একান্ত সাক্ষাৎকারে ঢাকা মহানগর আ. লীগের (দক্ষিণ) সভাপতি কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার কৌশল জানা আছে

Send
পাভেল হায়দার চৌধুরী
প্রকাশিত : ১৬:৫৭, জুন ১৭, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৯, জুন ১৭, ২০১৬

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবূল হাসনাতকিভাবে রাজনৈতিক কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে হয়, সে কৌশল জানা আছে বলে মন্তব্য করলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের (দক্ষিণ) সদ্য দায়িত্ব পাওয়া সভাপতি আবুল হাসনাত। তিনি বলেন, ক্ষোভ, বিক্ষোভ ও দ্বন্দ্ব মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। প্রায় ৩০ বছর সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে আছি। কখন কী করতে হয়, কাকে কিভাবে সামাল দিতে হয়, সে অভিজ্ঞতা না থাকলে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে এ অবস্থানে আসতে পারতাম না। সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।   

বাংলা ট্রিবিউন: থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি থেকে এখন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেন, কেমন লাগছে? 

আবুল হাসনাত: থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি প্রায় ২৫ বছর। এ সময় বিএনপি-জামায়াত জোটের সরকার ও তাদের দমন-পীড়নের রাজনীতি দেখেছি। তারপর সেনা-সমর্থিত সরকার দেখেছি। থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। রাজনীতির বেশিরভাগ সময়েই রাজপথে পার করেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে সেই পুরস্কার দিয়েছেন। আমি শেখ হাসিনার আস্থা-বিশ্বাস অর্জনে কাজ করে যাব।

বাংলা ট্রিবিউন: অবিভক্ত মহানগর আওয়ামী লীগ শক্তিশালী ছিল, না বিভক্ত মহানগর আওয়ামী লীগ দুর্বল হলো?

আবুল হাসনাত: এ ধরনের তুলনা ঠিক নয়। যা ছিল এবং যা করা হয়েছে, সবই সময়ের প্রয়োজনে হয়েছে। আগে ঢাকা মহানগরের আয়তন কম ছিল, জনগণ কম ছিল। এখন সবই বেড়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: মহানগরের নতুন কমিটি নিয়ে বাণিজ্যের কথা শোনা যায়। আপনি কতটুকু জানেন?

আবুল হাসনাত: এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই।

বাংলা ট্রিবিউন:  আপনি সভাপতি হওয়ার পর অনেকে বিরূপ মন্তব্য করেছেন, এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাই।

আবুল হাসনাত: কে কী মনে করলো, কে  যোগ্য মনে করল, না করল, তা নিয়ে আসলে আমি ভাবি না। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যোগ্য ভাবলেই হলো। তিনি নিশ্চয়ই যোগ্য ভেবেছেন, তাই দায়িত্ব দিয়েছেন।

বাংলা ট্রিবিউন: দলে বিভেদের কথা শোনা যায়, তা কি ঠিক?

আবুল হাসনাত: যাদের নতুন পদে রাখা হয়েছে, তারা মাঠের ত্যাগী নেতা। আগের কমিটির অনেকেই নতুন কমিটিতেও স্থান পেয়েছেন। তাই বিভেদের তথ্য কতটা সত্য, আপনারাই বিবেচনা করুন।

বাংলা ট্রিবিউন: কাদের কমিটিতে দেখতে চান?

আবুল হাসনাত: ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা সব সময় পদপদবি পাওয়ার অধিকার রাখেন। নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তারাই ভালো জায়গায় থাকবেন।

বাংলা ট্রিবিউন: দলীয় কোন্দল সামাল দেবেন কিভাবে?

আবুল হাসনাত: আওয়ামী লীগে কোন্দল করে কোনও লাভ হবে না। শেখ হাসিনার নিজের পছন্দের কমিটি আমরা। পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ কমিটিও তার অনুমতি নিয়েই হবে। তাই দলের ভেতর কোন্দল করার মানসিকতা কারও থাকলেও কাজ হবে না।  আমাদের মধ্যে নেতৃত্বে প্রতিযোগিতা আছে, থাকবে। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত লাভ বা রেষারেষি  কাম্য নয়।

বাংলা ট্রিবিউন: নতুন কমিটিতে কার আধিক্য থাকবে, প্রবীণ না নবীন?

আবুল হাসনাত: ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগে প্রবীণ থাকবেন, নবীনও থাকবে। এসব পদে তরুণরাও স্থান পাবে। যারা ত্যাগী, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করছে, তাদের আমরা অবশ্যই মূল্যায়ন করব।

বাংলা টিবিউন: রাজনীতির জন্যে ব্যবসার ক্ষতি হবে, না ব্যবসার জন্যে রাজনীতির ক্ষতি হবে—কোনটা মনে করেন?

আবুল হাসনাত: আমি ২৫ বছর লালবাগ থানার দায়িত্বে আছি। ব্যবসা তো আমার পেশা। রাজনীতি আমার নেশা। সভাপতি হওয়ার আগে তো আমি অন্যান্য পদে ছিলাম। কাজেই হঠাৎ করে তো আমি রাজনীতিতে এসে কোনও পদ পেয়ে যাইনি। দুটোই একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার মতো অভিজ্ঞতা আমার আছে। 

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ