পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে: রুস্তম আলী খান

Send
ওমর ফারুক
প্রকাশিত : ২০:২১, জুলাই ১৬, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১২, জুলাই ১৬, ২০১৬

রুস্তম আলী খানপণ্যবাহী কাভার্ডভ্যানের দৈর্ঘ্য নিয়ে প্রভাবশালী মহল ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী খান। তিনি বলেন, গার্মেন্টস কারখানার পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থেই কাভার্ডভ্যানের দৈর্ঘ্য সামান্য বাড়ানো হয়েছে। বিআরটিএ-এর অনুমোদন নিয়ে ত্রিশ বছর ধরে চলছে এই কার্যক্রম। কিন্তু হঠাৎ করে প্রভাবশালীরা বলছেন দৈর্ঘ্য কমিয়ে দিতে। পেছন থেকে কলকাঠি নেড়ে একটি মহল অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, মালিকরা এটা মেনে নেবে না। প্রয়োজনে আন্দোলনেও যেতে পারেন তারা। বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুস্তম আলী খান একথা বলেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির অফিসে এ সাক্ষাতকারটি নেওয়া হয়। 

বাংলা ট্রিবিউন: কাভার্ডভ্যানের অতিরিক্ত দৈর্ঘ্যহলো কিভাবে? 

রুস্তম আলী খান: আশির দশকে গার্মেন্টস কারখানার পণ্য পরিবহন করা হতো খোলা ট্রাকে। এই খোলা ট্রাকের দৈর্ঘ্য ১৬-২০ ফুট। বৃষ্টি হলে গার্মেন্টস পণ্য যেন না ভেজে সে জন্য ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হতো। কিন্তু প্রায়ই ত্রিপল কেটে পণ্য চুরির ঘটনা ঘটত। কখনও দুর্ঘটনা ঘটলে এই পণ্য লুট করে নিতো স্থানীয় দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া যে কন্টেইনারে করে গার্মেন্টসপণ্য আনা-নেওয়া হয়, সেই কন্টেইনারের দৈর্ঘ্যের আন্তর্জাতিক মাপ ২০ ফুট ও ৪০ ফুট। এ কারণে এক কন্টেইনারের মাল দুই কন্টেইনারে পরিবহন করা হতো। এতে গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয় হতো বেশি। মূলত এসব কারণেই খোলা ট্রাকের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে ২২ ফুট করে কাভার্ডভ্যান তৈরি করা হয়। গার্মেন্টস সেক্টর প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাভার্ডভ্যানের কদরও বেড়ে যায়। কারণ কাভার্ডভ্যানে পণ্য পরিবহনে একদিকে যেমন পণ্যের নিরাপত্তা রক্ষা হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবহন ব্যয়ও কম হচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউন : খোলা ট্রাকের দৈর্ঘ্য বাড়াতে আপনারা কি বিআরটিএ-এর অনুমতি নিয়েছিলেন?

রুস্তম আলী খান : আমাদের প্রতিটি কাভার্ডভ্যানের বিআরটিএ অনুমোদন দিয়েছে। ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশন সবই দিয়েছে তারা। দেশে বর্তমানে কাভার্ডভ্যান রয়েছে ১৭ হাজার ৩৪৩টি এবং খোলা ট্রাক ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৬টি।

বাংলা ট্রিবিউন: বিআরটিএ-এর অনুমতি থাকার পরও এ নিয়ে কথা উঠল কিভাবে?
রুস্তম আলী খান: ২০১৪ সালের আগে পর্যন্ত এ নিয়ে কেউ আপত্তি তোলেননি। তখন পর্যন্ত বিআরটিএতে যতটি কাভার্ডভ্যান গিয়েছে, প্রতিটিরই ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে যখন হাইওয়ে পুলিশ এ বিষয়ে কথা বলা শুরু করল, ১৫১ ও ১৫৬ ধরায় মামলা শুরু করল, তখন বিষয়টি আলোচনায় চলে আসে।

বাংলা ট্রিবিউন: এরপর আপনারা কী করলেন?

রুস্তম আলী খান: হাইওয়ে পুলিশের মামলায় অতিষ্ঠ হয়ে আমরা বিআরটিএ-এর শরাণাপন্ন হই। একটার পর একটা আলোচনা চলতে থাকে। পুরো বিষয় বুঝিয়ে বলার পর বিআরটিএ আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করে।

বাংলা ট্রিবিউন: তাহলে কেন আবারও একই কথা উঠল?

রুস্তম আলী খান: প্রভাবশালী একাধিক গ্রুপ সম্প্রতি ২৪ ফুট লম্বা চেসিস আমদানি করছে। এগুলো বিক্রি করার জন্যই মনে হয়, পুরনো কাভার্ডভ্যানের দৈর্ঘ্য নিয়ে বিতর্ক তোলা হয়েছে। প্রভাবশালীরা হয়তো মনে করছেন, দৈর্ঘ্য বেশি দেখিয়ে পুরনো কাভার্ডভ্যান বাতিল করাতে পারলে তাদের চেসিসগুলো দ্রুত বিক্রি করতে পারবেন।

বাংলা ট্রিবিউন: নতুন চেসিসে যথাযথ দৈর্ঘ্যের কাভার্ডভ্যান বানালে অসুবিধা কোথায়?

রুস্তম আলী খান: আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, নতুন চেসিসগুলোর যন্ত্রপাতি ও চাকার সাইজ সবই পুরনো কাভার্ডভ্যানগুলোর মতো। সবই যদি এক হয়ে থাকে, তাহলে পুরনোগুলোর দোষ কী? তবে আমরা কখনোই নতুন চেসিসের বিরোধী নই। কোনও মালিক ইচ্ছে করলেই নতুন চেসিস কিনে কাভার্ডভ্যান বানাতে পারেন। কিন্তু নতুন চেসিসের দোহাই দিয়ে পুরনো গাড়ি বাতিল করে হাজার হাজার মালিকের ক্ষতি করার কী দরকার?

বাংলা ট্রিবিউন: কয়েক মাস আগে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং আপনাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সভায় কাভার্ডভ্যানের দৈর্ঘ্য সমস্যা সমাধানে একটা কমিটি গঠন হয়েছিল। ওই কমিটির খবর কী?

রুস্তম আলী খান : এ কমিটির আহ্বায়ক হলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা। তার নেতৃত্বে এ পর্যন্ত দু’টি সভা হয়েছে বিআরটিএ সদর দফতরে। সর্বশেষ মিটিং হয় ১০ মে।

বাংলা ট্রিবিউন : কমিটির অগ্রগতি কেমন?

রুস্তম আলী খান : আমাদের মতামত ছাড়াই কমিটি সুপারিশ তৈরি করেছে। যদিও হাজিরা খাতায় আমাদের সই নেওয়া হয়েছে। এসব সুপারিশের একটি হলো ‘কাভার্ডভ্যান, ট্রাক ও বাসের চেসিস সংশ্লিষ্ট কোম্পানি যেভাবে তৈরি করে দিয়েছে, সেভাবেই এগুলোর বডি বানাতে হবে।’

বাংলা ট্রিবিউন:  এই সুপারিশ আপনারা মানেন?

রুস্তম আলী খান: অবশ্যই না। কারণ কমিটির প্রতিটি সভায় আমরা আমাদের মতামত ও যুক্তি তুলে ধরেছি। এই সুপারিশে তার প্রতিফলন ঘটেনি। আমরা এই সুপারিশ মানি না। কারণ কাভার্ডভ্যানগুলো ত্রিশ  বছর ধরে চলাচল করছে। এগুলো কাটব কিভাবে? একটা কাভার্ডভ্যান বানাতে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়। এখন যদি এগুলো কেটে ছোট করা হয় তাহলে পুরো গাড়ি নষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের প্রশ্ন কাভার্ডভ্যানে দৈর্ঘ্য বাড়ানো যদি অবৈধ হয়, তাহলে বিআরটিএ এসব গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ফিটেনেস দিল কিভাবে?

বাংলা ট্রিবিউন: তাহলে আপনারা কী করতে চান?

রুস্তম আলী খান : সরকার যদি পুরনো কাভার্ডভ্যানের ওজন নির্ধারণ করে দেয় আমরা তা মানতে রাজি আছি। এটা না করে প্রভাবশালীদের স্বার্থ রক্ষা করতে চাইলে আমরা তা মানব না। শিগগিরই আমরা সংশ্লিষ্ট মালিকদের নিয়ে বসব। তখন পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। দেশে আন্দোলনের ইস্যু সংকট চলছে। একটি মহল হয়তো পণ্যপরিবহন খাতকে বেছে নিয়েছে। দেশের পরিস্থিতি অস্থিশীল করতে এ খাতকে উস্কে দেওয়া হচ্ছে বলে আমরা মনে করি।

 /এমএনএইচ/

লাইভ

টপ