারে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বুধবার (৬ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এই দাবি করেছে।

‘নেপোটিজম অ্যান্ড নেগলেক্ট: দ্য ফেইলিং রেসপন্স টু আর্সেনিক ইন দ্য ড্রিংকিং ওয়াটার অব বাংলাদেশ’স রুরাল পুয়র’ শিরোনামের ১১ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যের ওপর আর্সেনিক দূষণের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত দেওয়া হয়েছে।

অন্য এক  গবেষণার বরাত দিয়ে এইচআরডব্লিউ জানায়, বাংলাদেশের আর্সেনিক সংক্রান্ত অসুস্থতায় প্রতিবছর প্রায় ৪৩ হাজার লোক মারা যায়। সরকার নির্দেশিত নীতিমালায় ত্বকের সমস্যাকে আর্সেনিকে আক্রান্ত হওয়ার প্রধান লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা আছে। তবে এইচআরডব্লিউয়ের দাবি, আর্সেনিক দূষণের শিকার অধিকাংশ মানুষের ত্বকে তেমন কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। বরং আর্সেনিকের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ক্যান্সার, হৃদরোগ, ফুসফুসের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই অনেকেই জানেনই না যে তারা আর্সেনিক সমস্যায় আক্রান্ত।    

প্রতিবেদনের লেখক ও এইচআরডব্লিই’র জ্যেষ্ঠ গবেষক রিচার্ড পিয়ার্সহাউজ বলেন, ‘বাংলাদেশ তার প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখো গরিব মানুষের খাওয়ার পানিকে আর্সেনিকমুক্ত করার জন্য মৌলিক ও জরুরি পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে না। সরকারের আচরণ এমন যে সমস্যা অনেকাংশেই সমাধান হয়ে গেছে। তবে আর্সেনিক দূষণের কারণে প্রাণহানি ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকার ও আর্ন্তজাতিক দাতারা আরও বেশি চেষ্টা করতে পারে।’   

এই প্রতিবেদন তৈরির জন্য এইচআরডব্লিউ ১৩৪ জন লোকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচটি গ্রামে সরকারি নলকূপের রক্ষণাবেক্ষণকারী, সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মীরাও রয়েছেন। ২০০৬ সাল থেকে ২০১২ সাল নাগাদ সরকারের উদ্যোগে স্থাপন করা এক লাখ ২৫ হাজার পানির উৎসের তথ্যও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউ

এ পর্যন্ত বাংলাদেশের অনেকস্থানে টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক শনাক্ত হয়েছে। গভীর নলকূপেরও পানিতে আর্সেনিক থাকার শঙ্কা কম। তবে আর্সেনিক দূষণের শিকার বেশিরভাগ এলাকায় সরকার গভীর নলকূপ স্থাপনের বিষয়ে প্রাধান্য দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছে এইচআরডব্লিউ। বরং বাংলাদেশের স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের অনেক রাজনৈতিক নেতাই যেসব স্থানে নলকূপ বসানোর প্রয়োজন সেখানের পরিবর্তে তাদের সমর্থকদের জন্য সুবিধাজনক স্থানে নলকূপ বসানোর ব্যাপারে সাহায্য করেছেন বলে অভিযোগ করেছে।     

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০০৪ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে আর্সেনিক দূষণের শিকার এলাকাগুলোয় প্রায় ১৩ হাজার টিউবওয়েল বসানো হয়। সেগুলো সঠিক জায়গায় বসানো হয়েছে কিনা সেব্যাপারেও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।

/এফএস/ 

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ