ভাড়া দেওয়ার আগে মেস মেম্বারদের সঠিক পরিচয় জেনে নিতে হবে: মেস সংঘের মহাসচিব

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:২০, আগস্ট ০১, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২৩, আগস্ট ০১, ২০১৬

বাংলাদেশ মেস সংঘের মহাসচিব আয়াতুল্লাহ আকতার বলেছেন, এ দেশের শহরকেন্দ্রীক অনেক মানুষই কর্মজীবন শুরুর প্রথম দিকটায় মেসের বাসিন্দা হিসেবে জীবন কাটান। বলা যায়, দেশের শিক্ষিত ৯৫ শতাংশ মানুষ কোনও না কোনও সময় মেসে বা হলের বাসিন্দা।আয়াতুল্লাহ-আকতার

আমি মনে করি, গুটিকয়েক অপরাধীর কারণে মেসে বসবাসকারী বৃহৎ জনগোষ্ঠী দুর্ভোগ পোহাতে পারেন না। তাই বাড়িওয়ালাদেরও উচিত ভাড়া দেওয়ার আগে মেসে বসবাসকারীদের (মেস মেম্বার) সঠিক পরিচয় জেনে নেওয়া। এতে মেসবাসীর বদনাম গুচবে।

বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আয়াতুল্লাহ আকতার। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল বর্তমানে মেসবাসীর দিনকাল কিভাবে চলছে?

উত্তর : আমার দৃষ্টিতে বর্তমানে বাংলাদেশের মেসগুলোতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে। আগের মতো এখন আর কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে চাইছে না। নতুন কোনও মেস মেম্বার দেখলেই সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছে। সবার ভেতর অজানা আতঙ্ক।

প্রশ্ন : এর কারণ কি?

উত্তর : কারণটা হল সাম্প্রতিক অপরাধমূলক ঘটনা। সম্প্রতি গুলশান ও কল্যাণপুরের দু’টি ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা মেসকে ব্যবহার করেছে। বাসা থেকে পালিয়ে তারা বিভিন্ন মেসে থেকেছে। মেস মালিকরাও তাদের সঠিক পরিচয় না জেনে ভাড়া দিয়েছে।বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর এর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে ঢাকাসহ সারাদেশের মেসগুলোতে।

প্রশ্ন : এই প্রভাবটা কেমন?

উত্তর : বাড়ির মালিকরা এখন আর মেস ভাড়া দিতে চাইছে না। এতে বিপাকে পড়েছেন মেসবাসী। ইতিমধ্যে অনেক বাড়ির মালিক ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াদের বাসা ছাড়ার নোটিস দিয়েছেন। অনেক বাসার সামনে নোটিসও টানানো হয়েছে- ‘এখানে মেস ভাড়া দেওয়া হয় না’। এই অবস্থা যদি চলতেই থাকে আমরা যাব কোথায়?

প্রশ্ন : বর্তমানে মেসের বাসিন্দা কতজন হতে পারে?

উত্তর : শুধু ঢাকা শহরের মেসগুলোতেই প্রায় পনের লাখ মেস মেম্বার রয়েছে। সবচেয়ে বেশি মেস রয়েছে ফকিরাপুল, কমলাপুর, যাত্রাবাড়ী, মিরহাজীর বাগ, কল্যাণপুর, নিউ মার্কেট সংলগ্ন নীলক্ষেত, আজিমপুর প্রভৃতি এলাকায়। এ ছাড়া গোটা ঢাকা শহরের অনেক বাড়িতেই ব্যাচেলরদের জন্য পৃথক ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।

প্রশ্ন : বাড়িওয়ালারা তাদের বাড়িকে মেস বানায় কেন?

উত্তর : মেস মেম্বাররা বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। সমাজের উচুস্থান থেকে নিম্নপদের অনেকেই এই মেসে বসবাস করেন। কেউ বিবাহিত, কেউ ব্যাচেলর। তারা ঠেকায় পড়েই মেসে থাকেন। এর সুযোগ নেন বাড়িওয়ালারা। কারণ, মেস ভাড়া দিলে তুলনামূলক আয় বেশি হয়। ব্যয়ও হয় কম। মেসের রুম দীর্ঘ সময় খালি থাকে না।

প্রশ্ন : বর্তমানে মেস মেম্বারদের অবস্থা কি?

উত্তর : কল্যাণপুরের ঘটনার পর মেসগুলোতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বাড়িওয়ালারাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় ঢাকা মহানগর পুলিশ ‘পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যাচেলর বা মেস মেম্বার ভাড়া দেওয়ার’ অনুরোধ জানিয়েছে। এতে মেস মেম্বাররা কিছুটা স্বস্তি বোধ করছে। কারণ, পুলিশের এই ঘোষণায় বাড়ি মালিক ও মেস মেম্বারদের মধ্যে আতঙ্ক দ্রুত কেটে যাবে বলে আমরা আশা করছি।

প্রশ্ন : মেসে পুলিশের অভিযান সম্পর্কে আপনার মতামত কি?

উত্তর : ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ মেস সংঘ মেস মেম্বারদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও বাড়ি মালিকদের সচেতন করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা তো অবশ্যই মেস মেম্বারদের নিরাপত্তা চাইব। পুলিশ এখন যে অভিযান চালাচ্ছে সেটাকে স্বাগত জানাই। তবে এই অভিযান আরও আগেই পরিচালনা করা প্রয়োজন ছিল। তাহলে কল্যাণপুরের ঘটনা হয়ত ঘটত না, সন্ত্রাসী ও অপরাধীরাও মেসে থাকারও সুযোগ পেত না।

বাংলাদেশ মেস সংঘের পক্ষ থেকে আমাদের অনুরোধ, মেসগুলোতে অভিযানের সময় কোনও নিরীহ মেস মেম্বারকে যেন হয়রানি করা না হয়। তাহলেই এই অভিযান সফল হবে বলে আমরা মনে করি।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে আয়াতুল্লাহ আকতার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার মেসে বসবাস করছেন। পেশায় লেখক। ইতিমধ্যে তার কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে।

আরও পড়ুন: জঙ্গিদের বাসা ভাড়া নেওয়ার মূল হোতা করিম কোথায়?

/ওএফ/এমএসএম/আপ-এআর/

লাইভ

টপ