Vision  ad on bangla Tribune

পাচক থেকে শীর্ষ জঙ্গি নেতা

নুরুজ্জামান লাবু১৪:৩৫, জানুয়ারি ১৪, ২০১৭

জঙ্গি নেতা জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী সিটিটিসির হাতে গ্রেফতার

জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-র শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমানের জামাতা আবদুল আওয়ালের পাচক ছিল জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী। সেখান থেকে ধীরে ধীরে শীর্ষ জঙ্গি নেতায় পরিণত হয় সে। তাকে গ্রেফতারের পরে এ তথ্য জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

শনিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি জানান, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে চালানো জেএমবির বোমা হামলার অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল আওয়ালের বগুড়ার আস্তানায় রান্না-বান্নার কাজ করতো রাজীব। সেখান থেকেই বড় নেতাদের ইশারায় সেও ধীরে ধীরে জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে। ধারাবাহিক ভাবে বিভিন্ন তৎপরতা চালিয়ে ও অভিযানে অংশ নিয়ে এই রাজীবও এক সময়ে শীর্ষ জঙ্গি নেতাতে পরিণত হয়। গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পরিকল্পনাতেও সরাসরি অংশ নিয়েছিল জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী।

জঙ্গি জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী

মনিরুল জানান, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে রাজীব গান্ধীকে গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে আসে সিটিটিসি টিম। সে বিভিন্ন সময়ে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধীর পাশাপাশি সুভাষ, শান্ত, টাইগার, আদিল, জাহিদ নামেও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সারাদেশে জেএমবির হামলা মামলাসহ নানা মামলায় ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ জেএমবির শীর্ষ ছয় জঙ্গি শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাই, আব্দুর রহমানের ভাই আতাউর রহমান সানি, জামাতা আবদুল আউয়াল, ইফতেখার হোসেন মামুন ও খালেদ সাইফুল্লাহ ওরফে ফারুকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, আবদুল আওয়ালের বার্তাবাহক হিসেবেও কাজ করতো রাজীব। সারাদেশে জেএমবির হামলা মামলায় আবদুল আওয়াল গ্রেফতারের পর পাচক হওয়ার কারণে তখন রাজীবের নাম আসেনি। ওই সময় সে গোপনে দলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিদের সঙ্গে কাজ করায় রাজীবের সাংগঠিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। জেএমবি নেতা আবদুর রহমান, মানিক (ভারতে অবস্থানরত), মামুনুর রশিদ রিপনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।

২০১১ সালে জেএমবি দুই ভাগে বিভক্ত হয়। ওই সময় রিপন-মানিকের সঙ্গে রাজীব কাজ করতো। ২০১৪ সালের পর নব্য জেএমবির গঠন হলে রাজীবের যোগাযোগ হয় তামিম চৌধুরীর সঙ্গে। নব্য জেএমবিতে তার অবস্থান ছিল তামিমের পরের সারিতে। এছাড়া সে ছিল উত্তরবঙ্গের নব্য জেএমবির সামরিক কমান্ডার এবং উত্তরবঙ্গে জেএমবি যেসব হামলা চালাতো তা তার পরিকল্পনাতেই হতো। হিন্দু পুরোহিত, খ্রিস্টান যাজক, বিদেশি হত্যা ও শিয়া মসজিদে হামলাসহ ২২ মামলার আসামি এই রাজীব।

কর্মকর্তারা আরও জানান, গুলশানের হলি আর্টিজান হামলায় জড়িত শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ওরফে বিকাশ ও খায়রুল ইসলাম পায়েল ওরফে বাধনকে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে রাজীবই সম্পৃক্ত করে এবং তাদের প্রশিক্ষণ দেয়। এই দুজনই পুলিশি অভিযান নিহত হয়। এছাড়া শোলাকিয়ার হামলায় গ্রেফতার হওয়া শফিউলকেও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সে সম্পৃক্ত করে। পরে বন্দুকযুদ্ধে শফিউলও নিহত হয়।

তারা আরও জানান, গুলশান হামলার পুরো পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল জাহাঙ্গীর ওরফে রাজীব। গুলশানে হামলা চালানোর আগে জঙ্গিরা বসুন্ধরার একটি বাসায় বসে হামলার পরিকল্পনার সময় সেখানে স্ত্রী-সন্তানসহ উপস্থিত ছিল রাজীব। গত বছর আজিমপুর থেকে গ্রেফতারকৃত তানভীর কাদেরির ছেলে তাহরিম কাদেরি তার জবানবন্দিতে রাজীবের নাম উল্লেখ করেছিল।

এ প্রসঙ্গে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গুলশান হামলার ঘটনায় তারা এই প্রথম এমন একজনকে আটক করলো যার কাছে এ হামলা সম্পর্কে অনেক তথ্য রয়েছে। যে সরাসরি হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিল। তার গ্রেফতার হামলার ঘটনা তদন্তে এবং এ হামলার পরিপূর্ণ রহস্য উদঘাটনে তাদের সাহায্য করবে।’ এর আগে গুলশান হামলার ঘটনায় কল্যাণপুর থেকে রাকিবুল হাসান রিগ্যান ও হাসনাত করিমকে আটক করা হয়। রিগ্যান ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাজীবের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের পশ্চিমরাঘরপুর এলাকার ভূতমারী ঘাট এলাকায়। তার বাবার নাম মাওলানা ওসমান গণি মণ্ডল এবং মা রাহেলা বেগম। শুভ নামে তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ২০১৫ সালে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ‘হিজরত’ করে রাজীব। স্থানীয় একটি কলেজ থেকে সে এসএসসি পাস করেছে।

/এসটি/টিএন/

 আরও পড়ুন: গুলশান হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী রাজীব গ্রেফতার

 

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ