ডিজিটাল এমএলএম প্রতারক চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:২৮, জুন ১৬, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৫, জুন ১৬, ২০১৬





গ্রেফতারঅনলাইন এমএলএম প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন বিভাগ। বুধবার রাত ১০টার দিকে রমনা থানার মৌচাক এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন, নজরুল ইসলাম মামুন ও জহিরুল ইসলাম জহির।
ডিএমপি’র কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং টিমের সদস্যরা সাইবার গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে এই এমএলএম প্রতারক চক্রের সন্ধান পেয়ে তাদের গ্রেফতার করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর মৌচাক এলাকায় সহকারি কমিশনার নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন বিভাগের সদস্যরা। সেখান থেকে নজরুল ইসলাম মামুন ও জহিরুল ইসলাম জহিরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা ইন্টারনেট গাম্বলিং বা এমএলএম-এর মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তাদের অন্য সহযোগী আমিন, মহসিন ও সালামকে সঙ্গে নিয়ে বিদেশি ওয়েবসাইট http://impaxgold.com, https://www.facebook.com/ilgamosbd, http://ilgamos.com মাহতাব ফারাহি ও সাজিদ আফ্রিন আরমান https://www.facebook.com/ilgamosbd, http://ilgamos.com এবং ইউসুফ দিদার https://www.onecoin.com-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বিপুল অর্থ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানায়, তাদের চক্রের অনেকেই ‘অবৈধ ডেস্টেনি’ এমএলএম-এর সাবেক সদস্য। তাদের প্ররোচনায় এই ডিজিটাল এমএলএম এবং বিটকয়েন-এর যাত্রা শুরু হয়। তারা সাধারণ সদস্যদের উক্ত ওয়েবসাইটগুলোতে সদস্য বানিয়ে নির্দিষ্ট ডলারের বিনিময়ে ID বানিয়ে দেয়। পরে তাদের সদস্য সংগ্রহ করতে বলা হয়। তাদের অধীনস্থ ডান এবং বামের সদস্য বানিয়ে তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। এভাবে টপ ডাউন চেইন আকারে ডিজিটাল এমএলএম সিস্টেম পক্ষান্তরে ক্রিপ্টোকারেঞ্চির (বিটকয়েন) মাধ্যমে এটা ছড়িয়ে পরে।
মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে কিছু সদস্য লাভবান হলেও নিচের দিকের বিপুল পরিমাণ সদস্য আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন নামি-দামি হোটেলে অনুষ্ঠান করে তাদের ব্যবসা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে মিথ্যা তথ্য দেয়।
ক্রিপ্টোকারেঞ্চি (বিটকয়েন) নিয়ে কাজ করে এমন তিনটি ইন্টারনেট সাইট হচ্ছে, http://impaxgold.com, https://www.onecoin.com, http://ilgamos.com। এই সাইটগুলো বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এ ব্যাপারে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন: জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলবে, বাড়ছে না বিশেষ অভিযানের মেয়াদ


/জেইউ/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ