Vision  ad on bangla Tribune

আদনান হত্যা: এজাহারভুক্তদের বেশিরভাগই পলাতক, অজ্ঞাতনামাই ভরসা!

উদিসা ইসলাম১৬:৪৩, জানুয়ারি ১৪, ২০১৭




আদনান কবির

রাজধানীর উত্তরায় কিশোর আদনান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের বেশিরভাগই পলাতক। এই হত্যাকাণ্ডের পর  ৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও দশ অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও এজাহারনামীয়দের মধ্য থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে মাত্র দু’জনকে। তারা হলো—সাদাফ জাকির ও নাসির আলম ডন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা হিসেবে আটক করা হয়েছে মেহেরাব হোসেন নামের একজনকে। মেহেরাব আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দিয়েছে। এ সময় সে আদনান হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাতজনের নাম উল্লেখ করে আরও দশজন অজ্ঞাতনামার কথা জানিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উত্তরা (পশ্চিম) থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে  বলেন, ‘তারা পরস্পরকে চেনে কিন্তু মুখ না খোলার কারণে আমাদের বেগ পেতে হয়েছে খানিকটা। মোটামুটি এজাহার থেকেই অজ্ঞাতনামার গোলকধাঁধা তৈরি হয়েছে। সবাই সবাইকে চেনে কিন্তু নাম বলতে চায় না।’

উত্তরায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে স্কুলছাত্র আদনান কবিরকে (১৪) স্কুল হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার নাসির আলম ডনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর গ্রেফতার সাদাফ জাকিরকে পাঠানো হয়েছে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে। এছাড়া এজাহারের বাইরে আটক মেহেরাবকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে যে যে সাতজনের নাম উল্লেখ করেছে, তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডে ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আদনান কবিরকে খেলার মাঠে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে প্রতিপক্ষ। চিকিৎসার জন্য তাকে উত্তরার একটি হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর প্রকাশ পায় উত্তরায় ‘গ্যাং-কালচার’ ও আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে তাদের পরস্পরের মারামারি হানাহানি। উত্তরা নিবাসীরা বলছেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই দুই গ্রুপের মধ্যে বেশ অনেক দিনের দ্বন্দ্ব। তারা কেউ কাউকে চেনে না বললে হাস্যকর শোনাবে।

উত্তরা কালচারাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রবিউল মাহমুদ ইয়ং বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই গ্রুপের কিশোর ও তরুণরা লেখাপড়া ফাঁকি দিয়ে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। তারা এলাকায় আড্ডাবাজি করে, উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল চালায়। তাদের গুরুজন হিসেবে কিছু বলার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, উত্তরায় আমরা নানাধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালাই কিন্তু সুনির্দিষ্ট এসব পরিবারের অভিভাবকরা কোনও দিন কালচারাল কোনও পরিসরে জড়িত ছিলেন না। ফলে বিভিন্ন বিশেষ দিবসে অনুষ্ঠানের নামে তারা এলাকাবাসীর টাকায় ড্যান্স পার্টি করে।

পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের ব্যাপারে উত্তরা (পশ্চিম) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী হোসেন খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খুনের খবর পেয়ে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ সেই রাতেই উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরসহ আশপাশ এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই জনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।’

এলাকাবাসী বলছে, থানায় একাধিকবার তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে জানানোর পরও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এই ওসি বলেন, ‘আমাদের এখানে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। এর আগেও এ রকম কিশোরদের ঝুট ঝামেলা হয়েছে, কিন্তু সেসব থানা পর্যন্ত গড়ায়নি।’ 

 আরও পড়ুন: ‘ডিসকো বয়েজ’ ও ‘নাইন স্টার’ গ্রুপের দ্বন্দ্বেই মৃত্যু আদনানের!

/এমএনএইচ/

 

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ