behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

চৈত্রের গরমে বিপর্যস্ত দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক১৩:১৪, এপ্রিল ১১, ২০১৬

গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন

তীব্র গরম, কাঠফাটা রোদ ও লোডশেডিংয়ের কারণে খুলনা, যশোর, বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোয় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সূর্য ওঠার পরপরই চড়চড় করে বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অসহনীয় তাপদাহে গরম বাড়তে থাকে। এ অঞ্চলে এখন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে এ অঞ্চলের দিনমজুর, রিকশাওয়ালা, শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ, কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। সাধারণত ঘরের বাইরেই কাজ করতে হয় তাদের, কিন্তু, প্রচণ্ড তাপদাহে রোদের ভেতরে চলাফেরা করতেই কষ্ট হচ্ছে তাদের।

এরই মধ্যে বোরো ধান কাটার সময় চলে এসেছে। কিন্তু গরমের কারণে মাঠে থাকতে পারছেন না কৃষকরা। আবার সময়মতো ধান কাটতে না পারলে সামনে ঝড় বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও করছেন গৃহস্থরা।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তাপদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জেলায় বাড়ছে লোডশেডিং। ফলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। শহরেও দিনরাত চলছে বিদ্যুতের লুকোচুরি। তবে জেলা সদরের বাইরে একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে সহসাই আর ফেরে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

গত সপ্তাহে আঘাত হানা কালবৈশাখীতে কয়েশ কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। উপড়ে গেছে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি। সেই দুর্ভোগ কেটে উঠার আগেই তাপদাহ শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়েছে মানুষ। ঝড়ের পর এ এলাকায় গরমের তীব্রতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আবহওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাতাসে আর্দ্রতা না থাকায় তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। তাপ প্রবাহের পাশাপাশি বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিই এই অতিরিক্ত গরমের অন্যতম কারণ।

গরম

গরম আর লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের বেশি অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদের বরাত দিয়ে খুলনা প্রতিনিধি জানান, মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপদাহ চলছে। খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে আরও ২/৩ দিন এই অবস্থা থাকবে।

রবিবার খুলনার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৫ আর সর্বনিম্ন ২৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিসের খবর অনুযায়ী, এদিন কাছাকাছি তাপমাত্রা ছিল পাশাপাশি অন্যান্য জেলাগুলোতেও।

খুলনা শিশু হাসপাতালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আল আমিন জাকির জানান, ৮ এপ্রিল ডায়রিয়া আক্রান্ত ১৩ শিশু ও ৯ এপ্রিল ২৩ শিশু ভর্তি হয়। তীব্র গরমের কারণেই পানিশূন্যতা তৈরি হওয়ায় এরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।

এছাড়াও সোমবার খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪/৫ জন স্ট্রোকের রোগী ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

বাগেরহাট সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার ডা. প্রদীপ কুমার বকসী জানান, এই গরমে বেশিক্ষণ খোলা স্থানে থাকলে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা থাকে। ভ্যাপসা গরমে দেহ থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণ পানি বের হয়ে যায়। এ কারণে বেশি পরিমাণ পানি পান করতে হবে এবং প্রয়োজনে খাবার স্যালাইন খেতে হবে।

রিকশাভ্যান চালক রশিদ হাওলাদার বলেন, তীব্র গরমে সারাদিন খাটুনির পর রাতের ঘুমও ঠিকমত হচ্ছে না। তারপরেও জীবিকার তাগিতে এই রোদে রাস্তায় বের হতে বাধ্য হচ্ছেন।

এমন গরমে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। তারা নিউমোনিয়া, পাতলা পায়খানা, আমাশয়, জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে।

এবিষয়ে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. অরুন চন্দ্র মণ্ডল জানান, অতিরিক্ত গরমে রোগবালাই কিছুটা বেড়ে যায়। হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে।

যশোর প্রতিনিধি জানান, যশোর আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ অফিস থেকে জানা যায়, সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে যশোরের তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ৫৭ শতাংশ।

যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে বয়স্কদের মধ্যে হিট স্ট্রোকে আক্রান্তদের সংখ্যা বেশি। প্রতিদিন ৩ থেকে চারজন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এছাড়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুরাও চিকিৎসা নিচ্ছে। তবে বেশিরভাগ রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।    

গরমের কারণে হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়াসহ ভাইরাল ইনফেকশন জাতীয় নানা ধরনের রোগ হতে পারে বলে জানান যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রভাষক ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল।

তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি হয়। সে কারণে এই ধরনের রোগ বেশি হয়ে থাকে। রোদে বেশি ঘোরাঘুরি না করার এবং বেশি বেশি পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

/বিটি/এসটি/টিএন/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ