behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে শিশুদের ডায়াবেটিস!

জাকিয়া আহমেদ০৭:৫৩, এপ্রিল ০৭, ২০১৬

আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে শিশুদের ডায়াবেটিসডায়াবেটিস পরীক্ষা। এর জন্য খাদ্যাভাস, জীবনাচরণ এবং পরিবেশের দূষণ মূলত দায়ী। ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। এবার স্বাস্থ্য দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ডায়াবেটিস রোগ। দেশে শিশুদের ডায়াবেটিসের হার দিনকে দিন বাড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে তা মহামারীর পর্যায়ে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,মনে রাখতে হবে সবার আগে শিশু।শিশুরা রোগাক্রান্ত হওয়া মানে আগামীদিনের জাতি রোগগ্রস্ত হওয়া। তাই শিশুদের ডায়াবেটিসসহ যাবতীয় রোগ থেকে মুক্ত রাখতে তাদের স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ করে দিতে হবে।
ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিক ফেডারেশনের ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭১ লাখ। এর মধ্যে মোট পাঁচ শতাংশ শিশু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বাংলাদেশে মোট ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের মধ্যে পাঁচ শতাংশ হলো টাইপ টু ডায়াবেটিস, প্রধানতই শিশুরাই এর শিকার, জানালেন ডায়াবেটিক সমিতির পরিচালক (পাবলিকেশন্স) ফরিদ কবির।
ইব্রাহীম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ডা. আবু সাঈদ শিশুদের ডায়াবেটিস রোগ নিয়ে সম্প্রতি এক গবেষণা করেন। জানা যায়, এই গবেষণায় মোট অংশ গ্রহণকারীদের এক দশমিক আট শতাংশ ডায়াবেটিস রোগাক্রান্ত এবং তিন দশমিক চার শতাংশের রক্তে ডায়াবেটিসের প্রবণতা অর্থাৎ (আইএফজি) পাওয়া গেছে।
ডা. সাঈদ জানান, কম বয়সীদের চেয়ে বেশি বয়সী শিশুর ডায়াবেটিসের হার বেশি এবং গ্রামের শিশুদের চেয়ে শহরের শিশুরা ডায়াবেটিসে কম আক্রান্ত হয়। তবে পারিবারিক আয়ের সঙ্গে ডায়াবেটিসের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে গবেষণায় দেখা যায়। তিনি বলেন, যে সব পরিবারের আয় বেশি সেসব পরিবারের শিশুদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও ততো বেশি।
বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শিশু এবং তরুণদের ভেতরে আশঙ্কাজনক হারে ডায়াবেটিস বাড়ছে। আমরা বোধহয় তরুণদের ভেতরে এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারিনি। স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের রীতিনীতিগুলোও তাদের ঠিকমতো শিক্ষা দিতে পারিনি, আমি মনে করি, এটা আমাদের দোষ। পারিবারিকভাবেও পারি নাই। রাষ্ট্রীয়ভাবে ও সমষ্টিগতভাবেও পারছি না। তারা কোমল পানীয়, ফাস্টফুড খাচ্ছে, কিন্তু শাকসবজি  ও মাছ খাচ্ছে না। এগুলো মোটেও হেলদি ডায়েট না। দ্বিতীয়ত হলো, তাদের শরীরচর্চা এবং খেলাধূলার ব্যবস্থা নাই। এখনকার স্কুলগুলোতে খেলার মাঠ নাই। মাঠ না থাকলে তারা খেলবে কী করে। নিয়মিতভাবে স্কুলের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে অথচ সেখানে মাঠ থাকেনা। কেউ ভাবছেও না এসব নিয়ে।

আমাদের কারিকুলামে আগে ব্যায়াম ছিল, এখন এগুলোও নেই। এখন বইয়ের ভারে শিশুরা নুয়ে পড়ছে।শিক্ষার মধ্যে কোনও উদ্ভাবনী কিছু নেই। তাহলে ডায়াবেটিসতো হবেই। ডায়াবেটিসের যতগুলো উপকরণ রয়েছে,সবগুলোই আমরা তাদের চাপিয়ে দিচ্ছি। রাষ্ট্রের সমস্যা হলো, রাষ্ট্র  ডায়াবেটিসকে স্বাস্থ্য সমস্যা মনে করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি ভুল। এটি একটি সার্বিক সমস্যা। কারণ শিশু বয়সে ডায়াবেটিক হলে তার নিয়ন্ত্রণ থাকছে না, শিশুরা স্থূল হয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত তাদের চেকআপ নেই। এসব কারণে তাদের অন্যান্য রোগও হচ্ছে। তখন এর চিকিৎসা হয় ব্যয়বহুল। রাষ্ট্র এটি বহন করতে পারবে না। তখন এটি হবে জনগণের জন্য বোঝা।
অপরদিকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে ফাস্টফুড ও কোমল পানীয় জাতীয় খাবারের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা,এ সংক্রান্ত নিবন্ধ পাঠ্যপুস্তকে রাখা, কোমল পানীয় ও ফাস্টফুড জাতীয় খাবারের প্যাকেটের গায়ে চর্বির পরিমাণ ও ক্যালরি ভ্যালু উল্লেখ করা সময়ের দাবি বলে জানান।

এইপিএইচ/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ