বিশেষজ্ঞদের অভিমত বাজেটে বিনিয়োগের তুলনায় রাজস্ব প্রাধান্য পেয়েছে

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ২২:৫১, জুন ০৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২৪, জুন ০৪, ২০১৬



বাজেটসদ্য ঘোষিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগের তুলনায় রাজস্ব আদায়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাজেটে রাজস্ব আদায়, ভ্যাট ও আয়করের সম্প্রসারণ ব্যবসায়ীদের চাপে ফেলেছে। এর মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ীদের উৎপাদিত পণ্যের ব্যয় বাড়বে। আর উৎপাদন ব্যয় বাড়লে তারা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে ব্যর্থ হলে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে বলেও মনে করেন তারা। তবে বাজেটকে বিনিয়োগবান্ধব করতে সরকারের চেষ্টা অনেক। যা সময়সাপেক্ষ।
এদিকে সরকারের ওপর মহল মনে করেন, পরিবেশ সৃষ্টির তুলনায় দেশের জিডিপি বাড়াতে শুধু যে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, তা নয়। কারণ জিডিপি বৃদ্ধি শুধু বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে না। জিডিপি বাড়াতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, এটা সত্য। কিন্তু জিডিপি বাড়াতে শুধু যে বিনিয়োগ দরকার সেটা নয়। মাথাপিছু আয়ও বাড়াতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিনিয়োগ বাড়াতে ১০টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগের দ্বার উন্মুক্ত হবে বলা হলেও তা ঠিক নয় বলে মনে করেন তারা। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নেও প্রয়োজন হবে অর্থের। আর সেই অর্থের পেছনেই ছুটতে হবে সরকারকে। রাজস্ব আদায় না হলে প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে না। তাই প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগের তুলনায় রাজস্ব আদায়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবদুল হক বলেন, আয়কর ও মূসকের চাপ সামলাতে ব্যবসায়ীরা হিমশিম খাবেন। কারণ অর্থমন্ত্রীর দেওয়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন করে ভ্যাট ও আয়করের সম্প্রসারণ ঘটেছে। যা ব্যাবসায়ীদের চাপে ফেলেছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লে ভোক্তারা দেশে উৎপাদিত পণ্য না কিনে কম মূল্যে আমদানিকৃত পণ্য কিনতে উৎসাহী হবেন। এতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নও প্রয়োজন। বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়কে কেন্দ্র করেই সরকারকে বেশি ব্যস্ত থাকতে হবে। এ কাজের জন্য সরকারের জনবল ব্যস্ত থাকবেন সারাবছর। অন্যচিন্তা বা কাজ করবেন কখন? আর মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিনিয়োগ সহায়ক হবে সত্যি, তবে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য তো অর্থেরও প্রয়োজন হবে।

আরও পড়তে পারেন: প্রবৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব হতে পারে, তবে...


এ প্রসঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারকদের অন্যতম পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বলেন, যে যাই বলুক, আশার কথা হলো, দেশে বিনিয়োগ কমেনি। এ বাজেটেও বিনিয়োগ বাড়ানোর নানা উদ্যোগের কথা বলা আছে। আমাদের জিডিপি বাড়াতে শুধু যে বিনিয়োগ দরকার তা নয়, ২০২০ সালের মধ্যে মাথাপিছু আয় বাড়িয়েও আমরা জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ অর্জন করতে পারব এবং তা সম্ভবও।
পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, এখন দেশে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১ কোটি ৮৪ লাখ ৭৭১ কোটি টাকা। অতীতের তুলনায় দেশে বিনিয়োগ বেড়েছে বলেও জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে শুক্রবার বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন উপলব্ধি করতে হবে বিভিন্ন সূচক দিয়ে। আমরা এর আগে বলেছি চলতি বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। যা বিশ্ব ব্যাংকও গ্রহণ করেছে। তাহলে দেশে বিনিয়োগ না হলে জিডিপির এ প্রবৃদ্ধি কিভাবে হচ্ছে? সুতরাং বাজেটে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সঠিক। তবে কিছু জায়গায় সংশোধন করা হতে পারে। বাজেটকে বিনিয়োগ বান্ধব বলা যায় অনায়াসেই।
বিনিয়োগ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে দিকনির্দেশনা রয়েছে বাজেটে। বিনিয়োগের প্রথম শর্ত নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সংযোগ। এটি ২০১৮ সালের আগেই নিশ্চিত হবে। তখন আর দেশে গ্যাস সংকট থাকবে না। আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর চাপ কমবে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, আমরা আর গৃহস্থালির কাজে গ্যাস সরবরাহ করব না। এটি এখন পুরোপুরি বন্ধ। এলএনজি উৎসাহিত করার কাজ চলছে। আমরা বাজেটেও এলএনজির জন্য সুসংবাদ দিয়েছি। এগুলো সবই করা হয়েছে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে। কাজেই এ বাজেট অবশ্যই বিনিয়োগ বান্ধব।
/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ