মাদকের মূলোৎপাটনে শিক্ষকদের দায়িত্ব নিতে হবে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৩৬, এপ্রিল ০৬, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩৯, এপ্রিল ০৬, ২০১৬

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদদেশ থেকে মাদকের মূলোৎপাটন করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরই এর মূল দায়িত্ব নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
বুধবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর আয়োজিত ‘‘মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা’’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী সভায় উপস্থিত শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নিজ নিজ এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ শুরু করার আহ্বান জানান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা মাদকের দিকে ধাবিত হলে তার জবাবদিহি আপনাদেরকেই করতে হবে। দেশে বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, শিক্ষার্থীরাই মাদকের ভয়াল নেশায় জড়িয়ে পড়ে। আর এ পথ থেকে শিক্ষার্থীদের ফেরাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের ভূমিকাই বেশি। প্রত্যেক শিক্ষককে তাদের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানাতে হবে।
সন্তানদের সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সন্তান কোথায় যায়, কী করে, কার সঙ্গে মেশে; সেই খোঁজখবর রাখুন। কুসঙ্গ হলে পরিত্যাগ করার পরামর্শ দেন। সন্তানের সঙ্গে এমন কোনও আচরণ করবেন না, যাতে সন্তান মাদক সেবনে আগ্রহী হয়।

তিনি বলেন, সামাজিক সচেতনতাই মাদক নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ জন্য সবার সহযোগিতায় সামাজিক আন্দোলন ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। একে অন্যকে দোষারোপ না করে সবাইকে নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একজন মাদকাসক্ত মানুষের জীবন মৃত্যুর চেয়েও অনেক কষ্টের। মানুষ মরার সময়ও এত কষ্ট পায় না, যে কষ্ট একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি তার জীবনে পেয়ে থাকেন।

মাদকাসক্ত হওয়া শুধু ব্যক্তির দোষ নয় মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই খেলার মাঠ নেই, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হয় না, বিনোদনের মাধ্যম নেই। এ ধরণের অনেক কারণে শিক্ষার্থীরা মাদকের প্রতি ঝুঁকে পড়ে।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মানুষ মনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া, দুঃখ-কষ্ট ভুলে থাকতে নাকি মাদক সেবন করে। কিন্তু আমি দেখেছি মাদকাসক্তরা কেমন কষ্ট পায়। মাদক না পেলে তাদের খিঁচুনি ওঠে, শারীরিক যন্ত্রণা হয়, নিজের মাথার চুল ছিঁড়ে, পাগল হয়ে যায়।

আলোচনা সভায় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, নিজেরা সচেতন হও, বন্ধুদের সচেতন করো, তোমরা এবং তোমাদের বন্ধুরা যেন কেউ মাদকাসক্ত না হও।



মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) এস এ মাহাবুব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন প্রমুখ।

/আরএআর/ এপিএইচ/

লাইভ

টপ